×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাটওয়ারীর গাড়ির পর এবার আসিফের ফ্ল্যাট বিতর্ক

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ০৮:১৬:৪৯
পাটওয়ারীর গাড়ির পর এবার আসিফের ফ্ল্যাট বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক : অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়ম এবং টেন্ডার-সংক্রান্ত দুর্নীতির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগগুলোর মধ্যে তার বর্তমান বাসস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, তিনি যে বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন, সেটি আওয়ামী লীগ সরকারের একজন সাবেক মন্ত্রীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে ওই ফ্ল্যাট ব্যবহারের সুযোগ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামাল ফারাবী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসিফ মাহমুদের বাসস্থান ও ব্যবহৃত গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন দাবি করেছেন।

তার দাবি অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদ রাজধানীর স্কাটন গার্ডেন এলাকার একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রায় ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের ছয় আসনের টয়োটা ব্র্যান্ডের ভক্সি গাড়ি ব্যবহার করছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া একই ভবনের বাণিজ্যিক অংশে ভিআইপিদের জন্য একটি জিমনেসিয়াম তৈরির কাজ চলছে বলেও ওই আইনজীবী দাবি করেছেন। এসব বিষয় নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তবে এসব দাবির স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যও এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।অভিযোগের আরেকটি অংশ ওই ভবনের মালিকানা, নির্মাণ ও ফ্ল্যাট বরাদ্দকে ঘিরে।

অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের জমি দখল করে একটি প্রভাবশালী মহল ২০ তলা ভবন নির্মাণ করে। পরবর্তী সময়ে তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রভাবে সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চমূল্যে ওই ভবনের বিভিন্ন ফ্লোর কিনতে বাধ্য হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ওই ভবনের ফ্ল্যাটগুলোর ক্ষেত্রে সরকারি অনুমোদন ও রাজউকের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।

বদলি, নিয়োগ-পদোন্নতি, টেন্ডার এবং বাসস্থান-সংক্রান্ত অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা কী—এখন সেটিই মূল প্রশ্ন। দুদকের তদন্ত কমিটি অভিযোগগুলো যাচাই করে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, আর্থিক লেনদেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখবে।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। আর অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না মিললে সেগুলোর ভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়বে।

আসিফ মাহমুদকে ঘিরে এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার রাজনৈতিক ভূমিকা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ।

তবে অভিযোগ ওঠা মানেই তা প্রমাণিত হওয়া নয়। অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য দুদকের তদন্ত শেষ হওয়া এবং প্রাসঙ্গিক নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়ে আসিফ মাহমুদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর বিপরীত অবস্থানও প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন হবে। শেষ পর্যন্ত দুদকের তদন্তেই নির্ধারিত হবে—উত্থাপিত অভিযোগগুলোর কতটা সত্য এবং কতটা ভিত্তিহীন।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে