ঢাকা, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬

নালা খননের সময় মিলল ১২৭ কোটি টাকার স্বর্ণ

২০২৬ আগস্ট ১৭ ১১:১৪:০৫
নালা খননের সময় মিলল ১২৭ কোটি টাকার স্বর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেলজিয়ামে পুরোনো পয়োনিষ্কাশন পাইপলাইন পরিবর্তনের জন্য খননকাজ চালানোর সময় ভূগর্ভস্থ একটি দেয়াল থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার করা স্বর্ণের মধ্যে রয়েছে স্বর্ণের বার, বিরল স্বর্ণমুদ্রা ও স্বর্ণের টুকরো। এসবের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৯০ লাখ ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১২৭ কোটি টাকা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সিন্ট-জিলিস-ডেন্ডারমন্ড এলাকায়। গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পুরোনো ভূগর্ভস্থ পাইপ পরিবর্তনের কাজ চলার সময় ১৮ বছর বয়সী চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক কোবে প্রথম স্বর্ণের সন্ধান পান।

খননকাজের সময় মাটি ও প্লাস্টিকের নিচে চকচকে একটি বস্তু দেখতে পান কোবে। প্রথমে সেটিকে সাধারণ ১ ইউরোর মুদ্রা বলে মনে করেছিলেন তিনি।

তবে বস্তুটি পরিষ্কার করার পর তিনি দেখতে পান, সেটি আসলে একটি স্বর্ণের বার। এরপর ওই এলাকায় আরও অনুসন্ধান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের সন্ধান পাওয়া যায়।

কোবে জানান, দেয়ালের ভেতরে স্বর্ণগুলো যেভাবে গাঁথুনি দিয়ে রাখা হয়েছিল, তাতে মনে হয়েছে এগুলো পরিকল্পিতভাবে সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

উদ্ধার করা স্বর্ণগুলো উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে ‘থিওফিলাস ভ্যান আস’ নামে এক ধনাঢ্য মদ প্রস্তুতকারকের ভিলার পুরোনো সেলারের দেয়ালের ভেতরে লুকানো ছিল বলে জানা গেছে।

দেয়ালের ভেতর থেকে প্লাস্টিকের ব্যাগে সাজানো অবস্থায় পাওয়া যায় বিরল স্বর্ণমুদ্রা, স্বর্ণের টুকরো এবং নির্দিষ্ট নম্বরযুক্ত মূল্যবান স্বর্ণের বার।

ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, ১৮৯৯ সালে ওই স্থানে অ্যালকোহল ও বিয়ার উৎপাদনের কারখানা চালু হয়েছিল। কারখানাটি ১৯৭০ সালে বন্ধ হয়ে যায়। ভবনটির মূল ফটকে এখনো প্রতিষ্ঠাতা ‘ভ্যান আস’-এর নামের আদ্যক্ষর ‘ভিএ’ খোদাই করা রয়েছে।

বর্তমানে সামাজিক কল্যাণ সংস্থা ‘সিএডব্লিউ ওস্ট-ভ্লাদেরেন’ সেখানে নতুন কার্যালয় ও আবাসন নির্মাণের জন্য সংস্কারকাজ চালাচ্ছিল।

স্বর্ণ উদ্ধারের পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তায় সব স্বর্ণের বার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ব্রাসেলসের একটি সুরক্ষিত ব্যাংকিং ভল্টে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এত বিপুল সম্পদের প্রকৃত মালিক কে?স্থানীয় প্রশাসন এরই মধ্যে আইনগত মালিক বা বৈধ উত্তরাধিকারীর সন্ধানে কাজ শুরু করেছে।

পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্স প্রসিকিউটর অফিসের প্রতিনিধি হান ওলেভিয়ার জানিয়েছেন, তদন্তকারীদের প্রাথমিকভাবে খতিয়ে দেখতে হবে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ কোনো পুরোনো অপরাধ, চুরি বা অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না।

তদন্তে অপরাধমূলক কোনো যোগসূত্র পাওয়া না গেলে স্বর্ণের বৈধ মালিকানা নির্ধারণে দেওয়ানি আদালতের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

বেলজিয়ামের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, এ ধরনের উদ্ধার বা কুড়িয়ে পাওয়া গুপ্তধনের প্রকৃত মালিক কিংবা তাঁর উত্তরাধিকারীর সন্ধানে কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হয়। এই ক্ষেত্রে মালিকানা নির্ধারণে অন্তত পাঁচ বছর পর্যন্ত অপেক্ষার বিধান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ, কোটি কোটি টাকার এই স্বর্ণ উদ্ধার হলেও আপাতত তা শ্রমিক বা নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও মালিকানায় যাচ্ছে না। বরং এর প্রকৃত মালিক বা উত্তরাধিকারী নির্ধারণে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়াই এখন মূল বিষয়।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে