×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেয়ারবাজারের সংকট কাটাতে আসছে যেসব নতুন উদ্যোগ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৯:৪৩:৩৭
শেয়ারবাজারের সংকট কাটাতে আসছে যেসব নতুন উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের চলমান সংকট থেকে উত্তরণে শুধু সমস্যাগুলো চিহ্নিত করলেই হবে না, বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সমাধানের পথও বের করতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি, বাজারে তারল্য বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নিকুঞ্জে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বোর্ডরুমে দেশের শীর্ষ ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। বৈঠকে শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে বাজারের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল শেয়ারবাজারের উন্নয়ন নিয়ে অংশীজনদের মতামত ও বাস্তব অভিজ্ঞতা জানা। তাদের গঠনমূলক পরামর্শ বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং বিষয়গুলো ডিএসইর বোর্ড ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) জানানো হবে।

তিনি জানান, ডেরিভেটিভস মার্কেট চালুর প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক পাঁচটি ব্রোকারেজ-সংক্রান্ত ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের বিষয়েও ডিএসই কাজ করছে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, আলোচনায় বাজারের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয় এবং বর্তমান কঠিন পরিস্থিতি গুরুত্ব পেয়েছে। শুধু সমস্যার তালিকা তৈরি না করে প্রতিটি সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান বের করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা বাজারে তারল্য বাড়ানো ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন প্রস্তাব দেন। নতুন ট্রেডিং কৌশল ও আর্থিক পণ্য চালুর পাশাপাশি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা প্রি-ওপেনিং সেশন পুনরায় চালুর কারিগরি ও বাস্তব সম্ভাবনা পর্যালোচনার কথা বলা হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ স্কিমের মেয়াদ ও ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সময় বাড়ানো, ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক চাপ কমাতে মেম্বারস মার্জিন নেট-অফের সুযোগ এবং বাজারে বন্ডসহ বিভিন্ন আর্থিক ইন্সট্রুমেন্টের পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বক্তারা ইন্সপেকশন ও সার্ভিলেন্স কার্যক্রমকে আরও নিয়মিত, তথ্যনির্ভর, ঝুঁকিভিত্তিক ও স্বচ্ছ করার ওপর জোর দেন। তাদের মতে, স্বাভাবিক ট্রেডিং ভলিউমের পরিবর্তে অস্বাভাবিক মূল্য পরিবর্তন ও প্রকৃত অনিয়মের লক্ষণকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত ও প্রক্রিয়াগত বাধা দূর করা, বিনিয়োগকারী-কেন্দ্রিক সেমিনার ও সংলাপ আয়োজন এবং উচ্চ সম্পদসম্পন্ন বিনিয়োগকারী ও প্রকৃত মার্কেট প্লেয়ারদের সঙ্গে ডিএসইর যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আসতে উৎসাহিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে শেয়ার বাইব্যাকের সুযোগ চালুর সম্ভাবনা পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হয়।

নুজহাত আনোয়ার জানান, ডিএসইর আইটি ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা বোর্ড অনুমোদন করেছে এবং তা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। বিনিয়োগকারী সুরক্ষায় ইন্সপেকশন ও সার্ভিলেন্স কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং তথ্যভিত্তিক সফটওয়্যার উন্নয়নের কাজও চলছে।

তিনি আরও জানান, বিএসইসির উদ্যোগে সিডিবিএল, সিসিবিএল ও আইটি টিমের সমন্বয়ে নিয়মিত সভা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনলাইনে হিসাব খোলা, খুচরা বিনিয়োগকারীদের সেবা সহজ করা এবং টি+১ সেটেলমেন্টসহ বিভিন্ন বিষয়েও সমন্বিতভাবে কাজ চলছে।

ডিএসইর নতুন ওয়েবসাইটের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের প্রেস কনফারেন্সে এটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান নুজহাত আনোয়ার। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে পুরোনো ওয়েবসাইট আরও দুই থেকে তিন মাস চালু রাখা হবে।

তিনি বলেন, ডিএসইর কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি পুরো পুঁজিবাজারের ইকোসিস্টেম উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হবে।

সালমান ফারসি/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে