×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

তালিকাভুক্ত কোম্পানির তথ্য ফাঁসের দায়ে বিএসইসি কর্মকর্তার শাস্তি

২০২৬ অক্টোবর ১৫ ০০:০৬:২০
তালিকাভুক্ত কোম্পানির তথ্য ফাঁসের দায়ে বিএসইসি কর্মকর্তার শাস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পেশাগত অনাচার ও অফিশিয়াল গোপনীয়তা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সহকারী পরিচালক মো. ইব্রাহিম আলীর এক বছরের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) স্থগিত করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান স্বাক্ষরিত এক গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইব্রাহিম আলীর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে স্বপদে পুনর্বহাল করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে এই প্রশাসনিক শাস্তি আরোপ করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৬ সালের ৪ মার্চ। নভানা ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে একটি অভিযোগের তদন্ত চলা সত্ত্বেও, ইব্রাহিম আলী স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ সংক্রান্ত একটি অনুমোদনহীন চিঠি জারি করেন।

বিএসইসির তদন্তে দেখা যায়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই তিনি চিঠিটি ইস্যু করেছিলেন। কেবল তা-ই নয়, ওই দিন বিকেলেই তিনি ঢাকার আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের কাছে অফিস প্রাঙ্গণের বাইরে নভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি সচিব মো. আমিনুল হক ভূঁইয়ার সাথে গোপনে দেখা করেন। সেখানে তিনি অফিশিয়াল প্রোটোকল ও গোপনীয়তার নিয়ম লঙ্ঘন করে অননুমোদিত চিঠিটি হস্তান্তর করেন এবং ওই কর্মকর্তাকে সেটির ছবি তোলার সুযোগ দেন।

ঘটনার পরদিন বিএসইসি কর্তৃপক্ষ তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি শুরুতে বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং মিথ্যা তথ্য দেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব গুরুতর নিয়মভঙ্গের কারণে ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল ইব্রাহিম আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও তদন্ত শুরু করে বিএসইসি। বিএসইসির চিফ অ্যাকাউন্ট্যান্ট কামরুল আনাম খানের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্ত শেষে জানায়, ইব্রাহিম আলীর এই আচরণ 'বিএসইসি কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০২১' এবং 'সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮'-এর অধীনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য।

তাঁর এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে চাকরিচ্যুত করাসহ বড় ধরনের দণ্ড দেওয়ার সুযোগ থাকলেও, গত ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কমিশনের সভায় তাঁর প্রতি কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বিএসইসি জানায়, অভিযুক্ত কর্মকর্তার লিখিত অপরাধ স্বীকার, নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল না করার প্রতিশ্রুতি বিবেচনায় নিয়ে তাঁর বড় ধরনের শাস্তি মওকুফ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাঁর এক বছরের জন্য বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত থাকবে এবং তাঁর সাময়িক বরখাস্তের সময়কালকে পূর্ণ বেতন ও ভাতাসহ সক্রিয় কর্মকাল হিসেবে গণ্য করা হবে।

তবে নতুন ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির দায়িত্বও বাড়বে। পরিচালকদের নিজেদের দেওয়া তথ্যের যথার্থতা যাচাই এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত লেনদেন নিরীক্ষা করে নিয়মের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে কমিশনকে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এ বিষয়ে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের এক নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, পরিচালকেরা প্রকাশের আগে মূল্যসংবেদনশীল তথ্যের ভিত্তিতে লেনদেন করলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। এতে ত্রৈমাসিক তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও বাজারে ন্যায্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে