×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রচলিত বাজারের বাইরে পোশাক রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড বাংলাদেশের

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৫:৪৩:৫৭
প্রচলিত বাজারের বাইরে পোশাক রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস আগস্টে এসব বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে রেকর্ড ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এক মাসে অপ্রচলিত বাজারে এটিই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির সর্বোচ্চ পরিমাণ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত দুই অর্থবছরে অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না থাকলেও চলতি অর্থবছরের শুরুতেই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। আগস্টে রেকর্ড রপ্তানির পাশাপাশি এসব বাজারে পোশাক রপ্তানির মাসিক গড়ও বেড়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির মাসিক গড় ছিল ৫৭৪ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এই গড় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১১ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলারে।

শুধু রপ্তানির পরিমাণ নয়, মোট তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের অংশও বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ এসেছিল এসব বাজার থেকে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সেই অংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৩২ শতাংশে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর বড় সম্ভাবনা রয়েছে। এতদিন এসব বাজারে কাঙ্ক্ষিত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এখন বাজার সম্প্রসারণের জন্য অপ্রচলিত গন্তব্যগুলোকে কৌশলগতভাবে গুরুত্ব দেওয়ার সময় এসেছে।

তিনি বলেন, অপ্রচলিত বাজার বলতে শুধু উচ্চমূল্যের পোশাকের বাজারকে বোঝায় না। এসব দেশে বিভিন্ন ধরনের তৈরি পোশাকের উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে। সব মিলিয়ে এসব দেশের পোশাকের বাজারের আকারও অনেক বড়। ফলে প্রচলিত কয়েকটি বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে নতুন গন্তব্যে রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব।

ইপিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগস্টে অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় গন্তব্য ছিল জাপান। দেশটিতে ১১৮ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে।

এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় ৭৫ দশমিক ১৪ মিলিয়ন, ভারতে ৭২ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন, তুরস্কে ৫৯ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ৪৫ দশমিক ১৫ মিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে।

অন্যান্য বাজারের মধ্যে মেক্সিকোতে ৩২ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৮ দশমিক ৬২ মিলিয়ন, ব্রাজিলে ২৪ দশমিক ২৪ মিলিয়ন, চীনে ২০ দশমিক ৭০ মিলিয়ন এবং সৌদি আরবে ১৯ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে।

একই সময়ে মালয়েশিয়ায় ১৫ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন, চিলিতে ১৩ দশমিক ১৫ মিলিয়ন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৩ দশমিক ১০ মিলিয়ন, রাশিয়ায় ৯ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন এবং নিউজিল্যান্ডে ৮ দশমিক ৬১ মিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। অন্যান্য অপ্রচলিত বাজার মিলিয়ে আরও ৮৫ দশমিক ২১ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে।

ইপিবির তথ্য বলছে, আগস্টে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬০৮ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে অপ্রচলিত বাজারে ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হয়েছে।

অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির এই প্রবণতা বাংলাদেশের পোশাক খাতে বাজার বহুমুখীকরণের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করছে। নতুন নতুন দেশে রপ্তানি বাড়ানো গেলে প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক পোশাকবাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে