×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৬ হাজার ৫০০ কারখানায়  সংকট, সমাধানে নতুন প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ২০:১৩:১৪
৬ হাজার ৫০০ কারখানায়  সংকট, সমাধানে নতুন প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পোশাক ও টেক্সটাইল কারখানাগুলোতে গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় এলাকাভিত্তিক সাপ্তাহিক গ্যাস রেশনিং চালুর দাবি জানিয়েছে খাতটির শীর্ষ চারটি সংগঠন। একই সঙ্গে গ্যাসের সুষম পুনর্বণ্টন করে শিল্পাঞ্চলগুলোতে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে তারা। এ বিষয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) কাছে যৌথ আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) এবং বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিটিএলএমইএ)।

যৌথ চিঠিতে সংগঠনগুলো বলেছে, গ্যাস বণ্টনে বৈষম্যের কারণে দেশের বিভিন্ন প্রধান শিল্পাঞ্চলে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রপ্তানি আদেশ পূরণ ও পণ্য জাহাজীকরণ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। দীর্ঘ সময় ধরে এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে কারখানা সচল রাখা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনগুলো।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রতিদিন নামমাত্র গ্যাসের চাপে কারখানা চালিয়ে কম উৎপাদনশীলতার মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে পর্যায়ক্রমে নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলে পূর্ণ চাপে গ্যাস সরবরাহ করা হলে কারখানাগুলো তুলনামূলকভাবে দক্ষতার সঙ্গে উৎপাদন করতে পারবে। তার মতে, জিটিসিএল এলাকাভিত্তিক রেশনিং ব্যবস্থা চালু করলে কারখানাগুলো আগেভাগে উৎপাদন পরিকল্পনা সাজাতে পারবে এবং শ্রমিকদের বসিয়ে রেখে বেতন দেওয়ার পরিস্থিতিও কমানো সম্ভব হবে।

সংগঠনগুলোর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের ৯০ শতাংশের বেশি কারখানা তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির আওতাধীন এলাকায় অবস্থিত। তাদের হিসাব অনুযায়ী, মোট টেক্সটাইল ও পোশাক কারখানার প্রায় ৯৪ শতাংশ, অর্থাৎ আনুমানিক ৬ হাজার ৫০০টি কারখানা তিতাসের আওতাভুক্ত এলাকায় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন, যা এ খাতের মোট জনবলের প্রায় ৯২ শতাংশ। সংগঠনগুলোর দাবি, দেশের পোশাক খাতের বার্ষিক প্রায় ৫২ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই এসব কারখানা থেকে আসে।

চিঠিতে ২০২৬ সালের ৫ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিনের গ্যাস সরবরাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে তিতাস অঞ্চলে ঘাটতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনগুলোর হিসাবে, শিল্প ও ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ খাতে দেশের অনুমোদিত মোট গ্যাস চাহিদার ৭৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ, অর্থাৎ দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৪৮৮ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস তিতাসের আওতাধীন এলাকায় প্রয়োজন হয়।

তাদের হিসাবে, জিটিসিএলের কাছ থেকে তিতাসের দৈনিক ৯৮০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়ার কথা থাকলেও ৫ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর সময়ে গড়ে পাওয়া গেছে ৮৮৩ দশমিক ২০ এমএমসিএফডি। ফলে ওই সময়ে তিতাস এলাকায় দৈনিক গ্যাস ঘাটতি ছিল গড়ে ৯৬ দশমিক ৮০ এমএমসিএফডি। একই সময়ে দেশের অন্যান্য কিছু অঞ্চলে বরাদ্দের তুলনায় বেশি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল বলেও সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে।

যৌথ চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, দেশের অন্য পাঁচটি আঞ্চলিক গ্যাস বিতরণ কোম্পানি প্রতিদিন মোট ৩৭৩ দশমিক ৬০ এমএমসিএফডি গ্যাস পেয়েছে, যা তাদের আনুপাতিক বরাদ্দের তুলনায় ৭০ দশমিক ৩৭ এমএমসিএফডি বেশি। এ কারণে অতিরিক্ত সরবরাহের একটি অংশ তিতাস এলাকায় পুনর্বণ্টনের দাবি জানিয়েছে পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের সংগঠনগুলো।

সংকট মোকাবিলায় শিল্পাঞ্চলগুলোকে কয়েকটি নির্দিষ্ট জোনে ভাগ করে ঘূর্ণায়মান ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে তারা। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি জোনে সপ্তাহে টানা পাঁচ দিন পূর্ণ চাপে গ্যাস সরবরাহ করা হবে। বাকি দুই দিন সংযোগ বন্ধ রাখা অথবা সীমিত চাপে গ্যাস সরবরাহ করা যেতে পারে। এতে কারখানাগুলো আগে থেকেই উৎপাদন পরিকল্পনা তৈরি করে নিতে পারবে বলে মনে করছে সংগঠনগুলো।

তবে রেশনিংয়ের সময়সূচি তৈরির ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়াকরণ কারখানা, বয়লার পরিচালনা, পণ্য শিপমেন্টের সময়সীমা, শ্রম আইন এবং কারখানার নিরাপত্তা বিধি বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব বিতরণ অঞ্চলে বরাদ্দের তুলনায় অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে, সেখান থেকে তা তিতাস এলাকায় পুনর্বণ্টন করে শিল্পকারখানায় প্রয়োজনীয় লাইন প্রেসার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের সংগঠনগুলোর মতে, গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলে শুধু কারখানাগুলোই নয়, রপ্তানি আদেশ পূরণ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব পড়তে পারে। তাই শিল্পাঞ্চলে দ্রুত এলাকাভিত্তিক গ্যাস রেশনিং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং গ্যাসের সুষম বণ্টনের মাধ্যমে কারখানাগুলোকে সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে