×
ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাসে ৩০-৪৫ হাজার আয় হলেই মিলতে পারে আবাসন ঋণ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ০৯:৪৫:৫৪
মাসে ৩০-৪৫ হাজার আয় হলেই মিলতে পারে আবাসন ঋণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ৬০ হাজার পরিবারকে বাড়ি নির্মাণ, সম্প্রসারণ ও মেরামতের জন্য আবাসন ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) প্রস্তাবিত ‘ইনক্লুসিভ অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং ফাইন্যান্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় এ ঋণ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এ খাতে ১০ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ১ হাজার ২২৬ কোটি ৮১ লাখ টাকার অর্থায়ন পাওয়া যাবে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) প্রায় ৪০টি অংশীদার ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৬০ হাজার পরিবারের মধ্যে এই অর্থ বিতরণ করবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) একজন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্প নিয়ে এডিবির তথ্য-অনুসন্ধান মিশন ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন এডিবির পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে প্রস্তাবটি।

প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, একজন ঋণগ্রহীতা গড়ে প্রায় ২ লাখ টাকা ঋণ পেতে পারেন। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ কমপক্ষে পাঁচ বছর করার প্রস্তাব রয়েছে।

মাসে ৩০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা আয় করে—এমন পরিবারগুলোকে প্রস্তাবিত ঋণের জন্য যোগ্য বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে ঋণের মাসিক কিস্তি পরিবারের মোট মাসিক আয়ের ৩০ শতাংশের কম রাখার কথা বলা হয়েছে, যাতে ঋণগ্রহীতার ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে।

তবে নতুন প্রকল্পের আওতায় ঋণের সুদের হার এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পিকেএসএফের জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক এ কে এম নূরুজ্জামানের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার থেকে পিকেএসএফ, পিকেএসএফ থেকে অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং পরে অংশীদার প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণগ্রহীতার পর্যায়ে কী সুদ নির্ধারণ করা হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি।

তিনি জানান, ঋণচুক্তি সইয়ের আগে অর্থ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে সুদের হার নির্ধারণ করা হবে। এডিবির অর্থায়নের অর্থ পিকেএসএফের কাছে কী ব্যয়ে আসছে, তার ওপর চূড়ান্ত পর্যায়ে ঋণগ্রহীতাদের জন্য নির্ধারিত সুদের হার অনেকাংশে নির্ভর করবে।

নতুন তহবিল তুলনামূলক কম সুদে পাওয়া গেলে বর্তমানে চালু থাকা পিকেএসএফের আবাসন ঋণ কর্মসূচির তুলনায় কম সুদে ঋণ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পিকেএসএফ ২০১৯ সালে নিজস্ব অর্থায়নে ‘আবাসন’ নামে একটি কর্মসূচি চালু করে। ওই কর্মসূচির আওতায় বাড়ি নির্মাণ, মেরামত ও সম্প্রসারণের জন্য এখন পর্যন্ত ৫১ হাজার ২৪৬ জনকে মোট ১ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান কর্মসূচিতে অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলো পিকেএসএফ থেকে ৪ শতাংশ সুদে তহবিল পায় এবং ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে বছরে ১২ শতাংশ সুদ নেয়। এ ক্ষেত্রে কোনো গোপন ফি নেওয়া হয় না।

প্রস্তাবিত নতুন প্রকল্পে ঋণের প্রায় ৮০ শতাংশ জামানত ছাড়াই দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বাড়ি নির্মাণ, মেরামত বা সম্প্রসারণের মোট ব্যয়ের একটি অংশ ঋণগ্রহীতাকে নিজস্ব অর্থে বহন করতে হবে।

এডিবির প্রস্তাবিত যোগ্যতার শর্ত অনুযায়ী, আবেদনকারীর বয়স সাধারণত ২১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। আবেদনকারীর নিজের অথবা আইনগতভাবে দখলে থাকা কমপক্ষে শূন্য দশমিক ৮ ডেসিমেল বসতভিটার জমি থাকতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংক অথবা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) হিসাব থাকতে হবে।

আবেদনকারীর কোনো ঋণখেলাপির রেকর্ড থাকা যাবে না। বিধবা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত হলেও ঋণের কিস্তি পরিশোধের সক্ষমতা থাকতে হবে।

এডিবির নথিতে বাংলাদেশে সাশ্রয়ী আবাসন ও আবাসন অর্থায়নের সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে আবাসনের ঘাটতি প্রায় ৬০ লাখ ইউনিট। ২০৩০ সাল নাগাদ এ ঘাটতি বেড়ে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ ইউনিটে পৌঁছাতে পারে। নথি অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৩১ হাজার ৫০০টি আবাসন ইউনিট নির্মিত হয়, যা আনুমানিক চাহিদার মাত্র প্রায় ১ শতাংশ।

এ ছাড়া প্রায় ১৭ লাখ ৩০ হাজার মানুষ এখনো বস্তিতে বসবাস করছে বলে এডিবির নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বন্ধকভিত্তিক আবাসন ঋণও মূলত উচ্চ আয়ের মানুষের মধ্যে বেশি কেন্দ্রীভূত। ২০২৩ অর্থবছরে বন্ধকি ঋণের পরিমাণ ছিল দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো আনুষ্ঠানিক জমির মালিকানার দলিলের অভাব, জামানত দেওয়ার সীমাবদ্ধতা, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ কম থাকা এবং সাশ্রয়ী ঋণপণ্যের ঘাটতির কারণে আবাসন ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে।

প্রস্তাবিত ১০ কোটি ডলারের অর্থায়ন বাস্তবায়িত হলে পিকেএসএফের মাধ্যমে ৬০ হাজার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের বাড়ি নির্মাণ, সম্প্রসারণ অথবা মেরামতের জন্য ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন, ঋণের সুদের হার ও অন্যান্য শর্ত নির্ধারণের পরই এর বাস্তবায়ন কাঠামো স্পষ্ট হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে