×
ঢাকা, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাসিনার নামে দেশে যা যা  সম্পদ আছে, ধানমন্ডি ৩২ কি তাঁর নামে? 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ০৮:৩৫:৩৩
হাসিনার নামে দেশে যা যা  সম্পদ আছে, ধানমন্ডি ৩২ কি তাঁর নামে? 

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী হিসেবে দেওয়া হলফনামায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেছিলেন। তবে তার সম্পদের হিসাব এবং জমির মালিকানা নিয়ে বর্তমানে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে।

হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ছিল। এছাড়া ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও ৫৫ লাখ টাকার এফডিআরের তথ্যও উল্লেখ করা হয়। তার সম্পদের তালিকায় নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু এবং আসবাবপত্রও ছিল।

গাড়ির ক্ষেত্রে তিনি তিনটি মোটরগাড়ির তথ্য দেন। এর মধ্যে একটি গাড়ি উপহার হিসেবে পাওয়া বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছিল।

শেখ হাসিনার সম্পদ নিয়ে আলোচনায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটির মালিকানার বিষয়টিও সামনে আসে। বাড়িটিকে অনেক সময় শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, এর মালিকানা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে।

অর্থাৎ, নথি অনুযায়ী বাড়িটি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত নয়।

একইভাবে ধানমন্ডির সুধা সদনের মালিকানাও শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নামে নয়। বাড়িটির মালিক হিসেবে তার দুই সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদের নাম রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন প্লট ও জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া এবং এর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর তদন্তসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালের নির্বাচনী হলফনামায় শেখ হাসিনা নিজের নামে যে পরিমাণ জমির তথ্য দিয়েছিলেন, পরবর্তী অনুসন্ধানে তার চেয়ে অনেক বেশি স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, এসব সম্পদের পরিমাণ ২৮ একরেরও বেশি। অতিরিক্ত এই সম্পদের উৎস, মালিকানা এবং কীভাবে এসব জমি বরাদ্দ হয়েছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের নামে বিপুল পরিমাণ জমি বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা এখনো বিচারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

ফলে শেখ হাসিনার নির্বাচনী হলফনামায় ঘোষিত সম্পদ এবং পরবর্তী তদন্তে উঠে আসা সম্পদের তথ্যের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

একদিকে হলফনামায় তিনি প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য দিয়েছিলেন। অন্যদিকে দুদকের অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জমি ও সম্পদের তথ্য পাওয়ার দাবি করা হচ্ছে।

তবে কোনো সম্পদ হলফনামায় উল্লেখ না করা বা কোনো জমি বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা প্রয়োজন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে