×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এনবিআরের নতুন আদেশ ঘিরে পোশাকশিল্পে উদ্বেগ, জরুরি বৈঠকের দাবি

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ১২:২৬:০০
এনবিআরের নতুন আদেশ ঘিরে পোশাকশিল্পে উদ্বেগ, জরুরি বৈঠকের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পে ব্যবহৃত ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে এসব সুতা আমদানির সুযোগ পাবেন প্রকৃত রপ্তানিকারকরা।

তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্পের দুই শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। তারা জরুরি ভিত্তিতে সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এনবিআরের কাস্টমস, রপ্তানি ও বন্ড শাখা থেকে জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফের এইচএস হেডিং ৫২০৫, ৫২০৬ ও ৫২০৭-এর আওতাধীন ১০–৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তবে ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারী প্রকৃত রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে এসব সুতা আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারককে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ অথবা বিটিএমএর প্রত্যয়নপত্র সংশ্লিষ্ট কাস্টমস স্টেশনে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি আমদানির সময় প্রযোজ্য শুল্ক ও করের সমপরিমাণ অর্থের নিঃশর্ত ও অব্যাহত ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে।

আমদানি করা কাঁচামাল দিয়ে তৈরি পণ্য সম্পূর্ণভাবে রপ্তানি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে ওই ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত করা যাবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ২৬৬ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে জারি করা আদেশটি ৭ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর হয়েছে। তবে আদেশ জারির আগে জাহাজীকরণ করা পণ্যচালানের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

কেন আপত্তি পোশাকশিল্পের?এনবিআরের সিদ্ধান্তের পরদিনই বাণিজ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম স্বাক্ষরিত চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, গত ২০ আগস্ট বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভায় ১০–৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা হয়নি।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে ওই সভার কার্যবিবরণীতে বিষয়টি সিদ্ধান্ত হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠন দুটি। তাদের দাবি, আলোচনার বাইরে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কার্যবিবরণীতে যুক্ত হওয়ায় তারা বিস্মিত।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, কার্যবিবরণীর একটি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০–৩০ কাউন্টের কটন সুতার আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে আমদানির কথা বলা হয়েছে।

অন্য একটি প্রস্তাবে রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রয়োজনীয় সুতার অন্তত ৫০ শতাংশ স্থানীয় স্পিনিং মিল থেকে সংগ্রহ বাধ্যতামূলক এবং বাকি ৫০ শতাংশ আমদানির সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।

বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ মনে করছে, এই ব্যবস্থা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা পোশাকশিল্পের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

দুই সংগঠনের দাবি, বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো তাদের উৎপাদন সক্ষমতার ৫০ শতাংশের বেশি ব্যবহার করতে পারছে না।

এ অবস্থায় শুধু স্থানীয় উৎস থেকে রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের প্রয়োজনীয় সুতা সরবরাহ করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছে তারা।

তাদের আরও দাবি, রপ্তানি আদেশ কম থাকায় বর্তমানে পোশাকশিল্পে সুতার চাহিদাও তুলনামূলক কম। এরপরও স্থানীয় বাজারে সুতার দাম বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাজারে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল একচেটিয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে কি না, সে প্রশ্নও তুলেছে সংগঠন দুটি।

বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ বলছে, দীর্ঘদিনের বন্ড ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করেই বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্প বিকশিত হয়েছে। হঠাৎ বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে।

একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছে তারা।

সংগঠন দুটির মতে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিযোগী দেশ তাদের রপ্তানিমুখী শিল্পকে উৎসাহিত করতে বন্ড সুবিধা চালু বা সম্প্রসারণ করছে। সেখানে বাংলাদেশে উল্টো এ সুবিধা সীমিত করা হলে দেশের রপ্তানিকারকরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ২০ আগস্টের সভার আলোচনার বাইরে নেওয়া সিদ্ধান্তের ৫-এর ‘ক’ ও ‘খ’ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।

প্রয়োজনে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) প্রতিনিধিদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তাবও দিয়েছে তারা।

চিঠির অনুলিপি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছেও পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

সব মিলিয়ে, কাঁচামাল আমদানির নতুন এই বিধানকে কেন্দ্র করে সরকার ও তৈরি পোশাকশিল্পের সংগঠনগুলোর মধ্যে নতুন করে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। সিদ্ধান্তটি বহাল থাকলে রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলোর কাঁচামাল সংগ্রহ, উৎপাদন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপর কী প্রভাব পড়ে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে