×
ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার ভারত থেকে ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে!

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ০৬:৫১:০৮
এবার ভারত থেকে ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে!

নিজস্ব প্রতিবেদক : বছরের পর বছর দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ‘সৌজন্য উপহার’ হিসেবে ইলিশ পাঠানোর চিত্রই ছিল পরিচিত। তবে চলতি বছরে সেই চিত্রে এসেছে বড় পরিবর্তন। দেশের বাজারে ইলিশের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় ভারত থেকেই বাংলাদেশে ইলিশ আসছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত দুই মাসে ভারতের গুজরাত রাজ্য থেকে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ বাংলাদেশে এসেছে। এর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া পাইকারি মাছের বাজার থেকেও ইলিশ সংগ্রহ করছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা।

বিশ্বে ইলিশ আহরণে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। দেশের মোট ইলিশ উৎপাদনের বড় একটি অংশ অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রফতানিতেও ব্যবহৃত হয়।

তবে চলতি মৌসুমে নদী ও সাগরে প্রত্যাশিত পরিমাণ ইলিশ না পাওয়ায় দেশের বাজারে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সেই ঘাটতি পূরণে ব্যবসায়ীরা ভারতের বিভিন্ন উৎস থেকে ইলিশ সংগ্রহ করছেন বলে জানা গেছে।বিশেষ করে গুজরাতের ভারুচ বন্দর এবং পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার পাইকারি মাছের বাজার থেকে ইলিশ সংগ্রহের কথা উঠে এসেছে।

হাওড়া পাইকারি ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশে এবার ভারত থেকে ইলিশ পাঠানোর পরিমাণ বেড়েছে। বিশেষ করে ডিমভরা ইলিশের চাহিদা থাকায় গুজরাত থেকে মাছ সংগ্রহে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বেশি।

বাংলাদেশে আনার পর এসব ইলিশ প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রফতানির পাশাপাশি কিছু মাছ শুকিয়ে ‘নোনা ইলিশ’ হিসেবে স্থানীয় বাজারেও বিক্রি করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ইলিশ রফতানিতে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছে। তবে ২০১৯ সাল থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমিত পরিসরে ভারতে ইলিশ পাঠানো শুরু হয়।

করোনাভাইরাস মহামারির পর এ ধরনের রফতানির পরিমাণ আরও কমে যায়। গত বছর সরকার ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রফতানির অনুমতি দিলেও বাস্তবে ভারতে গেছে ১৪৩ দশমিক ৮০ টন। এর আগের দুই বছরেও রফতানির পরিমাণ ৬০০ টনের নিচে ছিল।

ফলে যে ইলিশ একসময় বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাঠানো হতো, চলতি মৌসুমে সেই ভারতের ইলিশই বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করছে—যা দুই দেশের ইলিশ বাণিজ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

নতুন সরকার গঠনের পর ইলিশ রফতানি নীতিতে কী পরিবর্তন আসবে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। সরকারের পক্ষ থেকে ইলিশকে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে না দেখে ‘সৌজন্য উপহার’ হিসেবে বিবেচনা করার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।এ কারণে চলতি বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে বাংলাদেশ থেকে কত পরিমাণ ইলিশ যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেই ইলিশের সরবরাহ নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন সীমিত পরিমাণে হলেও ভারতে ইলিশ রফতানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না, সেটিও আলোচনায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, প্রজনন মৌসুমে পর্যাপ্ত সংরক্ষণ না হওয়া এবং অবৈধভাবে ইলিশ আহরণসহ বিভিন্ন বিষয় মাছের উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে।উৎপাদন কমে গেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের বাজারে। ফলে সরবরাহ ঠিক রাখতে আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ পাঠানোর পুরোনো চিত্রের বিপরীতে এবার ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আসার ঘটনা বাজারে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে দেশের ইলিশের সরবরাহ ও উৎপাদন ধরে রাখতে হলে শুধু আমদানির ওপর নির্ভর না করে প্রজনন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া জরুরি।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে