×
ঢাকা, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১২ সেপ্টেম্বর ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দর একনজরে

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ১০:৩০:১৩
১২ সেপ্টেম্বর ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দর একনজরে

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। মাত্র এক দিন আগে দাম কমানোর পর এবার ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণে ৩ হাজার ৬৬১ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন—বাজুস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৪১ টাকা। শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে। বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি পর্যালোচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়। ফলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের মূল্য পরিবর্তন দেখা গেল, যা ক্রেতাদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বাজুসের নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট হলমার্ক করা প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৪১ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৯০ টাকা। একইভাবে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৭৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪০৬ টাকা। অর্থাৎ আগের দিনের দামের তুলনায় ২২ ক্যারেটে ৩ হাজার ৬৬১ টাকা, ২১ ক্যারেটে ৩ হাজার ৫৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ২ হাজার ৬৫৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণে ১ হাজার ১০০ টাকা বেড়েছে।

স্বর্ণের বাজারে এই দ্রুত পরিবর্তনের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ এর ঠিক এক দিন আগেই বাজুস দাম কমিয়েছিল। শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানেই দাম আবার ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৪১ টাকায় উঠে গেছে। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বরও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস এবং তখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। অর্থাৎ মাত্র তিন দিনের মধ্যে দেশের স্বর্ণের বাজারে দুই দফা বড় ধরনের মূল্য পরিবর্তন হয়েছে। বাজার বিশ্লেষণে এ ধরনের ঘন ঘন মূল্য সমন্বয় স্বর্ণের আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির অস্থিরতার বিষয়টিকেই সামনে নিয়ে আসে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে নতুন করে মূল্য নির্ধারণের প্রয়োজন হয়েছে। স্বর্ণের দাম নির্ধারণে পিওর গোল্ডের বাজারমূল্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়মূল্য এবং স্থানীয় বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় শেষ পর্যন্ত দেশের খুচরা স্বর্ণের দামে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে যারা বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে স্বর্ণ কিনতে চান, তাদের জন্য বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এক দিন আগে যারা স্বর্ণ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং পরবর্তী দিনের জন্য অপেক্ষা করেছেন, তাদের একই পরিমাণ স্বর্ণ কিনতে এখন কয়েক হাজার টাকা বেশি গুনতে হবে।

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও নতুন করে নির্ধারণ করেছে বাজুস। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপার দাম ৪৩০ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম ৪১০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপার দাম ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি গ্রামের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬৫ টাকা। ফলে মূল্যবান ধাতুর বাজারে শুধু স্বর্ণ নয়, রুপার ক্ষেত্রেও নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে।

তবে স্বর্ণের তালিকাভুক্ত দামই অলংকারের চূড়ান্ত ক্রয়মূল্য নয়। বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের ডিজাইন ও কাজের ধরন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। একই সঙ্গে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। অর্থাৎ ক্রেতারা দোকানে স্বর্ণের অলংকার কিনতে গেলে ঘোষিত স্বর্ণের দামের পাশাপাশি প্রযোজ্য মজুরির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

পুরোনো স্বর্ণের অলংকার এক্সচেঞ্জ বা বিক্রির ক্ষেত্রেও বাজুসের নির্ধারিত নিয়ম কার্যকর থাকবে। পুরোনো অলংকার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দেওয়ার পর ১২ শতাংশ এবং পুরোনো অলংকার পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ফলে পুরোনো স্বর্ণ বিক্রি করে নতুন অলংকার কেনার পরিকল্পনা করা ক্রেতাদেরও বর্তমান বাজারদরের পাশাপাশি এই হিসাবগুলো মাথায় রাখতে হবে।

সব মিলিয়ে, মাত্র এক দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম আবারও বাড়ায় দেশের জুয়েলারি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৪১ টাকা—যা সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণের উচ্চমূল্যের ধারাবাহিকতাকে আরও স্পষ্ট করছে। সামনে তেজাবী স্বর্ণের দাম, আন্তর্জাতিক বাজার এবং স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আবারও মূল্য সমন্বয় হতে পারে। তবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বাজুস নির্ধারিত নতুন মূল্যই কার্যকর থাকবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে