×
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসলামী ব্যাংক ঘিরে আবারও দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১৮:১৩:২০
ইসলামী ব্যাংক ঘিরে আবারও দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাকরিতে পুনর্বহালের এক দফা দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন ব্যাংকটির চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই সময়ে ব্যাংকের সামনে পাল্টা অবস্থান নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন এবং এস আলম গ্রুপের প্রভাবমুক্ত ব্যাংক পরিচালনার দাবিতে কর্মসূচি পালন করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই দিলকুশার ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে জড়ো হতে থাকেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরে তারা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে মানববন্ধন করেন। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, শাপলা চত্বর ও বাংলাদেশ ব্যাংকসংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য এবং ব্যাংকের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীদের মোতায়েন করা হয়।

চাকরিচ্যুতদের এক দফা দাবি

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, তাদের অনেককে কোনো ধরনের নোটিশ বা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, তারা ব্যাংকের নিয়মিত নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মী হওয়া সত্ত্বেও সরকার পরিবর্তনের পর চাকরি হারাতে হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের একজন বলেন, তাদের একমাত্র দাবি চাকরি ফিরে পাওয়া। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান না পাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

আরেক কর্মকর্তা দাবি করেন, চাকরি হারানোর পর অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে। সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচ চালাতে গিয়ে অনেকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

গ্রাহক ফোরামের পাল্টা অবস্থান

অন্যদিকে একই সময়ে ইসলামী ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেয় ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। সংগঠনটির নেতারা জানান, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিকের দাবি, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রক্রিয়া যখন শেষ পর্যায়ে, তখন একটি পক্ষ ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন বলেও জানান তিনি।

ফোরামের সদস্যসচিব মুতাসিম বিল্লাহর দাবি, এস আলম গ্রুপের সময়ে যথাযথ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অনেককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যদের বহাল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আন্দোলনকারীদের অনেকে সেই পরীক্ষায় অংশ নেননি বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণে তাদের পুনর্বহালের দাবির সঙ্গে ফোরাম একমত নয় বলে জানান তিনি।

তবে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের ভাষ্য, নিয়োগ বাতিলের প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অনেকেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। ফলে পরীক্ষায় অংশ না নেওয়াকে চাকরিতে পুনর্বহাল না করার একমাত্র কারণ হিসেবে দেখানো ঠিক নয় বলে দাবি তাদের।

আগের সংঘর্ষের পরও কর্মসূচি

এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষই ২০ থেকে ৩০ জনের বেশি সদস্য আহত হওয়ার দাবি করে। পুলিশ জানিয়েছিল, দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এরপর কয়েক দিন ধরে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার, শাপলা চত্বর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে পৃথক কর্মসূচি পালন করে আসছে দুই পক্ষ। এতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

গ্রাহক ফোরাম পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঋণের দায় নির্ধারণ এবং এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগের সম্পদ উদ্ধারের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পুনর্বহালের পাশাপাশি প্রাপ্য পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল এবং ব্যাংকের পরিচালনা কাঠামো নিয়ে বিরোধের সমাধান কীভাবে হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে