×
ঢাকা, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

বিক্রয় বৃদ্ধি ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় উন্নতি, ডিভিডেন্ড বৃদ্ধির প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের

২০২৬ অক্টোবর ১১ ১৬:১৭:১৪
বিক্রয় বৃদ্ধি ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় উন্নতি, ডিভিডেন্ড বৃদ্ধির প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি নাভানা ফার্মা লিমিটেডের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে আয়, পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহ এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস আগের বছরের একই সময়ের ৩ টাকা ৪৯ পয়সা থেকে বেড়ে ৪ টাকা ৫৯ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এ হিসাবে আয় বেড়েছে ৩১.৫২ শতাংশ।

একই সময়ে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ১০ টাকা ২২ পয়সা থেকে বেড়ে ১৫ টাকা ৪৪ পয়সা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৯ টাকা ৫৩ পয়সা।

কোম্পানির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিক্রয় আয় ও মোট মুনাফা বৃদ্ধি, অর্থায়ন ব্যয় হ্রাস এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে আর্থিক সূচকগুলোতে এই অগ্রগতি হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের জন্য জার্মানির একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১২ বছর মেয়াদি ২ কোটি ৬৬ লাখ ১০ হাজার ইউরো ঋণসুবিধা নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কোম্পানিটি।

অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য আগামী ১৫ অক্টোবর পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কোম্পানিটির বার্ষিক আর্থিক ফলাফল ও সম্ভাব্য লভ্যাংশ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

প্রথম প্রান্তিকে আয় ও নগদ প্রবাহে উন্নতি

২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে নাভানা ফার্মার অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে সাধারণ শেয়ারপ্রতি আয় দেখানো হয়েছে ১ টাকা ৭১ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ১ টাকা ২৫ পয়সা। অর্থাৎ, সাধারণ ইপিএস বেড়েছে ৪৬ পয়সা বা ৩৬.৮০ শতাংশ।

এদিকে, প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির পাতলীকৃত শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৬৯ পয়সা। সাধারণ ইপিএস ও পাতলীকৃত ইপিএসের হিসাব আলাদা হওয়ায় দুটি পরিসংখ্যান পৃথকভাবে বিবেচনা করতে হবে।

প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ বা এনওসিএফপিএস দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৮ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ২ টাকা। অর্থাৎ, শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়েছে ৩ টাকা ৮ পয়সা বা ১৫৪ শতাংশ।

২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভি ছিল ৪৭ টাকা ৩ পয়সা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষে এই মূল্য ছিল ৪৫ টাকা ২৯ পয়সা। ফলে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ১ টাকা ৭৪ পয়সা।

কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিক্রয় আয় ও মোট মুনাফা বৃদ্ধি এবং অর্থায়ন ব্যয় কমে যাওয়ায় কর-পরবর্তী নিট মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ কারণে আগের বছরের তুলনায় ইপিএস ৬২.৪০ শতাংশ বৃদ্ধির কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রকাশিত সাধারণ ইপিএসের ১ টাকা ২৫ পয়সা থেকে ১ টাকা ৭১ পয়সায় বৃদ্ধির হিসাবের সঙ্গে ৬২.৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির অমিল রয়েছে। তাই এ তথ্য মূল প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।

পরিচালন নগদ প্রবাহ বৃদ্ধির বিষয়ে কোম্পানি জানিয়েছে, প্রতিবেদিত সময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ আদায়ের পরিমাণ সরবরাহকারী ও অন্যান্য খাতে নগদ অর্থ পরিশোধের তুলনায় বেশি ছিল। এর ফলে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ২ টাকা থেকে বেড়ে ৫ টাকা ৮ পয়সা হয়েছে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকেও আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত

২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে নাভানা ফার্মার পাতলীকৃত শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৬৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ১ টাকা। ফলে প্রান্তিকভিত্তিক পাতলীকৃত ইপিএস বেড়েছে ৬৫ পয়সা বা ৬৫ শতাংশ।

প্রথম দুই প্রান্তিক মিলিয়ে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে কোম্পানিটির পাতলীকৃত শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৩৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ২ টাকা ২৫ পয়সা। অর্থাৎ, অর্ধবার্ষিক পাতলীকৃত ইপিএস বেড়েছে ১ টাকা ১০ পয়সা বা প্রায় ৪৮.৮৯ শতাংশ।

তবে কোম্পানির প্রতিবেদনে অর্ধবার্ষিক ইপিএস বৃদ্ধির হার ৫০.২২ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকাশিত ২ টাকা ২৫ পয়সা থেকে ৩ টাকা ৩৫ পয়সায় বৃদ্ধির হিসাব অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪৮.৮৯ শতাংশ। ফলে এ ক্ষেত্রেও মূল প্রতিবেদনের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

অর্ধবার্ষিক সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়ে ৮ টাকা ১১ পয়সা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৩ টাকা ১৬ পয়সা। অর্থাৎ, শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়েছে ৪ টাকা ৯৫ পয়সা বা প্রায় ১৫৬.৬৫ শতাংশ।

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৮ টাকা ৩২ পয়সা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষে এই মূল্য ছিল ৪৫ টাকা ২৯ পয়সা। ফলে প্রথম ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ৩ টাকা ৩ পয়সা।

কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিক্রয় আয় ও মোট মুনাফা বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থায়ন ব্যয় কমে যাওয়ায় কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বেড়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ আদায় সরবরাহকারী ও অন্যান্য খাতে নগদ পরিশোধের তুলনায় বেশি থাকায় পরিচালন নগদ প্রবাহেও উন্নতি হয়েছে।

তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় ১ টাকা ২২ পয়সা

২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে নাভানা ফার্মার সাধারণ শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ২২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ১ টাকা ১ পয়সা। ফলে প্রান্তিকভিত্তিক ইপিএস বেড়েছে ২১ পয়সা বা প্রায় ২০.৭৯ শতাংশ।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৫৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৩ টাকা ৪৯ পয়সা। অর্থাৎ, নয় মাসে ইপিএস বেড়েছে ১ টাকা ১০ পয়সা বা প্রায় ৩১.৫২ শতাংশ।

নয় মাসে কোম্পানিটির পাতলীকৃত শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪ টাকা ৫৫ পয়সা। আর ২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে পাতলীকৃত ইপিএস ছিল ১ টাকা ২০ পয়সা।

এই ফলাফল থেকে দেখা যায়, আগের বছরের তুলনায় কোম্পানিটির আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। প্রথম দুই প্রান্তিকের পর তৃতীয় প্রান্তিকেও আয় ইতিবাচক থাকায় পুরো অর্থবছরের ফলাফল নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে। তবে চতুর্থ প্রান্তিকের আয়, পরিচালন ব্যয়, অর্থায়ন ব্যয় ও কর-পরবর্তী মুনাফার তথ্য ছাড়া পূর্ণ বছরের ফলাফল নিশ্চিতভাবে অনুমান করা সম্ভব নয়।

নয় মাসে পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়েছে ৫১.০৯ শতাংশ

২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নাভানা ফার্মার শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ৪৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১০ টাকা ২২ পয়সা। অর্থাৎ, নয় মাসে এনওসিএফপিএস বেড়েছে ৫ টাকা ২২ পয়সা বা প্রায় ৫১.০৯ শতাংশ।

ইপিএসের তুলনায় পরিচালন নগদ প্রবাহের এই বেশি প্রবৃদ্ধি কোম্পানিটির ব্যবসায় নগদ অর্থ আদায়ের উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। সাধারণভাবে, পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থের প্রবাহ শক্তিশালী হলে দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো, কার্যকরী মূলধনের চাহিদা পূরণ এবং ব্যবসা পরিচালনায় সুবিধা হতে পারে।

তবে পরিচালন নগদ প্রবাহের বৃদ্ধি একাই লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করে না। কোম্পানির ঋণের কিস্তি, সুদ পরিশোধ, মূলধনি ব্যয়, কর, অন্যান্য দায় এবং হাতে থাকা নগদ অর্থও বিবেচনা করতে হয়।

কোম্পানির দেওয়া ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ আদায়ের পরিমাণ পরিচালন কার্যক্রমে নগদ অর্থ পরিশোধের তুলনায় বেশি থাকায় শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ১০ টাকা ২২ পয়সা থেকে বেড়ে ১৫ টাকা ৪৪ পয়সা হয়েছে।

শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়ে ৪৯ টাকা ৫৩ পয়সা

২০২৬ সালের ৩১ মার্চ শেষে নাভানা ফার্মার শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৯ টাকা ৫৩ পয়সা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষে এই মূল্য ছিল ৪৫ টাকা ২৯ পয়সা। অর্থাৎ, প্রথম নয় মাসে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ৪ টাকা ২৪ পয়সা বা প্রায় ৯.৩৬ শতাংশ।

নিট সম্পদমূল্য বৃদ্ধি কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের হিসাবভিত্তিক সম্পদমূল্যে উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। তবে এনএভি ও বাজারে শেয়ারের লেনদেনমূল্য এক বিষয় নয়। শেয়ারটি ন্যায্য মূল্যে লেনদেন হচ্ছে কি না, তা মূল্যায়নে বর্তমান বাজারদর, ইপিএস, মূল্য-আয় অনুপাত, ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি এবং অন্যান্য আর্থিক ঝুঁকি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

উৎপাদন সম্প্রসারণে ২ কোটি ৬৬ লাখ ১০ হাজার ইউরোর ঋণ

আর্থিক অগ্রগতির পাশাপাশি নাভানা ফার্মা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এ লক্ষ্যে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টভিত্তিক একেএ আউসফুরক্রেডিট-গেজেলশাফট এমবিএইচের কাছ থেকে ১২ বছর মেয়াদি ২ কোটি ৬৬ লাখ ১০ হাজার ইউরো বিদেশি ঋণসুবিধা নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কোম্পানিটি।

ঋণটির একমাত্র ব্যবস্থাপক হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশের কেজিএমসি ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস। প্রস্তাবিত ঋণের অর্থ উৎপাদনসুবিধা সম্প্রসারণে ব্যবহার করা হবে। তবে ঋণ গ্রহণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার ওপর নির্ভরশীল।

উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ ভবিষ্যতে বিক্রয় ও মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে, বিদেশি ঋণ গ্রহণের ফলে সুদ ও ঋণ পরিশোধের দায়ও তৈরি হবে। তাই প্রকল্পটি কোম্পানির মুনাফা ও নগদ প্রবাহে কী প্রভাব ফেলে, তা ভবিষ্যতের আর্থিক প্রতিবেদন থেকে মূল্যায়ন করতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদে ‘এএ’, স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-২’ ঋণমান

ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিংস লিমিটেড নাভানা ফার্মাকে দীর্ঘমেয়াদে ‘এএ’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-২’ ঋণমান দিয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানিটির ঋণমানের পূর্বাভাস স্থিতিশীল বা ‘স্টেবল’ রাখা হয়েছে।

২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী এবং ঋণমান ঘোষণার তারিখ পর্যন্ত পাওয়া অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ভিত্তিতে এই ঋণমান নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঋণমান কোম্পানিটির ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা সম্পর্কে একটি মূল্যায়ন দেয়। তবে এটি শেয়ারের দাম বাড়বে কি না কিংবা কোম্পানি কত শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করবে, তার নিশ্চয়তা দেয় না।

আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে কোম্পানিটির বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সভায় অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। এই সভা থেকে কোম্পানিটির বার্ষিক আর্থিক ফলাফল ও লভ্যাংশসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

আগের অর্থবছরে ১৪ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড

২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য নাভানা ফার্মার পরিচালনা পর্ষদ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ১৪ শতাংশ নক্যাশ ডিভিডেন্ড সুপারিশ করেছিল। অর্থাৎ, প্রতি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে ১ টাকা ৪০ পয়সা ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস ও পরিচালন নগদ প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে নতুন অর্থবছরের ডিভিডেন্ড নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে। তবে চূড়ান্ত ডিভিডেন্ড নির্ভর করবে পুরো অর্থবছরের আয়, ব্যয়, কর-পরবর্তী মুনাফা, নগদ প্রবাহ, সঞ্চিত মুনাফা, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের ওপর।

এ বছর ক্যাশ ডিভিডেন্ড কতটা বাড়তে পারে?

নাভানা ফার্মার তিন প্রান্তিকের আর্থিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, নয় মাসে ইপিএস বেড়েছে ৩১.৫২ ক্যাশ ভিডেন্ড এবং শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়েছে ৫১.০৯ শতাংশ। পাশাপাশি শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব সূচক কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার উন্নতির ইঙ্গিত দেয়।

প্রথম নয় মাসে ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৫৯ পয়সা। চতুর্থ প্রান্তিকেও আয় ইতিবাচক থাকলে পুরো অর্থবছরের ইপিএস আনুমানিক ৫ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৬ টাকা ১০ পয়সার মধ্যে হতে পারে। এটি কেবল সম্ভাব্য হিসাব, কোম্পানির আনুষ্ঠানিক পূর্বাভাস নয়।

আগের অর্থবছরে ঘোষিত ১৪ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ডকে ভিত্তি ধরে কয়েকটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনা করা যায়।

প্রথমত, ডিভিডেন্ড অপরিবর্তিত থাকা: কোম্পানি যদি সম্প্রসারণ প্রকল্পে অর্থায়ন ও অন্যান্য দায়কে অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে আগের বছরের মতো ১৪ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রতি শেয়ারে ডিভিডেন্ড হবে ১ টাকা ৪০ পয়সা।

দ্বিতীয়ত, ডিভিডেন্ড সামান্য বৃদ্ধি: পুরো বছরের আয় ও নগদ প্রবাহ সন্তোষজনক থাকলে ১৫–১৬ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ডের ন্ড সম্ভাবনা বিবেচনা করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রতি শেয়ারে ডিভিডেন্ড হবে যথাক্রমে ১ টাকা ৫০ পয়সা ও ১ টাকা ৬০ পয়সা।

তৃতীয়ত, আরও বেশি ডিভিডেন্ড : ১৭–১৮ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হলে প্রতি শেয়ারে ১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পাওয়া যাবে। তবে বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে এই উচ্চতর ডিভিডেন্ডের সম্ভাবনা নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।

এগুলো বিশ্লেষণভিত্তিক সম্ভাব্য পরিস্থিতি; কোম্পানির ঘোষিত ডিভিডেন্ড বা নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়।

সার্বিক মূল্যায়ন

নাভানা ফার্মার প্রথম তিন প্রান্তিকের প্রতিবেদনে আয়, পরিচালন নগদ প্রবাহ ও নিট সম্পদমূল্যের উন্নতি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে নয় মাসে ইপিএস ৩১.৫২ শতাংশ এবং পরিচালন নগদ প্রবাহ ৫১.০৯ শতাংশ বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।

এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগের বছরের ১৪ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড বজায় রাখা অথবা সামান্য বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে পুরো বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, চতুর্থ প্রান্তিকের আয়, ঋণের দায়, সম্প্রসারণ প্রকল্পে ব্যয় এবং সঞ্চিত মুনাফা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

তাই বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে ১৫–১৬ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা গেলেও, তা নিশ্চিত ধরে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। আগামী ১৫ অক্টোবরের পরিচালনা পর্ষদের সভার পর বার্ষিক ফলাফল ও ডিভিডেন্ডের সুপারিশ পাওয়া গেলে আরও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে