×
ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ওসমান হাদির পর টার্গেট এবার সালমান মুক্তাদির 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ২৩:২১:২৪
ওসমান হাদির পর টার্গেট এবার সালমান মুক্তাদির 

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাইয়ের গণআন্দোলনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। তবে পরিবর্তনের সেই সময় পেরিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্ন উঠছে। প্রকাশ্যে বড় কোনো সংঘাত দৃশ্যমান না থাকলেও সমাজের বিভিন্ন স্তরে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও অদৃশ্য ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘মানসিক খেলা’র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ব্যক্তিগত আলাপচারিতা—বিভিন্ন জায়গায় মানুষ নিজেদের বক্তব্য প্রকাশের আগে সতর্ক হয়ে উঠছেন। এক ধরনের ‘বিগ ব্রাদার’সুলভ নজরদারির অনুভূতি তৈরি হয়েছে। তবে এ ধরনের অভিযোগের বাস্তবতা ও ব্যাপ্তি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনাকে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির একটি প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। স্টুডিওর ক্ষয়ক্ষতি ও ভাঙচুরের চিত্র দেখিয়ে প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—নাগরিকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সম্পদের সুরক্ষা কতটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে।

তবে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা থেকে সামগ্রিক রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিস্থিতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। ওই ঘটনার পেছনে কারা ছিল, তাদের উদ্দেশ্য কী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে কী তথ্য পাওয়া গেছে—এসব বিষয়ই প্রকৃত চিত্র বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ।

জুলাইয়ের আন্দোলনে সক্রিয় থাকা তরুণ ও বিভিন্ন পর্যায়ের সমন্বয়কদের কেউ কেউ গ্রেপ্তার, জিজ্ঞাসাবাদ বা বিভিন্ন চাপের মুখোমুখি হচ্ছেন। এসব ঘটনা অন্যদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘চেইন রিঅ্যাকশন অব ফিয়ার’ বা ভয় ছড়িয়ে পড়ার একটি ধারাবাহিকতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। অর্থাৎ একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে একই ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক ভূমিকা পালন করা অন্যদের মধ্যেও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো—অপরাধ বা সহিংসতার ঘটনায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা কার্যকরভাবে ব্যবস্থা নিতে পারছে। কোনো হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলে তার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

অবশ্য এর বাইরে আরও বড় একটি আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে প্রশ্ন করা হয়েছে, জুলাইয়ের আন্দোলনের পর রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আড়ালে কোনো অদৃশ্য শক্তি বা ‘ডিপ স্টেট’ প্রভাব বিস্তার করছে কি না। তবে এটি একটি অনুসন্ধানী প্রশ্ন বা আশঙ্কা; এর পক্ষে নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন না করা হলে এটিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

জুলাইয়ের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত মানুষের একটি বড় প্রত্যাশা ছিল আরও নিরাপদ, স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক একটি রাজনৈতিক পরিবেশ। সেই প্রত্যাশার সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার কতটা মিল রয়েছে—এখন সেটিই আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

যেসব তরুণ আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, তারা এখন কতটা নিরাপদ বোধ করছেন। একই সঙ্গে নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং আইনের শাসন বাস্তবে কতটা কার্যকর—সেটিও পর্যালোচনার দাবি রাখে।

জুলাই-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তন এলেও নিরাপত্তা, জবাবদিহি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা নিয়ে তথ্যভিত্তিক আলোচনা জরুরি। কোনো ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা অদৃশ্য শক্তির যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটি নির্ধারণ করতে প্রয়োজন স্বচ্ছ তদন্ত ও প্রমাণ।

শেষ পর্যন্ত বড় প্রশ্নটি হচ্ছে—জুলাইয়ের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যে গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন পরিবেশের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সেটি কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে। সেই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা, আইনের সমান প্রয়োগ, নাগরিক নিরাপত্তা এবং মতপ্রকাশের সুযোগ কতটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে তার ওপর।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে