×
ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আমদানি-রপ্তানি ও বিনিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নিয়ম 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ১৮:৩২:০২
আমদানি-রপ্তানি ও বিনিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নিয়ম 

নিজস্ব প্রতিবেদক: সীমান্তপারের বাণিজ্যিক লেনদেন নিষ্পত্তিতে বাংলাদেশি টাকার ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে নির্দিষ্ট শর্তে বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের জন্য অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকে থাকা নন-রেসিডেন্ট টাকা বা ভোস্ট্রো হিসাবের অর্থ ব্যবহার করে যোগ্য আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যিক লেনদেন টাকায় নিষ্পত্তি করা যাবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক ভোস্ট্রো হিসাব পরিচালনা ও এর মাধ্যমে লেনদেন নিষ্পত্তির নতুন ব্যবস্থা তুলে ধরে একটি সার্কুলার জারি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন এই কাঠামোর লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে লেনদেন নিষ্পত্তির পদ্ধতিকে আরও বৈচিত্র্যময় করা এবং উপযুক্ত বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে টাকার ব্যবহার বাড়ানো।

বিদ্যমান ব্যবস্থায় অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো অবাধে রূপান্তরযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রায় দেশে আসা রেমিট্যান্সের বিপরীতে তাদের বিদেশি শাখা ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর জন্য টাকার ভোস্ট্রো হিসাব খুলতে পারত। নতুন ব্যবস্থায় এসব হিসাবে থাকা টাকা বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির আয় এবং অন্যান্য অনুমোদিত লেনদেন নিষ্পত্তিতে ব্যবহার করা যাবে।

ঋণপত্র (এলসি), চুক্তি ও চালানে লেনদেনের অর্থের পরিমাণ অবাধে রূপান্তরযোগ্য বা অন্যান্য অনুমোদিত মুদ্রায় উল্লেখ করার বর্তমান নিয়ম বহাল থাকবে। তবে চালানে উল্লেখ করা অর্থ প্রচলিত বিনিময় হারে বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর করে ভোস্ট্রো হিসাবের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যাবে।

অর্থাৎ, বাণিজ্যিক লেনদেনের মূল হিসাব বৈদেশিক মুদ্রায় নির্ধারিত থাকলেও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় তার সমপরিমাণ টাকা ব্যবহার করে বাংলাদেশে লেনদেন নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় উপযুক্ত পণ্য আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে অগ্রিম অর্থ পরিশোধেরও অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এ ধরনের লেনদেনে বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত বিধিবিধান ও প্রযোজ্য শর্ত অনুসরণ করতে হবে।

রপ্তানিকারকেরা টাকায় রপ্তানি আয় গ্রহণ করলেও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন। এর আওতায় উৎপাদনের উপকরণ আমদানির মূল্য পরিশোধ এবং রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) ঋণ পরিশোধের মতো অনুমোদিত কাজে অর্থ ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

ভোস্ট্রো হিসাবে লেনদেন নিষ্পত্তির পর কোনো উদ্বৃত্ত টাকা থাকলে তা বাংলাদেশে অনুমোদিত বিনিয়োগে ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ, বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল এবং ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

তবে এসব বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রচলিত আইন, বৈদেশিক মুদ্রা বিধিবিধান এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থার ফলে নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যে বাংলাদেশি টাকার ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অর্থ পরিশোধ ও নিষ্পত্তির প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে আরও একটি কাঠামো যুক্ত হলো।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কোন কোন দেশ বা ব্যাংক এই ব্যবস্থার আওতায় কার্যকরভাবে যুক্ত হবে, তার ওপর এর বাস্তব প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে।

সহজভাবে বললে, বাংলাদেশের কোনো ব্যাংকে বিদেশি ব্যাংকের নামে পরিচালিত হিসাবকে ভোস্ট্রো হিসাব বলা হয়। উদাহরণ হিসেবে, কোনো বিদেশি ব্যাংক বাংলাদেশে সরাসরি শাখা না খুলেও একটি বাংলাদেশি ব্যাংকে টাকায় ভোস্ট্রো হিসাব রাখতে পারে। ওই হিসাবে থাকা অর্থ ব্যবহার করে বাংলাদেশে অনুমোদিত বাণিজ্যিক লেনদেন নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন কাঠামোতে এই হিসাবের ব্যবহার আরও বিস্তৃত করে যোগ্য আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য লেনদেন টাকায় নিষ্পত্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে