ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬

গ্রাহক আদায় বাড়ায় ওয়ালটন হাই-টেকের নগদ প্রবাহে বড় উন্নতি

২০২৬ আগস্ট ৩০ ১২:১০:২৬
গ্রাহক আদায় বাড়ায় ওয়ালটন হাই-টেকের নগদ প্রবাহে বড় উন্নতি

নিজস্ব প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১৮০ শতাংশ নগদ এবং ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দেওয়ার সুপারিশ করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩৩ টাকা ৭৫ পয়সা। একই সময়ে পুনর্মূল্যায়নসহ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৮১ টাকা ২৬ পয়সা এবং পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া এনএভিপিএস হয়েছে ২৮০ টাকা ২৪ পয়সা। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৬৩ টাকা ৭২ পয়সা।

এর বিপরীতে, ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ৩১ টাকা ১১ পয়সা। পুনর্মূল্যায়নসহ এনএভিপিএস ছিল ৩৬৩ টাকা ৪০ পয়সা এবং পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া ২৬২ টাকা ৮ পয়সা। একই সময়ে এনওসিএফপিএস ছিল ৫২ টাকা ৯১ পয়সা।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে ইপিএস বৃদ্ধির প্রধান কারণ অর্থায়ন ব্যয় কমে যাওয়া। ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির অর্থায়ন ব্যয় আগের বছরের তুলনায় ২৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা কমেছে। চলতি অর্থবছরে অর্থায়ন ব্যয় বিক্রয়ের ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ, যেখানে আগের অর্থবছরে তা ছিল বিক্রয়ের ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ। আগের বছরে অর্থায়ন ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৪৪৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

এ কারণে ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়ে ৩৩ টাকা ৭৫ পয়সায় উন্নীত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩১ টাকা ১১ পয়সা।

অন্যদিকে, কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনওসিএফপিএস ৬৩ টাকা ৭২ পয়সায় উন্নীত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫২ টাকা ৯১ পয়সা।

কোম্পানির তথ্যমতে, এনওসিএফপিএস বৃদ্ধির পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় বৃদ্ধি এবং সরবরাহকারীদের অর্থ পরিশোধ কমে যাওয়া। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় ৬৯৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বা ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে সরবরাহকারীদের অর্থ পরিশোধ ২ দশমিক ৩১ শতাংশ কমেছে।

স্টক ডিভিডেন্ড দেওয়ার কারণ

কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, চলমান সক্ষমতা সম্প্রসারণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিএমআরই-এর আওতায় গ্রিন এনার্জির মাধ্যমে কোম্পানির নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে অর্থায়নের উদ্দেশ্যে ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া স্টক ডিভিডেন্ড শুধু কোম্পানির সংরক্ষিত আয় বা রিটেইনড আর্নিংস থেকে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, মূলধন রিজার্ভ, পুনর্মূল্যায়ন রিজার্ভ বা কোনো অবাস্তবায়িত মুনাফা থেকে স্টক ডিভিডেন্ড দেওয়া হবে না। একইভাবে কোম্পানি প্রতিষ্ঠার আগে অর্জিত মুনাফা থেকে, পরিশোধিত মূলধন কমিয়ে কিংবা এমন কোনো উপায়ে স্টক লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়নি, যার ফলে লভ্যাংশ দেওয়ার পর সংরক্ষিত আয় ঋণাত্মক হয়ে যায় বা ডেবিট ব্যালান্সে পরিণত হয়।

অর্থাৎ, ঘোষিত স্টক ডিভিডেন্ড প্রদানের ক্ষেত্রে কোম্পানি শুধু সংরক্ষিত আয় ব্যবহারের নীতি অনুসরণ করেছে এবং মূলধন বা পুনর্মূল্যায়ন রিজার্ভসহ অননুমোদিত কোনো উৎস থেকে তা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ১২টায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য শেয়ারহোল্ডার নির্ধারণে রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে