ঢাকা, বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

২০২৬ আগস্ট ২৬ ১৫:৩১:৩০
বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

একই সঙ্গে এসব পণ্যের অনুকূলে বিএসটিআই দেওয়া লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণ পাওয়ায় ভোক্তাদের এসব পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই।

বুধবার (২৬ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় বিএসটিআই।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বাজার থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য সংগ্রহ করে বিএসটিআইয়ের অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় বেশ কিছু পণ্যের মান নির্ধারিত মান অনুযায়ী পাওয়া গেলেও কিছু ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলার মান নিম্নমানের প্রমাণিত হয়।

বিএসটিআই জানায়, পরীক্ষায় বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ঘিতে দুধের চর্বি (মিল্ক ফ্যাট) পাওয়া যায়নি। পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে পণ্যটি ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছে বলে পরীক্ষায় উঠে এসেছে।

এ ছাড়া বম্বে সুইটসের বিভিন্ন মসলায় বাংলাদেশ মানের নির্ধারিত কয়েকটি প্যারামিটারে ঘাটতি পাওয়া গেছে।

পরীক্ষায় বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত কারি পাউডার, হাঁসের মাংসের মসলা (ব্যাচ নং-১৪১২২৪), তেহারি মসলা (ব্যাচ নং-১৪০২২৬), কালা ভুনা মসলা (ব্যাচ নং-২৬০৯২৭), গরুর মাংসের মসলা (ব্যাচ-এ) এবং মাছের মসলা (ব্যাচ নং-এ) নির্ধারিত মানের তুলনায় মোট অ্যাশ ও লবণের মাত্রা বেশি থাকায় পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে।

নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েল পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ও ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় এসব পণ্যে রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু ও পলেনস্কে ভ্যালুসহ বিভিন্ন মানদণ্ড নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।

বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, পণ্যের মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল রোধে সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের মাধ্যমে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে বিএসটিআই।

পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, উপাদানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করতে ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছেন মহাপরিচালক।

কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা কিংবা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা বিএসটিআইয়ের হটলাইন ১৬১১৯ নম্বরে জানাতে অথবা [email protected] ঠিকানায় ই-মেইল করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে