×
ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

২ কারণে আর হাসিনাকে ভারসা করতে পারছে না ভারত 

২০২৬ অক্টোবর ১০ ০৯:৪৯:৫২
২ কারণে আর হাসিনাকে ভারসা করতে পারছে না ভারত 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা নয়া দিল্লি এখন বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গেও সম্পর্ক রক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মনে করছেন কিছু বিশ্লেষক। তবে ভারতের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও বাস্তব কূটনৈতিক পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ভূমিকা দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভারতকে একদিকে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ, অন্যদিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন—দুই বিষয়ই বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।

নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা

শেখ হাসিনার বয়স এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্নকে ভারতের সম্ভাব্য কৌশলগত হিসাবের অংশ হিসেবে তুলে ধরছেন কিছু বিশ্লেষক। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক বজায় রাখতে হলে শুধু একজন নেতা বা একটি দলের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তবে শেখ হাসিনার বয়স বা আওয়ামী লীগের উত্তরাধিকার পরিস্থিতিই ভারতের নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনের প্রধান কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখানে উল্লেখ নেই। ভারতের সরকারি বক্তব্য বা সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য ছাড়া বিষয়টিকে বিশ্লেষণ হিসেবেই দেখা উচিত।

বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কের সম্ভাবনা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে দলটির সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে ভারতের সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানি বণ্টন, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক যোগাযোগের মতো বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা ভারতের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।

তবে তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে ভারত সরকার বিশেষ কোনো উদ্যোগ নিয়েছে কিংবা প্রচলিত কূটনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রতিনিধিকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট সরকারি ঘোষণা বা যাচাইযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।

শেখ হাসিনাকে আশ্রয় ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রশ্ন

শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থান করতে দেওয়ার বিষয়টি ঢাকা-নয়া দিল্লি সম্পর্কের একটি সংবেদনশীল দিক। একই সময়ে দুই দেশের সরকারকে বাণিজ্য, সীমান্ত, নিরাপত্তা ও অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ নিয়েও কাজ করতে হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারতের জন্য বাংলাদেশের একাধিক রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভারতের ভবিষ্যৎ নীতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ, দুই দেশের নেতৃত্বের বক্তব্য এবং দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অগ্রগতির ওপর।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের অবস্থান, বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ এবং দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান—এসবই ভবিষ্যৎ সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে