×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনলাইনে জামিননামা, এক ক্লিকেই কমছে বন্দিদের ভোগান্তি

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১৭:৩২:০৬
অনলাইনে জামিননামা, এক ক্লিকেই কমছে বন্দিদের ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক: অনলাইনে জামিননামা দাখিলের ‘ই-বেইলবন্ড’ ব্যবস্থা চালুর ফলে জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে আসামিদের মুক্তির প্রক্রিয়া আগের তুলনায় দ্রুত হয়েছে। এতে সময় ও শ্রমের পাশাপাশি বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের হয়রানিও কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সার্ভারে প্রবেশ, ওটিপি পেতে দেরি এবং তথ্যগত ভুলসহ কিছু সমস্যার কথাও জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

এর একটি উদাহরণ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার একটি মাদক মামলার আসামি মো. সাইদুল ইসলাম। নীলফামারীতে গ্রেপ্তার হয়ে সেখানকার কারাগারে বন্দি থাকা সাইদুল ১০ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিন পান। ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থার কারণে মাত্র দুই দিনের মধ্যে, ১২ আগস্ট সকালে নীলফামারী জেলা কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আদনান মোল্লা।

আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, জামিন পাওয়ার দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাইদুলের জামিননামা অনলাইনে দাখিল করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টার মধ্যে জামিননামার তথ্য নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের সার্ভারে পৌঁছে যায়। পরে সেখান থেকে তথ্য নীলফামারী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। পরদিনই কারাগার থেকে মুক্তি পান সাইদুল।

অ্যাডভোকেট আদনান মোল্লা বলেন, আগের পদ্ধতিতে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় জামিননামার কাগজ পৌঁছাতে এবং পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষ করে কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পাঁচ থেকে সাত দিন পর্যন্ত সময় লাগত। ই-বেইলবন্ড চালুর ফলে সেই সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

বিচার বিভাগের কার্যক্রমে গতি আনা এবং বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি ও দুর্ভোগ কমানোর লক্ষ্যেই অনলাইনে জামিননামা দাখিলের এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। গত বছরের ১৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলায় প্রথম ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম শুরু হয়। পরে চলতি বছরের ১৩ আগস্ট আরও ১২টি জেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের মতে, অনলাইনে জামিননামা দাখিলের ফলে আদালত থেকে কারাগারে কাগজপত্র পৌঁছানোর ক্ষেত্রে আগের মতো হাতে হাতে নথি বহনের প্রয়োজন হচ্ছে না। পাশাপাশি কারামুক্তির তথ্য মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোসাম্মৎ মাহমুদা খাতুন বলেন, আগে আদালতের কর্মীদের হাতে করে জামিনের কাগজ কারাগারে নিয়ে যেতে হতো। অনলাইনে কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় এখন সময় ও শ্রম দুটোই কম লাগছে এবং বিচারপ্রার্থীদের হয়রানিও কমেছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের সুপার আব্দুল কুদ্দুছও ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থার সুফলের কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এ ব্যবস্থায় অনেকের ভোগান্তি কমেছে। বিশেষ করে জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্তি পর্যন্ত সময়ে যে ধরনের অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতো, সেটি অনেকটাই বন্ধ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তবে নতুন ব্যবস্থায় কিছু সমস্যাও রয়েছে। আইনজীবীদের কেউ কেউ সার্ভারে প্রবেশে সমস্যা এবং সময়মতো ওটিপি না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সরকার হুমায়ূন কবির বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত নন—এমন প্রবীণ আইনজীবীদের অনলাইনে জামিননামা দাখিলের ক্ষেত্রে কিছুটা জটিলতায় পড়তে হচ্ছে। অনেকে কম্পিউটারের দোকানের সহায়তা নেওয়ায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষানবীশ আইনজীবী রুবেল মিয়া তথ্যগত ভুলের কারণে কারামুক্তিতে বিলম্বের একটি উদাহরণ তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য, এক আসামির এজাহারে থাকা নামের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের নামের গড়মিল থাকায় জামিননামা ফেরত আসে। পরে সংশোধিত তথ্য পাঠাতে দেরি হওয়ায় জামিন পাওয়ার পরও ওই আসামির মুক্তি পেতে অতিরিক্ত সময় লাগে।

অ্যাডভোকেট আদনান মোল্লাও ওয়েবসাইটে প্রবেশ ও ওটিপি পাওয়ার ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তবে এসব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও অনলাইনে জামিননামা দাখিলের ব্যবস্থা বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের হয়রানি কমিয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ই-বেইলবন্ডের কার্যক্রম আরও সহজ করা এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটিগুলো দূর করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, পদ্ধতিগত উন্নয়ন করা গেলে এ ব্যবস্থার মাধ্যমে জামিন-পরবর্তী কারামুক্তির প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে