×
ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রথম আঘাত কে করেছিলেন, কেনই বা হত্যা জবানবন্দিতে যা জানা গেল

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ০৮:৪১:৪২
প্রথম আঘাত কে করেছিলেন, কেনই বা হত্যা জবানবন্দিতে যা জানা গেল

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামির আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি অনুযায়ী, অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোনটি বিক্রি করে টাকা ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই হত্যার ঘটনা ঘটে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে এসব তথ্য আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে পাওয়া।

জবানবন্দি অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনের দেখা হয়। পরে তাকে কৌশলে সানন্দা পশ্চিমপাড়ার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। তুহিন ওই এলাকাটিকে নির্জন স্থান হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং জায়গাটিকে তার চাচা শাহ আলমের পাহাড় বলে বর্ণনা করেছেন।

মামলার আরেক আসামি, যিনি অপ্রতিমের বাবার দোকানে কাজ করতেন, জানিয়েছেন—দুপুরের পর কোটবাড়ি বোর্ড মার্কেট এলাকায় অপ্রতিমের সঙ্গে তার দেখা হয়। পরে সন্ধ্যার আগে তিনি আরেক কিশোর বন্ধুকে নিয়ে পাহাড়ের দিকে যান। সেখানে যাওয়ার আগেই ওই বন্ধুকে অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনার কথা জানানো হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ রয়েছে।

তৃতীয় কিশোরের জবানবন্দিতেও প্রায় একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে একটি স্কুলের সামনে তার সঙ্গে ওই কিশোরের দেখা হয়। সেখানেই সে হত্যার পরিকল্পনার কথা জানতে পারে। পরে বিকেল চারটার পর তারা পাহাড়ে গেলে অপ্রতিম ও তুহিনকে সেখানে বসে থাকতে দেখা যায়।

তিনটি জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, চারজন একত্র হওয়ার পর কিছু সময় গল্প ও আড্ডা দেয়। এরপর অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোনটি নেওয়া হয়। দোকানে কর্মরত কিশোরটি জানিয়েছে, সে অপ্রতিমের কাছে ফোন চাইলে অপ্রতিম সেটি তাকে দেন। কিছুক্ষণ ব্যবহারের পর ফোনটি সে তুহিনের হাতে তুলে দেয়।

এরপর ফোনটি ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে অপ্রতিম ও তুহিনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় বলে জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। পুলিশের আগের বক্তব্যেও বলা হয়েছিল, অপ্রতিম তার আইফোনটি ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করলে তুহিন বাধা দেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে।

তিন আসামির জবানবন্দিতে অপ্রতিমকে প্রথম আঘাত করার বিষয়েও মিল রয়েছে। তাদের বর্ণনা অনুযায়ী, তুহিন প্রথমে অপ্রতিমকে থাপ্পড় দেন। এরপর পাশে থাকা কোদালের হাতল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। পরে অন্য দুজনকেও মারধরে অংশ নিতে বলা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

দোকানে কর্মরত কিশোরটির বক্তব্যেও তুহিনের হাতে প্রথম আঘাতের কথা এসেছে। তৃতীয় কিশোরও জানিয়েছে, তুহিনই প্রথম কোদালের হাতল দিয়ে অপ্রতিমকে আঘাত করেন।

হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কেও তিন জবানবন্দিতে গুরুত্বপূর্ণ মিল পাওয়া গেছে। তুহিনের বক্তব্যে অপ্রতিমের আইফোনের প্রতি তাদের লোভের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আরেক কিশোরের জবানবন্দি অনুযায়ী, আইফোনটি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তৃতীয় কিশোরও জানিয়েছে, তাকে বলা হয়েছিল আইফোনটি বিক্রি করার পর টাকা ভাগ করে দেওয়া হবে।

অপ্রতিমের মৃত্যুর পর আসামিরা কে কোথায় গিয়েছিল, সে বিষয়ে জবানবন্দিগুলোতে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। তবে তিনজনের বক্তব্যেই আইফোনটি শেষ পর্যন্ত তুহিনের কাছে থাকার তথ্য উঠে এসেছে।

কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অপ্রতিম ১৮ সেপ্টেম্বর বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরদিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯) এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০ সেপ্টেম্বর রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। মামলার তদন্তে এসব জবানবন্দি ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে