ঢাকা, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

হঠাৎ শেয়ারের অস্বাভাবিক লেনদেন ও দাম, তদন্তে ডিএসই

২০২৬ আগস্ট ২৩ ২১:৪৭:৫১
হঠাৎ শেয়ারের অস্বাভাবিক লেনদেন ও দাম, তদন্তে ডিএসই

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে আমরা টেকনোলজিসের শেয়ারদর ও লেনদেনে অস্বাভাবিক প্রবণতা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই। অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও লেনদেনের ধরন তদন্ত করতে ডিএসইকে নির্দেশ দিয়েছে শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, তদন্ত শেষ করে আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে ডিএসইকে।

বিএসইসির নজরে আসে আমরা টেকনোলজিসের শেয়ার। গত ৯ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১০৮ শতাংশ বেড়ে ২৩ টাকা ১০ পয়সায় উঠেছিল। পরবর্তী সময়ে অবশ্য শেয়ারটির দর কমতে শুরু করে।

তদন্তের জন্য ডিএসইকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত বা টার্মস অব রেফারেন্স নির্ধারণ করে দিয়েছে বিএসইসি।

তদন্তের অংশ হিসেবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সমন্বিতভাবে কোনো কারসাজি, কৃত্রিম লেনদেন কিংবা আইনবহির্ভূত কার্যক্রম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্যের অপব্যবহারসহ কোনো ধরনের ইনসাইডার ট্রেডিং হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকবে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার, ডিলার কিংবা অনুমোদিত প্রতিনিধিরা মার্জিনসংক্রান্ত বিধিমালা, বিভিন্ন আদেশ, প্রজ্ঞাপন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেছেন কি না, তাও যাচাই করবে ডিএসই।

আমরা টেকনোলজিসের শেয়ারদর ও লেনদেনে অস্বাভাবিকতার পেছনে সংশ্লিষ্ট ব্রোকার ও ডিলারদের কোনো ভূমিকা বা দায়িত্ব ছিল কি না, সেটিও তদন্তে বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অস্বাভাবিক শেয়ারদর বৃদ্ধি কিংবা সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হলে দ্রুত নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে অবহিত করার বিষয়ে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত প্রতিনিধি, কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাহীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির নির্দেশও দিয়েছে বিএসইসি। এ জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে ডিএসইকে বলা হয়েছে।

এদিকে ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত আমরা টেকনোলজিসের ২০২৫ অর্থবছরের আর্থিক বিবরণীতেও কিছু অসঙ্গতি চিহ্নিত করেছেন কোম্পানিটির নিরীক্ষক।

নিরীক্ষক জানিয়েছেন, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি (বিটিসিএল) থেকে বকেয়া ও অন্যান্য প্রদেয় অর্থের বাহ্যিক নিশ্চয়তা না পাওয়ায় এসব দায়ের পূর্ণতা ও নির্ভুলতা যাচাইয়ের জন্য পর্যাপ্ত ও যথাযথ নিরীক্ষা প্রমাণ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

এ কারণে আর্থিক বিবরণীতে কোনো ধরনের সমন্বয় প্রয়োজন ছিল কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত হতে পারেননি নিরীক্ষক। এ ছাড়া কোম্পানিটি প্রযোজ্য ডিভিডেন্ড কর সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়নি বলে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশে প্রচলিত কর আইন অনুযায়ী, অর্থবছরজুড়ে বিভিন্ন ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কর ও ভ্যাট যথাযথভাবে কর্তন করেনি কোম্পানিটি।

এর ফলে সংশ্লিষ্ট কর দায় আর্থিক বিবরণীতে স্বীকৃতি না দেওয়ায় কোম্পানিটির আর্থিক বিবরণীতে গুরুত্বপূর্ণ ধরনের ভুল তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে