×
ঢাকা, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

হাসিনার দেখানো পথেই এগুচ্ছে মোদী 

২০২৬ অক্টোবর ১১ ০৮:০৪:০১
হাসিনার দেখানো পথেই এগুচ্ছে মোদী 

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে তিন হাজারের বেশি মানুষকে আটকের ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশকে পরে মুক্তি দেওয়া হলেও জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপসহ চারজন পুলিশ হেফাজতে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

দিল্লির এই ঘটনা বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের আটক ও হেফাজতে রাখার ঘটনাগুলোর কথাও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। সে সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহসহ কয়েকজনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা বিভিন্ন স্থান থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

দুই দেশের ঘটনা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক নয়। তবে আন্দোলনের সময় ব্যাপক ধরপাকড়, বিক্ষোভকারীদের আটক এবং রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন—এই বিষয়গুলো দুই ঘটনাকে তুলনামূলক আলোচনায় এনেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। সেখানে বিক্ষোভে বিধিনিষেধ থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং তিন হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নামও এসেছে। পরে অধিকাংশকে মুক্তি দেওয়া হলেও অভিজিৎ দীপ, ধ্রুব রাঠীসহ চারজনের পুলিশ হেফাজতে থাকার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথ বন্ধ এবং ট্রেন চলাচলে বিঘ্নের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময়ও আন্দোলনের সমন্বয়কদের আটক করার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সে সময় নাহিদ ইসলামসহ কয়েকজন সমন্বয়ককে বিভিন্ন স্থান থেকে তুলে নেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের হেফাজতে থাকা এবং মুক্তির বিষয়টি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

দিল্লির বর্তমান ঘটনা এবং বাংলাদেশের তৎকালীন পরিস্থিতির মধ্যে সরাসরি সমতা টানা ঠিক হবে না। তবে বিক্ষোভ মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা, আটক ব্যক্তিদের অধিকার, আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং প্রতিবাদের স্বাধীনতা—এসব প্রশ্ন দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো আন্দোলনের সময় আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ, আটকের আইনি ভিত্তি জানানো এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জনআস্থা বজায় রাখার জন্য জরুরি। দিল্লিতে আটক চারজনের বর্তমান অবস্থা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে