×
ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বাজার স্থিতিশীল করতে ব্যর্থতার অভিযোগ, নতুন কমিশন গঠনের দাবি

২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৫:১৫:২৫
বাজার স্থিতিশীল করতে ব্যর্থতার অভিযোগ, নতুন কমিশন গঠনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে সূচক ও লেনদেনের বড় পতনে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিনিয়োগকারীরা। তাদের অভিযোগ, বাজারের ধারাবাহিক দরপতন ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বর্তমান কমিশন। আগের কমিশনের সময়ে বাজারে দরপতন হলেও তা একটি সীমার মধ্যে ছিল বলে মনে করেন তারা। কিন্তু বর্তমান কমিশনের সময়ে বাজারে লাগাতার পতন ঘটলেও পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। একদিন সূচক বাড়লেও পরবর্তী কয়েক দিন দরপতনের কারণে বাজারের সামগ্রিক চিত্র ক্রমেই নেতিবাচক হয়ে উঠছে।

বিনিয়োগকারীদের ভাষ্য, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। ওই সময়ে অনেক বিনিয়োগকারী তাদের হারানো পুঁজি ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি কিছুটা মুনাফাও অর্জন করেন। বাজারকে আরও স্থিতিশীল করার প্রত্যাশায় সরকার আগের কমিশনের পরিবর্তে বর্তমান কমিশনকে দায়িত্ব দেয়। তবে নতুন কমিশনের কার্যক্রমে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি বলে অভিযোগ তাদের। বরং কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজার স্থিতিশীল হওয়ার পরিবর্তে ধারাবাহিক দরপতন হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি কমেছে এবং লোকসানের পরিমাণ বেড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বর্তমান কমিশনের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। একই সঙ্গে বাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বর্তমান কমিশনের পরিবর্তে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী দরপতন মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ না থাকলে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট আরও গভীর হবে। তাদের দাবি, বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে কমিশনের উচিত দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করা। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং বাজারের উন্নয়নে অভিজ্ঞ ও সৎ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। তাদের প্রত্যাশা, এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে বাজারে আবারও স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।

ডিএসইর প্রধান সূচক সাড়ে চার মাসের সর্বনিম্নে

এদিকে, আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক ও টাকার অঙ্কে লেনদেন—উভয় ক্ষেত্রেই পতন হয়েছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৬ দশমিক ১৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪০৪ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সূচকটি গত সাড়ে চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। এর আগে গত ১ জুন ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৫ হাজার ৩৭২ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে।

দিনটিতে ডিএসইর অন্য দুই সূচকেরও পতন হয়েছে। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএস ৯ দশমিক ৬২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭০ দশমিক ৬৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, বাছাই করা ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৮ দশমিক ৯০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯৪ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

৩০৩ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে

সোমবার ডিএসইতে মোট ৩৮৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৪৭টি প্রতিষ্ঠানের, কমেছে ৩০৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৫টির দর। অর্থাৎ, লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দরপতনের শিকার হয়েছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান।

প্রায় সাত মাসের সর্বনিম্ন লেনদেন

দিনটিতে ডিএসইতে প্রায় ৪৫২ কোটি ৮১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এই লেনদেন গত প্রায় সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে গত ৯ মার্চ ডিএসইতে ৪১৬ কোটি ৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল।

এর আগের কর্মদিবস রোববার ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৬৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। সেই হিসাবে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ১১৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও সক্রিয়তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ধারাবাহিক দরপতনের মধ্যে লেনদেনের এমন সংকোচন বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও চাপের মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে, তবু অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতন

অন্যদিকে, দেশের দ্বিতীয় শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সোমবার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। দিনটিতে সেখানে মোট ২৯ কোটি ৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কর্মদিবসে সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৯ কোটি টাকা।

তবে লেনদেন বাড়লেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতন হয়েছে। সিএসইতে ওই দিন মোট ১৭৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনের আওতায় আসে। এর মধ্যে ৩৭টির দর বেড়েছে, ১২০টির দর কমেছে এবং ২২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮৪ দশমিক ০২ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৫৫১ দশমিক ২২ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এর আগের কর্মদিবসেও সূচকটি ২৫ দশমিক ৭১ পয়েন্ট কমেছিল।

বাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে কার্যকর উদ্যোগের দাবি

বাজারসংশ্লিষ্ট ও বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, একের পর এক দরপতনের মধ্যেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না আসায় তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তাদের মতে, শুধু বাজার উন্নয়নের আশ্বাস নয়, বরং দরপতনের কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

তারা মনে করেন, বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা, অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর নজরদারি এবং বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে বর্তমান কমিশনের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিত।

বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা, সরকারের পক্ষ থেকে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রম পর্যালোচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যথায় ধারাবাহিক দরপতনে বিনিয়োগকারীদের লোকসান ও আস্থার সংকট আরও বাড়তে পারে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে