×
ঢাকা, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

পিচ্চি রাজার ‘পালানোর’ ঘটনা সাজানো! তদন্তে বেরিয়ে এলো আসল রহস্য

২০২৬ অক্টোবর ০৫ ১৯:৫১:২১
পিচ্চি রাজার ‘পালানোর’ ঘটনা সাজানো! তদন্তে বেরিয়ে এলো আসল রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে প্রিজন ভ্যান থেকে আলোচিত ৩০ মামলার আসামি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ পালানোর ঘটনায় নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে গাজীপুরের বাইমাইল থেকে নয়, রাজধানীর তাঁতীবাজার এলাকা থেকেই তিনি পালিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)।

সোমবার (৫ অক্টোবর) গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার জানান, তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আলামতের ভিত্তিতে পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা, স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার এবং প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ আসামিকে ঢাকার আদালতে হাজিরা ও মামলার শুনানির জন্য নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে তাদের কারাগারে ফেরানোর পথে ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকায় প্রিজন ভ্যান থামানো হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, তাঁতীবাজারের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে প্রিজন ভ্যান থামানোর পর স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার চালকের কাছ থেকে ভ্যানের চাবি নেন। এরপর পিচ্চি রাজা ও হাজতি আসামি খাইরুল বাশারকে ভ্যান থেকে নামিয়ে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। একপর্যায়ে পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর আর প্রিজন ভ্যানে ওঠেননি। পুলিশের দাবি, আগে থেকেই অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে করে পিচ্চি রাজা সেখান থেকে পালিয়ে যান।

পুলিশ আরও জানায়, পরে এসআই প্রবীর নির্ধারিত সময়ের দিকে ভ্যানে ফিরে গিয়ে অন্য সদস্যদের নিয়ে গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় পিচ্চি রাজা শৌচাগারে যাওয়ার সময় পালিয়ে গেছেন—এমন একটি ঘটনা সাজানো হয়। অর্থাৎ শুরুতে যে ঘটনাস্থল ও পালানোর বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল, তদন্তে তার সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার মিল পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রিজন ভ্যানের সঙ্গে থাকা পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল এবং ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়। পরে মামলাটি ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এসআই প্রবীর কুমার ও নায়েক কামাল হোসেন পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, চালক কামাল হোসেনের বাড়ি থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে পিচ্চি রাজাকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে জিএমপি।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে