ঢাকা, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬

মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের হাওয়া, আলোচনায় যেসব নাম

২০২৬ আগস্ট ০৮ ০৯:৪২:৪০
মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের হাওয়া, আলোচনায় যেসব নাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগে মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ১৭ আগস্ট সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপটে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা, মন্ত্রণালয় পরিচালনায় সক্ষমতা এবং ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মূল্যায়নের পর কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন হতে পারে। একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা কয়েকজনের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং একই দিনে মন্ত্রীদের নিয়োগ ও মন্ত্রণালয় বণ্টন করা হয়।

রাজনৈতিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান ও সেলিমা রহমান।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা রয়েছে বলে সূত্রগুলো দাবি করছে।

তবে এসব সম্ভাবনার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে আলোচনায় থাকা নামগুলোকে সম্ভাব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক এবং বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের নামও আলোচনায় রয়েছে বলে রাজনৈতিক সূত্রের দাবি।

সরকার গঠনের শুরু থেকেই মন্ত্রণালয়গুলোর জন্য নির্দিষ্ট সময়ের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ১৮০ দিনের কর্মসূচির অগ্রগতি এখন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় এবং সংসদে জবাবদিহির বিষয়গুলো বিবেচনায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ছয় মাসের মূল্যায়ন সামনে রেখে মন্ত্রণালয়গুলো তাদের কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি ও অর্জনের তথ্য-উপাত্ত প্রস্তুত করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ১০ আগস্টের মধ্যে এসব তথ্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

সরকারের বর্তমান মন্ত্রিসভার সরকারি তালিকাতেও মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব এবং মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বণ্টনের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভার ভেতরে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয়গুলোর একটি হলো একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের কাজের চাপ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, একজনের হাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকায় কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কাজের গতি ব্যাহত হতে পারে।

সরকারি তালিকা অনুযায়ী, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের দায়িত্বে রয়েছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

এ ধরনের একাধিক দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করে নতুন কয়েকজনকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

মন্ত্রিসভায় রদবদলের আলোচনা থাকলেও কর্মদক্ষতায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি না থাকা প্রত্যেক মন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়া হবে—এমন সিদ্ধান্ত এখনো নিশ্চিত নয়।

সরকারসংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের মতে, যেসব মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিতর্ক নেই কিন্তু কর্মদক্ষতায় ঘাটতি রয়েছে, তাঁদের আরও সময় দেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন, মন্ত্রণালয় ভাগ করে দেওয়া অথবা নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

ফলে ১৮০ দিনের মূল্যায়নের পর মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন এলেও তা বড় ধরনের ছাঁটাইয়ের বদলে সীমিত পরিসরে দপ্তর পুনর্বিন্যাস এবং নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তির মধ্যেই থাকতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহ সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন হবে, নাকি সীমিত পরিসরে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করে নতুন কয়েকজনকে যুক্ত করা হবে—সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে