×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অবসরের পর পেনশন-গ্রাচুইটি যত পাবেন, হিসাব করবেন যেভাবে

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১০:৫৪:১৭
অবসরের পর পেনশন-গ্রাচুইটি যত পাবেন, হিসাব করবেন যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর একজন কর্মচারীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রাপ্য হলো পেনশন, গ্রাচুইটি ও অন্যান্য অবসরকালীন সুবিধা। চাকরিজীবনের শেষ দিকে অনেকেই জানতে চান, অবসরের সময় কত টাকা এককালীন পাওয়া যেতে পারে এবং মাসিক পেনশনের পরিমাণই বা কত হবে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি হিসাব বেশ প্রচলিত—শেষ মূলবেতন বা বেসিককে ১০৩.৫০ দিয়ে গুণ করলে গ্রাচুইটির একটি অঙ্ক পাওয়া যায়।

তবে এই সূত্রকে সরকারি চাকরিজীবীদের সবার জন্য প্রযোজ্য চূড়ান্ত গ্রাচুইটি হিসাব হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কারণ সরকারি পেনশন ব্যবস্থায় প্রকৃত অবসর সুবিধা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু শেষ মূলবেতন নয়, পেনশনযোগ্য চাকরির মেয়াদ, অবসরের তারিখ, নিট পেনশনসহ আরও কিছু তথ্য বিবেচনা করা হয়।

৬০ হাজার টাকা বেসিক হলে ৬২ লাখ ১০ হাজার টাকা কীভাবে আসে?

প্রচলিত সূত্র অনুযায়ী, কারও শেষ মূলবেতন ৬০ হাজার টাকা হলে হিসাবটি হবে—

৬০,০০০ × ১০৩.৫০ = ৬২,১০,০০০ টাকা

অর্থাৎ, এই সূত্র প্রয়োগ করলে এককালীন সম্ভাব্য অঙ্ক দাঁড়ায় ৬২ লাখ ১০ হাজার টাকা।

একইভাবে শেষ মূলবেতন যত বেশি হবে, এই সূত্রে হিসাব করা অঙ্কও তত বাড়বে। উদাহরণ হিসেবে—

৩০,০০০ টাকা × ১০৩.৫০ = ৩১,০৫,০০০ টাকা

৪০,০০০ টাকা × ১০৩.৫০ = ৪১,৪০,০০০ টাকা

৫০,০০০ টাকা × ১০৩.৫০ = ৫১,৭৫,০০০ টাকা

৬০,০০০ টাকা × ১০৩.৫০ = ৬২,১০,০০০ টাকা

৭০,০০০ টাকা × ১০৩.৫০ = ৭২,৪৫,০০০ টাকা

৮০,০০০ টাকা × ১০৩.৫০ = ৮২,৮০,০০০ টাকা

৯০,০০০ টাকা × ১০৩.৫০ = ৯৩,১৫,০০০ টাকা

১,০০,০০০ টাকা × ১০৩.৫০ = ১,০৩,৫০,০০০ টাকা

অর্থাৎ শেষ বেসিক ১ লাখ টাকা হলে এই প্রচলিত সূত্রে অঙ্ক দাঁড়ায় ১ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

সরকারি পেনশন ব্যবস্থায় অবসর সুবিধার হিসাব করতে একাধিক তথ্য প্রয়োজন হয়। সরকারি পেনশন ক্যালকুলেটরের বিভিন্ন সংস্করণে জন্মতারিখ, অবসরের তারিখ, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, পেনশনযোগ্য চাকরির মেয়াদ, শেষ মূলবেতন, নিট পেনশন এবং প্রাপ্য ছুটির মতো তথ্য ব্যবহার করা হয়।

এ ছাড়া ফলাফলেও Net Pension, Total Gratuity এবং Lump Grant আলাদাভাবে দেখানোর ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে পেনশন, গ্রাচুইটি ও লাম্প গ্রান্টকে একই ধরনের সুবিধা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অবসরের পর নিয়মিতভাবে যে অর্থ পাওয়া যায়, সেটি পেনশন। অন্যদিকে গ্রাচুইটি হলো অবসরকালীন একটি এককালীন আর্থিক সুবিধা। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে লাম্প গ্রান্টসহ অন্যান্য অবসর সুবিধাও পাওয়া যেতে পারে।

তাই অবসরের সময় একজন সরকারি কর্মচারী মোট কত টাকা পাবেন, তা জানতে শুধু শেষ বেসিকের ওপর একটি নির্দিষ্ট গুণক প্রয়োগ করলেই পুরো হিসাব পাওয়া যায় না।

অবসর সুবিধার হিসাব বোঝার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—

১. শেষ মূলবেতন: অবসরের সময়কার প্রাসঙ্গিক মূলবেতন পেনশন ও অবসর সুবিধার হিসাবের অন্যতম ভিত্তি।

২. পেনশনযোগ্য চাকরির মেয়াদ: একজন কর্মচারী কত বছর পেনশনযোগ্য চাকরি করেছেন, সেটিও হিসাবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

৩. অবসরের তারিখ: কখন অবসর নেওয়া হচ্ছে, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিধি ও হিসাবের সম্পর্ক রয়েছে।

৪. নিট পেনশন: সরকারি ক্যালকুলেটরের কাঠামোতে অবসরের সময়কার নিট পেনশনের তথ্যও ব্যবহৃত হয়।

৫. প্রাপ্য ছুটি: কিছু হিসাবের ক্ষেত্রে ছুটির মাসের তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয় এবং এর ভিত্তিতে লাম্প গ্রান্ট আলাদাভাবে নির্ধারিত হতে পারে।

শেষ বেসিক × ১০৩.৫০ সূত্রটি একটি প্রাথমিক বা প্রচলিত হিসাব হিসেবে ব্যবহার করে সম্ভাব্য একটি অঙ্ক সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যেতে পারে। যেমন, ৬০ হাজার টাকা শেষ বেসিক ধরে এই সূত্রে ৬২ লাখ ১০ হাজার টাকা পাওয়া যায়।

তবে এটিকে সরকারি কর্মচারীর চূড়ান্ত গ্রাচুইটি হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। অবসরের আগে নিজের প্রকৃত প্রাপ্য জানতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হিসাব শাখা, পেনশন মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি পেনশন ক্যালকুলেটরের হিসাব অনুসরণ করা উচিত।

শেষ বেসিক ৬০ হাজার টাকা হলে ১০৩.৫০ দিয়ে গুণ করে ৬২ লাখ ১০ হাজার টাকা পাওয়া যায়—গাণিতিকভাবে এই হিসাব ঠিক। কিন্তু এই অঙ্কই যে প্রত্যেক সরকারি কর্মচারীর চূড়ান্ত গ্রাচুইটি, তা নয়।

প্রকৃত অবসর সুবিধা নির্ধারণে চাকরির মেয়াদ, অবসরের তারিখ, শেষ মূলবেতন, নিট পেনশন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য বিবেচনা করা হয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত কোনো এক লাইনের সূত্রের ওপর নির্ভর না করে অবসরের আগে সরকারি হিসাব ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা যাচাই করাই নিরাপদ।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে