×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০২২ সালের পর ভারতের সাথে বাংলাদেশের বড় চুক্তি

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৮:২৯:০৪
২০২২ সালের পর ভারতের সাথে বাংলাদেশের বড় চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে গমের সরবরাহ ও রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প উৎস হিসেবে আবারও ভারত থেকে বড় পরিমাণে গম কিনতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। ভারত গম রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পর বাংলাদেশি আমদানিকারকেরা ইতোমধ্যে ২ লাখ টনের বেশি গম কেনার চুক্তি করেছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের পর এবারই প্রথম ভারত থেকে বাংলাদেশ বড় পরিমাণে গম আমদানি করছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের বন্দর ও টার্মিনালগুলোতে বারবার হামলা হচ্ছে। এতে ওই অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে গম সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশকে বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রতিবছর ৭০ লাখ টনের বেশি গম আমদানি করে। ২০২২ সালের মে মাসে ভারত গম রপ্তানি বন্ধ করার আগে বাংলাদেশের মোট গম আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশই ভারত থেকে আসত। তুলনামূলক কম পরিবহন ব্যয় ও দ্রুত সরবরাহের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভারত বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান গমের উৎস ছিল।

ভারত রপ্তানি বন্ধ করার পর বাংলাদেশকে আর্জেন্টিনা, কানাডা, রাশিয়া ও ইউক্রেনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে গম আমদানি বাড়াতে হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের আমদানিকৃত গমের উল্লেখযোগ্য অংশ কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসছিল। কিন্তু ওই অঞ্চলে যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এবার ভারতীয় গমের দিকে আবারও ঝুঁকছেন আমদানিকারকেরা।

বর্তমানে ভারতীয় গমের জন্য বাংলাদেশি আমদানিকারকেরা প্রতি টনে প্রায় ৩০৫ থেকে ৩২৬ ডলার পর্যন্ত দাম দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আমদানি করা গমের বড় অংশই রেলপথে বাংলাদেশে পৌঁছাবে।

বাংলাদেশের বড় গম আমদানিকারক ও ময়দা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপের জ্যেষ্ঠ উপমহাব্যবস্থাপক তাসলিম শাহরিয়ার বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের সমাধান না হলে আন্তর্জাতিক গম সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার গম কিনতে বাংলাদেশি ক্রেতাদের প্রতি টনে ৪৫০ ডলারের বেশি খরচ হচ্ছে। অথচ আগে একই গমের দাম ৩৮০ ডলারের নিচে ছিল।

এদিকে গমের আন্তর্জাতিক ও আমদানি ব্যয়ের পাশাপাশি দেশের বাজারেও আটার দাম বেড়েছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় পরিশোধিত গমের আটার দাম গত এক মাসে ১৭ শতাংশ বেড়েছে।

বাংলাদেশে চালের পর গম অন্যতম প্রধান খাদ্যশস্য। বিশেষ করে আটা, ময়দা ও গমজাত বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের উৎপাদনে গমের চাহিদা রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম ও সরবরাহে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে দেশের খাদ্যপণ্যের দাম এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (USDA) বৈদেশিক কৃষি পরিষেবার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ মৌসুমে ভারতের গম রপ্তানি বেড়ে প্রায় ২০ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। দেশটির পর্যাপ্ত গমের মজুত, রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় গমের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ও নেপালে ভারতীয় গমের রপ্তানি বাড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়াতেও ভারত থেকে গমের সরবরাহ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে