×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ারবাজারের ১৭০০ কোটি টাকার দায়িত্ব নিলেন বিএসইসির চেয়ারম্যান

২০২৬ অক্টোবর ১৫ ০০:১৫:৫৮
শেয়ারবাজারের ১৭০০ কোটি টাকার দায়িত্ব নিলেন বিএসইসির চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ ২৬ মাসের নেতৃত্বশূন্যতার অবসান ঘটিয়ে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ)-এর কার্যক্রম পরিচালনায় ৭ সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন গভর্নেন্স বোর্ড গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), যার নেতৃত্বে থাকবেন স্বয়ং বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান। একই সঙ্গে ফান্ডটিকে বিধিমালার আওতা থেকে বের করে একটি সুনির্দিষ্ট ও নতুন আইনের অধীনে পরিচালনা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অবন্টিত ডিভিডেন্ড (ক্যাশ ও বোনাস শেয়ার) এবং অলিখিত অর্থ নিয়ে ২০২১ সালে এই ফান্ডটি গঠন করা হয়। বর্তমানে সিএমএসএফ-এর অধীনে আনুমানিক ১,৭০০ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ক্যাশ এবং ৮০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ শেয়ার বিদ্যমান। ২০২৪ সালে পূর্ববর্তী বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে ফান্ডটি অভিভাবকহীন অবস্থায় ছিল।

বিএসইসি নির্দেশনায় জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন, ২০২৬’ চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ড ফান্ডের সমস্ত পরিচালনা কাজ নিরবচ্ছিন্ন রাখবে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান মাসুদ খান এই অন্তর্বর্তী বোর্ডের নেতৃত্ব দেবেন। বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরা হলেন—বিএসইসির কমিশনার হোসেন সাদাত; আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব (মন্ত্রণালয় মনোনীত); ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ বাংলাদেশের (আইসিএবি) প্রেসিডেন্ট সাব্বির আহমেদ; বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদ; ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার এবং সিএমএসএফ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যিনি সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন)।

আইনি ভিত্তি শক্তিশালী করতে আসছে নতুন ‘সিএমএসএফ আইন’

ব্যাংকগুলো থেকে অলিখিত ও অবন্টিত ডিভিডেন্ড স্থানান্তরের আইনি ভিত্তি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্বেগের পর ফান্ডের আইনি ভিত্তি জোরালো করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিএসইসি যৌথভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর প্রাথমিক আলোচনায় ফান্ডটি বিলুপ্ত করে সরকারি কোষাগারে অর্থ স্থানান্তরের প্রস্তাব উঠলেও, বিএসইসি এই অর্থ কেবল বিনোয়োগকারীদের সুরক্ষায় ব্যবহারের ওপর জোর দেয়। এর ফলেই রুলস-ভিত্তিক ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ আইন পাসের উদ্যোগ গৃহীত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের (Stakeholders) মতামতের পর খসড়া আইনটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইনে ফান্ডের পরিধি সম্প্রসারণ

প্রস্তাবিত নতুন আইনের আওতায় অবন্টিত ক্যাশ ডিভিডেন্ড ও রাইট শেয়ার ছাড়াও আইপিও এবং কিউআইও (QIO)-এর ফেরত না হওয়া সাবস্ক্রিপশনের অর্থ, তালিকাচ্যুত (Delisted) কোম্পানিগুলোর অবন্টিত সম্পদ, বিনিয়োগের মুনাফা, সরকারি-প্রাতিষ্ঠানিক অনুদান ও অন্যান্য অনুমোদিত উৎস থেকে আসা তহবিল সিএমএসএফ-এর অধীনে আসবে।

এই ফান্ডের মূল লক্ষ্য হবে সম্পদের হেফাজতকারী হিসেবে কাজ করা এবং প্রকৃত দাবিদারদের ক্যাশ ডিভিডেন্ড, বোনাস শেয়ার, আইপিও বা রাইট শেয়ারের অর্থ ফেরত দেওয়া। যে কোনো বিনিয়োগকারী বা তাঁর আইনি উত্তরাধিকারী নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যে কোনো সময় এই অর্থ দাবি করতে পারবেন এবং এ দাবির কোনো মেয়াদ বা সীমা থাকবে না।

এছাড়া নতুন আইন অনুযায়ী, ডিভিডেন্ড বিতরণ ও উৎসে কর কর্তন (TDS) ব্যবস্থাপনাকে এক ছাতার নিচে আনা হবে। একই সঙ্গে ফান্ডের অর্থ দিয়ে বিনিয়োগকারী শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম, প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা এবং প্রশিক্ষণে অর্থায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বিনিয়োগের রূপরেখা

উল্লেখ্য, সিএমএসএফ রুলস ২০২১ অনুযায়ী, ফান্ডের ক্যাশ ব্যালেন্সের সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ তালিকাভুক্ত শেয়ার কেনাবেচায় ব্যবহার করা যায়। অন্তত ৫০ শতাংশ অর্থ মার্জিন ঋণের জন্য মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনঃঅর্থায়ন ঋণ হিসেবে দেওয়া হয় এবং ১০ শতাংশ অর্থ ফিক্সড ডিপোজিট (FDR), সরকারি সিকিউরিটিজ ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের বিধান রয়েছে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে