×
ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিসেম্বরের মধ্যে বায়োমেট্রিক না দিলেই বাতিল হবে ১৪ হাজার আবেদন

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৫ ০৯:৩৯:০৫
ডিসেম্বরের মধ্যে বায়োমেট্রিক না দিলেই বাতিল হবে ১৪ হাজার আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: অনলাইনে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করেও এখনো বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করেননি ১৪ হাজার ১৯৯ জন প্রবাসী বাংলাদেশি। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে তাদের বায়োমেট্রিক গ্রহণ সম্পন্ন না হলে এসব আবেদন বাতিল করতে হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক সমন্বয় সভায় প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কার্যক্রম নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

সভায় নিবন্ধন ও প্রবাসী অধিশাখার পরিচালক খান আবি শাহানুর খান জানান, অনলাইনে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করা ১৪ হাজার ১৯৯ জন প্রবাসীর বায়োমেট্রিক এখনো সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোতে গ্রহণ করা হয়নি। তাদের বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করতে দূতাবাসগুলোকে তিন মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করার জন্য চিঠি পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এসব প্রবাসীর বায়োমেট্রিক গ্রহণ করা না হলে সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলো বাতিল করতে হবে। ফলে যারা অনলাইনে আবেদন করেছেন কিন্তু এখনো বায়োমেট্রিক দেননি, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা নিবন্ধন কেন্দ্রে গিয়ে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে বিশ্বের ১৭টি দেশের ২৭টি স্টেশনে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই, সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম, ইতালির রোম ও মিলান এবং কুয়েত সিটির কেন্দ্র রয়েছে।

এ ছাড়া কাতারের দোহা, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি, কানাডার অটোয়া ও টরন্টো, জাপানের টোকিও, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মিয়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস, মালদ্বীপের মালে, ওমানের মাসকাট, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া, সুইডেন, সিঙ্গাপুর ও বাহরাইনেও এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রবাসে এনআইডি কার্যক্রম চালু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩ হাজার ৪১৯ জন বাংলাদেশি ভোটার নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছেন।সভায় জাতীয় পরিচয়পত্রের ফরম-২ সংরক্ষণ, স্ক্যান ও আপলোডের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। এনআইডির সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন জানান, ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সংরক্ষিত ফরম-২-এর মোট সংখ্যা ৬ কোটি ৭৩ লাখ ৫৩ হাজার ৩৮টি।

এর মধ্যে ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৭৪ হাজার ৫২৫টি ফরম স্ক্যান করা হয়েছে। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত আপলোড করা হয়েছে ৫ কোটি ২৩ লাখ ২৫৩টি ফরম।

আপলোড করা ফরম-২-এর বিচারিক সিদ্ধান্ত বা অ্যাডজুডিকেশন কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এ কার্যক্রম এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন তৈরি করে কমিশন সভায় উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া মাঠপর্যায়ের নির্বাচন অফিসগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির জন্য আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের মাসভিত্তিক অফিস পরিদর্শনসূচি তৈরি করতে বলা হয়েছে। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদেরও নিজ নিজ কার্যালয় পরিদর্শন করে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন অফিসগুলোর গোডাউনে থাকা অপ্রয়োজনীয় ও নিষ্পত্তিযোগ্য মালামাল দ্রুত সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথ নিয়মে নিষ্পত্তি করার পাশাপাশি সেগুলো মণ্ড তৈরির কাজে ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ের কার্যালয়গুলোতে সোলার প্যানেল স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ ও অর্থ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবহারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাশ্রয়ী ও সচেতন হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্মিত উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনগুলোতে নির্বাচন কমিশনের জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ বরাদ্দের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। প্রয়োজনীয় কক্ষ বরাদ্দের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে সভা আয়োজনের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কার্যালয়ের অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কার্যালয় থেকে ব্রডশিট জবাব যথাযথভাবে ও নির্ধারিত সময়ে সচিবালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রতি মাসে দৈবচয়নের ভিত্তিতে তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের কাজ পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যালোচনার প্রতিবেদন পরবর্তী মাসের ১ তারিখে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে।

সভায় সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ যথাযথভাবে অনুসরণ এবং বদলি-সংক্রান্ত তদবিরের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা মানার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

গত ২২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের সমন্বয় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে অতিরিক্ত সচিব আলোচ্যসূচি উপস্থাপন করেন এবং এর আগে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভার কার্যবিবরণী তুলে ধরেন।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে