×
ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

অতিরিক্ত ব্যয়ের দায় স্বীকার, তবে আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার

২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৬:২০:২২
অতিরিক্ত ব্যয়ের দায় স্বীকার, তবে আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের কোম্পানি গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি ১০৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কোম্পানিটির দাবি, কয়েক বছর পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত সীমার বেশি হলেও ওই অর্থ আত্মসাতের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। এমনকি সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার নথিতেও এ ধরনের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ওয়েবসাইটে কোম্পানিটির ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়।

সিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ আগস্ট একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ‘গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সে ১০৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে ৩১ আগস্ট গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সকে চিঠি দেয় ডিএসই। এর জবাবে গত ৮ অক্টোবর নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে স্টক এক্সচেঞ্জটিকে চিঠি পাঠায় কোম্পানিটি।

গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. জামিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, সংবাদে কোম্পানিটির অতীতের মোট প্রিমিয়াম আয় ও পরিচালন ব্যয়ের যে পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে, তার কিছু অংশ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয়ের পরিমাণকে প্রায় ১০৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ হিসেবে উল্লেখ করাকে ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কয়েকটি বছরে তাদের পরিচালন ব্যয় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছিল। এ কারণে সংশ্লিষ্ট বছরগুলোর জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি কোম্পানির ওপর জরিমানা আরোপ করে।

কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আর ২০২১, ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের প্রতিটির জন্য জরিমানার পরিমাণ ছিল ৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে পাঁচ বছরে জরিমানার অঙ্ক দাঁড়ায় ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের দাবি, এসব জরিমানার সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট আদেশগুলোর বিপরীতে বর্তমানে কোনো টাকা বকেয়া নেই।

কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, তাদের পরিচালন ব্যয়ের অর্থ স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে হিসাবের খাতায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এসব লেনদেনের সমর্থনে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ভাউচারসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্রও সংরক্ষণ করা রয়েছে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ চাইলে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এসব নথি সরবরাহ করতে প্রস্তুত বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের বক্তব্য, আলোচনায় আসা প্রায় ১০৪ কোটি টাকা কোম্পানিটির বর্তমান কোনো প্রদেয় দায় নয়। একই সঙ্গে আইডিআরএও এ পরিমাণ অর্থের দায় কোম্পানির ওপর আরোপ করেনি। তাই নির্ধারিত সীমার বেশি পরিচালন ব্যয়ের কারণে আরোপিত জরিমানাকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি।

চিঠিতে কোম্পানিটি আরও বলেছে, প্রযোজ্য আইন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করার বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি স্টক এক্সচেঞ্জ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং শেয়ারহোল্ডারদের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে