×
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফার্মা-গার্মেন্টসসহ শিল্পখাতে নতুন দিকনির্দেশনা, গুরুত্ব পাচ্ছে আইপিআর

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ১২:৪২:০১
ফার্মা-গার্মেন্টসসহ শিল্পখাতে নতুন দিকনির্দেশনা, গুরুত্ব পাচ্ছে আইপিআর

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে শক্তিশালী বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ বা ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস (আইপিআর) ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় শিল্পখাতগুলোকে শুধু উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর ওপর নির্ভর করলে চলবে না। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে হলে উদ্ভাবন, ব্র্যান্ডিং, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং পণ্যে মূল্য সংযোজনের দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের কার্যকর সুরক্ষা ও প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল শিফট ইন দ্য পোস্ট-এলডিসি ইরা: স্ট্র্যাটেজিস ফর আইপিআর ইস্যুজ অব কি ইন্ডাস্ট্রিজ’ শীর্ষক ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশনে তিনি এসব কথা বলেন।

‘সাপোর্ট টু সাসটেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রজেক্ট’ (এসএসজিপি), অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও সাপোর্ট টু সাসটেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক এ এইচ এম জাহাঙ্গীর। পরে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

তাসকীন আহমেদ বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দৃশ্যমান সম্পদের পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে হলে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর আইপিআর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা জরুরি।

তার মতে, ফার্মাসিউটিক্যালস, তৈরি পোশাকসহ দেশের সম্ভাবনাময় শিল্পখাতগুলোকে ভবিষ্যতে আরও বেশি উদ্ভাবননির্ভর হতে হবে। একই সঙ্গে নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং পণ্যের মূল্য সংযোজন বাড়ানোর মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তবে দেশে বিদ্যমান আইপিআর ব্যবস্থায় বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ডিসিসিআই সভাপতি। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক কাঠামোর দীর্ঘসূত্রতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি, পাইরেসি ও নকল পণ্য প্রতিরোধে সীমিত সক্ষমতা এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে আইপিআর বিষয়ে পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাব এ খাতের বড় সমস্যা।

এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার পাশাপাশি আধুনিক ও কার্যকর ‘ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অফিস অব বাংলাদেশ’ (আইপিওবি) গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি।

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ নিয়ে বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে পৃথক আইপি ট্রাইব্যুনাল বা আইপি বেঞ্চ গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। একই সঙ্গে কাস্টমস ও পুলিশের কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষায়িত আইপিআর প্রশিক্ষণ চালুর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ডিসিসিআই সভাপতি ডিপার্টমেন্ট অব পেটেন্টস, ডিজাইনস অ্যান্ড ট্রেডমার্কসের (ডিপিডিটি) নিবন্ধন ও পরীক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি ডিজিটাল করার পরামর্শ দেন। তার মতে, ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জমে থাকা কাজ বা ব্যাকলগ কমানো সম্ভব হবে এবং আইপিআর-সংক্রান্ত সেবা আরও দ্রুত দেওয়া যাবে।

বিশেষায়িত খাতের জন্য দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। ফার্মাসিউটিক্যালস ও বায়োটেকনোলজির মতো প্রযুক্তিনির্ভর খাতে দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ পরীক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব দেন তিনি।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে টেকনোলজি ট্রান্সফার অফিস (টিটিও) গঠনের ওপর জোর দেন তাসকীন আহমেদ। শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও গবেষকদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর বাড়াতে একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও দেন তিনি।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মধ্যেও আইপিআর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ডিসিসিআই সভাপতি। তার মতে, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের অর্থনৈতিক মূল্য বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে অর্থায়নের ক্ষেত্রেও এ সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

ডিজিটাল পাইরেসি মোকাবিলায় কপিরাইট আইন এবং সংশ্লিষ্ট সাইবার বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যকর ‘নোটিশ অ্যান্ড টেকডাউন’ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের ফ্যাকাল্টি অব ল এবং ডব্লিউআইপিও একাডেমির সাবেক পরামর্শক মোহাম্মদ আতাউল করিম।

আলোচনা সভায় ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ফায়েজ আহমেদ, ব্রেইন স্টেশন ২৩ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রইসুল কবির, ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইপিএবি) পরিচালক জেনারেল এমদাদুল আজিজুর রহমান, বিজিএমইএর সেক্রেটারি জেনারেল মেজর জেনারেল ড. মো. শাহেদুল ইসলাম (অব.) এবং বাংলাদেশ অ্যাগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বামা) সভাপতি কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্য ও শিল্পখাতে নতুন বাস্তবতা তৈরি হবে। সেই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, ব্র্যান্ড এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের সুরক্ষা জোরদার করা গেলে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে—আলোচনায় মূলত এসব বিষয়ই গুরুত্ব পায়।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে