×
ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে বিয়ের টিপসই জানা গেলো সত্যতা

২০২৬ অক্টোবর ১০ ১০:০০:১৬
ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে বিয়ের টিপসই জানা গেলো সত্যতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় সরকারি ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক বিধবা নারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি ও টিপসই নেওয়ার পর ভুয়া এফিডেভিট ও কাবিননামা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফুলবাড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী আছিয়া বেগম (৪৫)।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে আছিয়া বেগম স্থানীয় আব্দুল ছাত্তার ও আব্দুল কদ্দুছকে অভিযুক্ত করে অভিযোগটি দায়ের করেন। এর আগে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠার পর থেকে অভিযুক্ত দুজন আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী আছিয়া বেগম ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ১২ বছর আগে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়। পাঁচ সন্তান ও নাতি-নাতনি নিয়ে তাঁর সংসার। তিন ছেলেকে বিয়ে দিয়েছেন; ছোট ছেলের বয়স ১৩ বছর। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময় বিয়ের প্রস্তাব এলেও তিনি তাতে সম্মতি দেননি।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কদ্দুছের সঙ্গে আছিয়া বেগমের পরিবারের পরিচয় ছিল। প্রায় চার বছর আগে তাঁর দ্বিতীয় ছেলে আসাদুলের বিয়ের সময় কদ্দুছ উকিল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সূত্রে তিনি প্রায়ই তাঁদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কদ্দুছের মাধ্যমে কয়েকবার বিয়ের প্রস্তাব এলেও আছিয়া বেগম তা প্রত্যাখ্যান করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, প্রায় দেড় মাস আগে স্থানীয় আব্দুল ছাত্তার সরকারি ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তাঁকে নিজের দোকানে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি নেওয়া হয়। কয়েক দিন পর আবার দোকানে ডেকে নিয়ে সাদা কাগজে দুটি টিপসই নেওয়া হয়। আছিয়া বেগমের দাবি, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়ার কথা বলেই এসব করা হয়েছিল।

পরে আছিয়া বেগম ও আব্দুল কদ্দুছের বিয়ে হয়েছে—এমন প্রচার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এ-সংক্রান্ত একটি এফিডেভিট ও কাবিননামার কাগজও দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানার পর ভুক্তভোগী স্থানীয়ভাবে বিচার দাবি করেন। গত সোমবার সন্ধ্যায় পাটুলী গ্রামে একটি সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে আছিয়া বেগম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। অভিযুক্ত ছাত্তার উপস্থিত না থাকায় বুধবার পুনরায় সালিশের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও তিনি সেদিনও উপস্থিত হননি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিদের দাবি, কাবিননামায় আড়াই লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের কথা উল্লেখ রয়েছে। এতে আব্দুল মান্নান ও সাইফুল ইসলামকে সাক্ষী হিসেবে দেখানো হলেও তাঁরা এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কাগজটিতে পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. গোলাম মোস্তফা দাবি করেছেন, তাঁর নম্বর, সিল ও স্বাক্ষর জাল করে কাবিননামাটি তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত আব্দুল ছাত্তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দাবি করেছেন, বিধবা নারীর কাবিননামা তৈরির সঙ্গে তিনি জড়িত নন এবং তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। তবে আত্মগোপনে থাকায় তাঁর সরাসরি বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত আব্দুল কদ্দুছের মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আছিয়া বেগম বলেন, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তাঁর পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নেওয়া হয়েছিল। পরে তাঁকে দোকানে ডেকে নিয়ে কাগজে টিপসই নেওয়া হয়। এখন গ্রামে তাঁর বিয়ে হয়েছে বলে প্রচার করা হচ্ছে। এতে সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।

এদিকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ফজলুল হক শামীম বলেছেন, অভিযুক্ত ছাত্তারের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পর্ক নেই। নির্বাচনের সময় অনেকে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করেছেন, ছাত্তারও হয়তো তাঁদের একজন ছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান জানান, ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে টিপসই নিয়ে কাবিননামা তৈরির অভিযোগে আছিয়া বেগম দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে অভিযোগের সত্যতা এবং কাবিননামা ও এফিডেভিট জাল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে অভিযুক্তদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে