×
ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অবশেষে ভারত নয়, বাংলাদেশই ভারতকে চালায়

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১১ ২০:১২:৩৩
অবশেষে ভারত নয়, বাংলাদেশই ভারতকে চালায়

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের বাণিজ্যনীতিতে পরিবর্তন, ভারতের ওপর দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলেও দুই দেশের বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলেও দুই দেশের বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। বাংলাদেশের আমদানির বড় একটি অংশ দীর্ঘ সময় ভারত থেকে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও বৈচিত্র্যময় করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

বাংলাদেশ এখন শুধু একটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভর না করে চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর ফলে আমদানির উৎস যেমন বিস্তৃত হচ্ছে, তেমনি বাংলাদেশি পণ্যের জন্যও নতুন বাজার খোঁজার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বহুমুখী হলে ভারতের ঐতিহ্যগত বাজার-প্রভাব কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে ভারতীয় পণ্যের বিকল্প হিসেবে অন্য দেশ থেকে পণ্য আমদানির সুযোগ বাড়লে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা সরবরাহকারী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরও বেশি বিকল্প পাবেন।

তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—ভারত বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি আমদানি উৎস নয়; দুই দেশের মধ্যে স্থলবন্দর, সীমান্তবাণিজ্য, পরিবহন ও আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থারও গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তাই সম্পর্কের বৈচিত্র্যকরণকে সরাসরি ভারতবিরোধী অবস্থান হিসেবে দেখার চেয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত।

ভারতের কিছু রাজনৈতিক বক্তব্য ও গণমাধ্যমের প্রচারণার সমালোচনা করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ভারতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল—এমন একটি ধারণা দীর্ঘদিন ধরে প্রচারিত হয়েছে। ভিডিওটির ভাষ্যকারের মতে, বাংলাদেশের বর্তমান উদ্যোগ দেখাচ্ছে যে দেশটি একক কোনো দেশের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চাইছে।

এখানে মূল বিষয় হলো অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও দর-কষাকষির সক্ষমতা। একাধিক দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলে কোনো একটি দেশের সরবরাহব্যবস্থা, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা বাজার পরিস্থিতির ওপর বাংলাদেশের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কমতে পারে।

বিশেষভাবে চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এসব দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ হলে বাংলাদেশ নতুন সরবরাহকারী, বিনিয়োগকারী ও রপ্তানি বাজার পেতে পারে।

তবে নতুন বাজারে প্রবেশের পাশাপাশি পণ্যের মান, উৎপাদন সক্ষমতা, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, লজিস্টিকস এবং বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরতা কমালেই হবে না; নতুন অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্য যেন বাংলাদেশের জন্য বাস্তব অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি করে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও কূটনীতিতে একটি বহুমুখীকরণের প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে।

অর্থাৎ বিষয়টি শুধু ‘ভারতের বদলে অন্য দেশ’ নয়; বরং বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে—একাধিক দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রেখে নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। এই পরিবর্তন সফল হলে দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সমীকরণেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে