×
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছেলে-মেয়ের বয়ঃপ্রাপ্তির আলামত কী? জানুন শরিয়তের নির্দেশনা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ১৭:৪৬:৩৪
ছেলে-মেয়ের বয়ঃপ্রাপ্তির আলামত কী? জানুন শরিয়তের নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিশুকাল পেরিয়ে কৈশোরে প্রবেশ মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তন। ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতেও এ সময়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বয়ঃপ্রাপ্তির পর একজন মানুষের ওপর শরিয়তের বিভিন্ন বিধান ও দায়িত্ব প্রযোজ্য হয়।

ইসলামী ফিকহে সাধারণভাবে বয়ঃপ্রাপ্তি বা বুলুগ নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু বয়স নয়, নির্দিষ্ট শারীরিক আলামতকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ছেলে ও মেয়েদের ক্ষেত্রে এসব আলামতের কিছু পার্থক্য রয়েছে।

ছেলেদের বয়ঃপ্রাপ্তির আলামত

ছেলেদের ক্ষেত্রে বয়ঃপ্রাপ্তির অন্যতম প্রধান আলামত হলো স্বপ্নদোষ বা ঘুমের মধ্যে বীর্যপাত হওয়া। একইভাবে জাগ্রত অবস্থায় কোনো কারণে বীর্যপাত হলেও তা বয়ঃপ্রাপ্তির আলামত হিসেবে গণ্য হয়।

অর্থাৎ শারীরিকভাবে বয়ঃপ্রাপ্তির নির্দিষ্ট লক্ষণ প্রকাশ পেলে বয়স ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষা করতে হয় না। তবে এসব আলামত প্রকাশ না পেলে বয়সের সীমা বিবেচনায় নেওয়া হয়।

মেয়েদের বয়ঃপ্রাপ্তির আলামত

মেয়েদের ক্ষেত্রে মাসিক বা ঋতুস্রাব শুরু হওয়া বয়ঃপ্রাপ্তির একটি সুস্পষ্ট আলামত। এ ছাড়া বয়ঃপ্রাপ্তির অন্যান্য শারীরিক লক্ষণও ফিকহের আলোচনায় বিবেচিত হয়।

মাসিক শুরু হলে সংশ্লিষ্ট শরিয়তি বিধানগুলো প্রযোজ্য হয়। তাই মেয়েদের ক্ষেত্রে শুধু নির্দিষ্ট বয়স নয়, শারীরিক পরিবর্তনকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যদি কোনো ছেলে বা মেয়ের ক্ষেত্রে বয়ঃপ্রাপ্তির নির্দিষ্ট শারীরিক আলামত আগে প্রকাশ না পায়, তাহলে হিজরি হিসাবে ১৫ বছর পূর্ণ হলে তাকে বয়ঃপ্রাপ্ত হিসেবে গণ্য করার মত রয়েছে।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর বর্ণিত একটি হাদিসে দেখা যায়, উহুদের যুদ্ধে তাঁর বয়স ১৪ বছর হওয়ায় তাঁকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরবর্তী সময়ে খন্দকের যুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ১৫ বছর হলে তাঁকে অনুমতি দেওয়া হয়। এই বর্ণনাটি বয়ঃপ্রাপ্তির বয়সসীমা নির্ধারণের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। (সহিহ বুখারি, ২৬৬৪; সহিহ মুসলিম, ১৮৬৮)

কুরআনে বয়ঃপ্রাপ্তির উল্লেখ

পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নূরের ৫৯ নম্বর আয়াতে শিশুদের বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর বিষয়টি উল্লেখ করে পারিবারিক শিষ্টাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আয়াতে বলা হয়েছে, সন্তানরা যখন বয়ঃপ্রাপ্তির পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন ঘরে প্রবেশের ক্ষেত্রে তাদেরও বড়দের মতো অনুমতি নেওয়া উচিত।

এ থেকে বোঝা যায়, ইসলামে বয়ঃপ্রাপ্তিকে শুধু শারীরিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হয়নি; বরং এর সঙ্গে ব্যক্তির দায়িত্ব, আচরণ ও পারিবারিক শিষ্টাচারের পরিবর্তনও যুক্ত হয়েছে।

শরিয়তের দৃষ্টিতে বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার পর একজন মুসলিমের ওপর নামাজ, রোজাসহ প্রযোজ্য বিভিন্ন ফরজ ও শরিয়তি বিধান পালনের দায়িত্ব আসে। একই সঙ্গে নিজের কাজের জন্য জবাবদিহির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তাই ইসলামী দৃষ্টিতে বয়ঃপ্রাপ্তির নির্ধারণ শুধু একটি বয়স জানার বিষয় নয়। শারীরিক আলামত এবং বয়স—দুই বিষয়ই বিবেচনায় নেওয়া হয়। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে আলামত বা বয়স নিয়ে দ্বিধা থাকলে স্থানীয় বিশ্বস্ত আলেম বা মুফতির কাছ থেকে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী মাসআলা জেনে নেওয়া যেতে পারে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

লাইফ স্টাইল এর সর্বশেষ খবর

লাইফ স্টাইল - এর সব খবর



রে