×
ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার আগুনে বিপাকে সিঙ্গাপুর

২০২৬ অক্টোবর ১০ ১০:১৬:৫২
ইন্দোনেশিয়ার আগুনে বিপাকে সিঙ্গাপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বের অন্যতম ধনী ও উন্নত নগরী সিঙ্গাপুরে বায়ুদূষণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়ায় ছড়িয়ে পড়া অগ্নিকাণ্ডের ধোঁয়া বাতাসে ভেসে সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোয় শহরটির আকাশ ঘন ধোঁয়াশায় ঢেকে গেছে। এতে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং জমকালো ফর্মুলা ওয়ান গ্র্যান্ড প্রিক্স নাইট রেসসহ গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনের প্রস্তুতির মধ্যেই দূষণের কারণে সিঙ্গাপুরে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শহরটির বিখ্যাত মেরিনা বে স্যান্ডসসহ উঁচু ভবনগুলোও ধোঁয়াশার কারণে অস্পষ্ট দেখাচ্ছে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দিনের মাঝামাঝি সময়ে সিঙ্গাপুরের বায়ুমান সূচক (একিউআই) ২১৬-তে পৌঁছায়। এই মাত্রা সংস্থাটির সূচকে ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। চলতি সপ্তাহে দূষিত বাতাসের শহরগুলোর তালিকায় সিঙ্গাপুর শীর্ষস্থানেও উঠে আসে। একই সময়ে ইন্দোনেশিয়ার অগ্নিকাণ্ডের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরও দূষণের তালিকায় ওপরের দিকে ছিল।

সিঙ্গাপুরের জাতীয় পরিবেশ সংস্থা (ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি) জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চল এবং পশ্চিম কালিমান্তান থেকে মাঝারি থেকে ঘন ধোঁয়া সিঙ্গাপুরের দিকে ভেসে আসছে। বাতাসের গতিপথের কারণে এই ধোঁয়া শহরটির বায়ুমানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সংস্থাটির সতর্কতা অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব বা দক্ষিণ দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হতে থাকলে সিঙ্গাপুরের দিকে ধোঁয়াশা আসা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় শুষ্ক মৌসুমে বন ও ভূমিতে আগুন লাগার ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে পাম অয়েল উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত জমি প্রস্তুত করা এবং পিটল্যান্ড বা পিটসমৃদ্ধ জলাভূমি পরিষ্কার করার সময় আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এসব এলাকায় আগুন লাগলে দীর্ঘ সময় ধরে ধোঁয়া উৎপন্ন হতে পারে, যা বাতাসের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও পৌঁছে যায়।

পাম অয়েল খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে প্রসাধনী ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আগুনের ঝুঁকি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সীমান্তপারের ধোঁয়াশা সমস্যার অন্যতম আলোচিত কারণ।

প্রদত্ত প্রতিবেদনে চলতি বছরের সম্ভাব্য শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শুষ্ক আবহাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এল নিনোর প্রভাবে কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে। ইন্দোনেশিয়ার পাম চাষের এলাকাগুলোতে দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া দেখা দিলে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

তবে নির্দিষ্ট বছরে ‘সুপার এল নিনো’ কতটা শক্তিশালী হবে এবং বর্তমান অগ্নিকাণ্ডে তার ভূমিকা কতটুকু—তা নিশ্চিত করতে হালনাগাদ আবহাওয়াবিষয়ক তথ্য ও বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন প্রয়োজন।

বাতাসে ধোঁয়া ও সূক্ষ্ম কণার পরিমাণ বেড়ে গেলে শ্বাসকষ্ট, চোখ ও গলায় জ্বালাপোড়া এবং হাঁপানির মতো সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের অসুবিধা বাড়তে পারে। দূষণ বেশি থাকলে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্তদের বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

সিঙ্গাপুরের বায়ুমান পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তা নির্ভর করছে আগুনের বিস্তার, বাতাসের গতিপথ এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের ওপর। ইন্দোনেশিয়ার আগুন নিয়ন্ত্রণে না এলে এবং ধোঁয়া বহনকারী বাতাসের প্রবাহ অব্যাহত থাকলে সিঙ্গাপুরসহ আশপাশের অঞ্চলে দূষণের প্রভাব আরও কিছুদিন থাকতে পারে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে