×
ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দলীয় বহিষ্কারের পরও কেন এমপি পদ বহাল, ব্যাখ্যা দিলেন স্পিকার

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ০৯:২৪:৫১
দলীয় বহিষ্কারের পরও কেন এমপি পদ বহাল, ব্যাখ্যা দিলেন স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের নেওয়া পরবর্তী ব্যবস্থা দেখে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তবে শুধু দল থেকে বহিষ্কারের কারণে কোনো সংসদ সদস্যের পদ শূন্য হয় না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানিয়ে সংসদে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু দলীয় বহিষ্কার নিজে থেকেই সংসদ সদস্য পদ বাতিলের কারণ নয়। কোনো সংসদ সদস্য নিজে দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের আওতায় তাঁর আসন শূন্য হওয়ার বিষয়টি আসে।

গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চলমান মামলার প্রসঙ্গে স্পিকার জানান, পুলিশ কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়, সেটি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পুলিশের পদক্ষেপের পর নির্বাচন কমিশনের কাছে বিষয়টি পাঠানো হতে পারে। পাশাপাশি আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত এলে সেটিও সংসদ সদস্য পদ নিয়ে পরবর্তী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানান তিনি।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়া এবং মুক্তির পর পাঁচ বছর পূর্ণ না হওয়ার মতো বিষয়ও রয়েছে। কোনো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এসব সাংবিধানিক যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হতে পারে।

অন্যদিকে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে নির্বাচিত হওয়ার পর কোনো সংসদ সদস্যকে তাঁর রাজনৈতিক দল বহিষ্কার করলে তার ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে কি না—এ বিষয়ে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে সরাসরি কোনো বিধান নেই। এ ধরনের বিষয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী গত ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এরপর দলটির পক্ষ থেকে স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়ে তাঁর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। তবে বহিষ্কারের পরও তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল রয়েছে।

এর মধ্যে গাজী নজরুলকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয় তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এ ঘটনায় মরিয়মের বাবার করা মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটিতে গাজী নজরুল গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে রয়েছেন বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগগুলো এখনো বিচারাধীন; তাই মামলার অভিযোগকে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

দল থেকে বহিষ্কারের পর গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদীয় কমিটিতে না রাখার জন্যও জামায়াতে ইসলামী অনুরোধ জানিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে কয়েকটি কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে ৭ সেপ্টেম্বর সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটিতে তাঁর নাম রাখা হলেও জামায়াতের আপত্তির পর কমিটি পুনর্গঠন করে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়। এ নিয়ে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা হয়।

সব মিলিয়ে, গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। স্পিকারের বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশের পদক্ষেপ, সাংবিধানিক বিধান এবং প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশন বা আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হতে পারে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে