×
ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেখ হাসিনার নতুন ঘোষণায় দুই ভাগে বিভক্ত আ. লীগ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১১ ২০:২০:২৭
শেখ হাসিনার নতুন ঘোষণায় দুই ভাগে বিভক্ত আ. লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব কে দেবেন—এ প্রশ্নকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি অনুপস্থিত থাকলে দলের জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এই বক্তব্য প্রকাশের পরই আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

শেখ হাসিনা ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল-কে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বলেন, শেখ সেলিম বর্তমানে দলের সিনিয়রতম প্রেসিডিয়াম সদস্য। তার অনুপস্থিতিতে তিনিই সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন—এমন বক্তব্যের পর বিষয়টি আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা পেয়েছে। একই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নিজের দেশে ফেরার প্রস্তুতি এবং ডিসেম্বর মাসে ফেরার ইচ্ছার কথাও জানান।

তবে শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের ভেতরে এ বিষয়ে এক ধরনের মতপার্থক্যের ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে। দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত নেতৃত্ব নিয়ে কোনো সংকট বা দ্বন্দ্বের কথা অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হয় এবং শেখ হাসিনাই দলের সভাপতি আছেন ও থাকবেন। নতুন কোনো সিদ্ধান্তের জন্য দলের কাউন্সিলই উপযুক্ত ফোরাম বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতা মোহাম্মদ হাবিব মিল্লাতও জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা দলের সভাপতি আছেন এবং দলের প্রস্তুতির অন্যতম বিষয় হলো তার দেশে ফেরার বিষয়টি। শেখ সেলিমকে ভবিষ্যৎ সভাপতি করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানেন না। ফলে শেখ হাসিনার বক্তব্য এবং দলীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্যটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শেখ সেলিমকে ঘিরে আলোচনার আরেকটি কারণ হলো আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি। দলের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং দলীয় কার্যক্রমও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের একক নেতৃত্বের পর অনুপস্থিত অবস্থায় দায়িত্ব পালনের প্রশ্নটি আওয়ামী লীগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আওয়ামী লীগের ইতিহাসেও নেতৃত্বের প্রশ্নে বিভাজনের নজির রয়েছে। ১৯৭৫ সালের পর দলটি সাংগঠনিক সংকটে পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে নেতৃত্বের বিরোধ দেখা দেয়। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দলের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ধীরে ধীরে তার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী কয়েক দশকে দলটির সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার কর্তৃত্ব আরও শক্তিশালী হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই মূল প্রশ্ন শুধু শেখ সেলিম সভাপতি হবেন কি না—তা নয়; বরং শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাঠামো কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্ব যদি স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত না হয়, তাহলে দলের ভেতরে গ্রুপিং ও মতবিরোধ বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন সমীকরণ সামনে এসেছে। একদিকে শেখ সেলিমের নাম সরাসরি উঠে এসেছে, অন্যদিকে দলের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনাই এখনো সভাপতি এবং গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছাড়া নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রশ্ন নেই। ফলে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের কাঠামো কোন পথে যায়, সেটিই এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অন্যতম আগ্রহের বিষয়।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে