ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়াতে বড় উদ্যোগ সরকারের

২০২৬ আগস্ট ১২ ১৬:০২:৩৬
বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়াতে বড় উদ্যোগ সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির। মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আরও সহজ, বিনিয়োগবান্ধব ও ব্যবসাসহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

৩৩ সদস্যের মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ও চিফ অব স্টাফ প্যাট্রিক পিটস এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ইভেন্ট সমন্বয়ের প্রধান দেবী চ্যাটার্জি।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেন, প্রতিনিধি দলে ভিসা, মাস্টারকার্ড এবং কৃষি খাতের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় মার্কিন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এমন কোম্পানিও রয়েছে, যারা বাংলাদেশে টানা ৪৩ বছর ধরে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে অংশীদার হতে মার্কিন কোম্পানিগুলো আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তিনি জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যনীতি, রপ্তানি নীতি, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং ই-কমার্স খাতের নীতিকাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধিদের সরকার আশ্বস্ত করেছে, টেকসই ৮ শতাংশ রিয়েল জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনকে সামনে রেখে কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে জ্বালানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো এবং রপ্তানি পণ্যের ঝুড়ি বহুমুখী করতে সরকার কয়েকটি খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। এর মধ্যে পাট, চামড়া এবং জাহাজ ভাঙা শিল্প অন্যতম। এসব খাতকে বহু বিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী রপ্তানি শিল্পে রূপান্তরে সরকারের নেওয়া নীতি ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ আগামী মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে খুব শিগগিরই আলোচনা শুরু হবে বলেও মার্কিন প্রতিনিধি দলকে জানান তিনি।

আইটি খাতের ফ্রিল্যান্সার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে ব্যাংকিং খাতে সংস্কার ও উদারীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির। এর ফলে আইটি পেশাজীবীরা আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে আরও সহজে লেনদেন করতে পারবেন। পাশাপাশি কৃষির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়েও নীতিগত আলোচনা চলছে।

ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান পদ্ধতিগত জটিলতা কমানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ব্যবসা সহজীকরণ কোনো এককালীন উদ্যোগ নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক একটি প্রক্রিয়া। বিভিন্ন লাইসেন্স, অনুমোদন ও পারমিটের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা ও overlapping শর্তগুলো পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বাদ দেওয়ার কাজ চলছে।

এর অংশ হিসেবে সারা দেশে ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থাকে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার ঘোষণা দেন মন্ত্রী। বর্তমানে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ পৃথকভাবে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করলেও শিগগিরই একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে দেশের যেকোনো স্থান থেকে ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন ও ইস্যু করা যাবে।

তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের কোনো প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্সের প্রয়োজন হলে ঢাকায় বসেই একজন ব্যবসায়ী অনলাইনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি জমা দিতে পারবেন। এরপর সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স ডাউনলোড করে প্রিন্টও করা যাবে। এ জন্য সরকারি কিংবা স্থানীয় কোনো দপ্তরে সরাসরি যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।

খুব শিগগিরই ব্যবসায়ীরা এই নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার সুফল দেখতে পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী।

মিজান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে