×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে বাংলাদেশ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৫:৫১:০৫
বাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’তে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্য ও সেবা আমদানির সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি কয়েকটি নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিতে শিল্প ও কৃষিপণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং বিভিন্ন বাণিজ্য বাধা কমানোর বিষয় রয়েছে।

চুক্তির বাণিজ্যিক অংশে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বেসামরিক উড়োজাহাজ, যন্ত্রাংশ ও সেবা কেনার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বা বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ চুক্তিতে যাওয়ার বিষয়ও রয়েছে। চুক্তির নথিতে আগামী ১৫ বছরে এ খাতে সম্ভাব্য ক্রয়ের আনুমানিক মূল্য ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, সয়া ও সয়া-জাত পণ্য এবং তুলা কেনার বিষয়েও বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। চুক্তির নথিতে এসব কৃষিপণ্যের সম্ভাব্য মোট মূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জাম কেনার পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়ও চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই চুক্তির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বাণিজ্য ভারসাম্য নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্যে মার্কিন ঘাটতি ছিল ৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। চুক্তির লক্ষ্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে মার্কিন পণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে আরও ‘পারস্পরিক’ করার কথা জানিয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কূটনীতি নিয়ে বিশ্লেষণকারীদের একটি অংশ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে অতিরিক্ত পণ্য ও জ্বালানি আমদানির প্রতিশ্রুতি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ব্যয় ইতোমধ্যে বেশি থাকায় নতুন দীর্ঘমেয়াদি ক্রয়চুক্তির আর্থিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির সব প্রতিশ্রুতিকে সরাসরি ‘চাপের ফল’ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। চুক্তিতে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কসংক্রান্ত সুবিধা, শ্রম অধিকার, বিনিয়োগ, ডিজিটাল বাণিজ্য এবং অশুল্ক বাধা কমানোর বিষয়ও রয়েছে। ফলে এর অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নে একদিকে সম্ভাব্য অতিরিক্ত আমদানি ব্যয়, অন্যদিকে রপ্তানি ও বাজারপ্রবেশের সুবিধা—দুই দিকই বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সার্বিকভাবে, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য কাঠামোতে আমদানি ও রপ্তানি—উভয় ক্ষেত্রেই বেশ কিছু পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। চুক্তির প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, ডলার ব্যয়, শিল্পখাত ও রপ্তানি বাজারে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে