×
ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ব নেতাদের সামনে মোদির মিথ্যে অহংকার ফাঁস! 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ১২:০৯:৫৪
বিশ্ব নেতাদের সামনে মোদির মিথ্যে অহংকার ফাঁস! 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে ভারত নিজেকে বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। অবকাঠামো, প্রযুক্তি, মহাকাশ, ডিজিটাল অর্থনীতি ও কূটনীতিতে ভারতের অগ্রগতিকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

কিন্তু এই চকচকে ছবির পাশাপাশি ভারতের শহরগুলোর আরেকটি বাস্তবতাও রয়েছে—বস্তি, অনানুষ্ঠানিক বসতি, আবাসন সংকট ও ব্যাপক বৈষম্য।

সাম্প্রতিক ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে দিল্লির দরিদ্র এলাকাগুলো আড়াল করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। বিরোধী দল আম আদমি পার্টি অভিযোগ করেছে, আন্তর্জাতিক অতিথিদের সামনে শহরের বাস্তব চিত্র লুকিয়ে একটি সাজানো ছবি উপস্থাপন করা হচ্ছে।

২০২৩ সালের জি-২০ সম্মেলনের সময়ও দিল্লির দরিদ্র ও বস্তি এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে একই ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সম্মেলনের আগে শহরকে সাজাতে ব্যাপক সৌন্দর্যায়ন করা হয় এবং বিদেশি অতিথিদের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর আশপাশের কিছু দরিদ্র বসতি ও দোকান উচ্ছেদের অভিযোগ ওঠে।

২০২৬ সালের ব্রিকস সম্মেলনের আগেও দিল্লিতে নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কঠোর করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ব্যাপক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল ও দৈনন্দিন জীবনে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে বলে এপি জানিয়েছে।

ভারতের বস্তি সমস্যাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের জনগণনায় প্রায় ৬ কোটি ৫৫ লাখ ভারতীয় শহুরে বস্তিতে বসবাস করতেন। একই সময়ে শহরাঞ্চলের ১৩.৭ শতাংশ মানুষ জাতীয় দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিলেন।

আবাসন সংকট, গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন, অপর্যাপ্ত নগর পরিকল্পনা এবং আয়-বৈষম্য—সবকিছু মিলেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। ফলে শুধু রাস্তা, মেট্রো, বিমানবন্দর বা আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণ করলেই নগর উন্নয়নের পুরো চিত্র পাওয়া যায় না।

মোদি সরকার ভারতের দারিদ্র্য কমার বিষয়টি তুলে ধরে। ভারত সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার ২০০৫-০৬ সালের ৫৩.৮ শতাংশ থেকে ২০১৯-২১ সালে ১৬.৪ শতাংশে নেমেছে।

বিশ্বব্যাংকের বর্তমান ডেটাতেও ভারতের চরম দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে দেখা যায়। ২০২২ সালের হিসাবে দিনে ৩ ডলারের নিচে আয় করা মানুষের অনুপাত ৫.২৫ শতাংশ এবং বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার ১৭.৭৪ শতাংশ।

অর্থাৎ ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও দারিদ্র্য হ্রাসের বাস্তব তথ্য রয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন থেকে যায়—এই উন্নয়নের সুফল শহরের সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রায় কতটা পৌঁছেছে?

আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সময় কোনো শহরকে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখা স্বাভাবিক। কিন্তু সমালোচকদের প্রশ্ন, যদি দরিদ্র মানুষের বসতি শুধু বিদেশি অতিথিদের চোখ থেকে আড়াল করা হয়, তাহলে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না; বরং সমস্যাটিকে দৃশ্যের বাইরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এই বিতর্কের মূল প্রশ্ন তাই শুধু মোদিকে ঘিরে নয়। প্রশ্নটি আরও বড়—একটি দেশ যখন বিশ্বমঞ্চে নিজের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক শক্তি প্রদর্শন করে, তখন সেই দেশের সবচেয়ে দরিদ্র নাগরিকদের বাস্তবতাও কি সেই ছবির অংশ হওয়া উচিত নয়?

২০২৬ সালের ব্রিকস সম্মেলনে মোদি বিশ্বব্যবস্থায় ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর ভূমিকা বাড়ানোর কথা বলেছেন এবং বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ক্ষমতার ‘পিরামিড’ বদলে অংশীদারিত্বের কথা বলেছেন।

তাই ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু বিশ্বনেতাদের সামনে শক্তিশালী রাষ্ট্রের ছবি তুলে ধরা নয়; একই সঙ্গে দেশের বস্তিবাসী, নিম্নআয়ের মানুষ ও অনানুষ্ঠানিক শ্রমজীবীদের জীবনমান উন্নত করাও।

চকচকে দিল্লি যদি ভারতের একটি সত্য হয়, তাহলে বস্তিও ভারতের আরেকটি সত্য। প্রশ্ন হলো—বিশ্বকে ভারত কোন ছবিটি দেখাবে, আর নিজের নাগরিকদের জন্য কোন বাস্তবতা বদলাবে?

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে