ঢাকা, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬

কর্মীদের চাকরির অবসান নিয়ে মুখ খুলল ডিএসই

২০২৬ আগস্ট ০২ ১৮:০৩:৫১
কর্মীদের চাকরির অবসান নিয়ে মুখ খুলল ডিএসই

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) অবশেষে কয়েকজন কর্মীর চাকরির অবসান (টার্মিনেশন) নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সাম্প্রতিক এ সিদ্ধান্ত ছিল দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক রূপান্তর পরিকল্পনার অংশ এবং তা বাংলাদেশ শ্রম আইন ও ডিএসইর সার্ভিস রুল অনুসরণ করেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এর আগে কোনো ধরনের অগ্রিম নোটিশ ছাড়াই গত ২৫ জুন ডিএসইর কয়েকজন কর্মীর চাকরির অবসান ঘটানো হয়। এ ঘটনায় অভিযোগ ওঠার পর গত ২৩ জুলাই আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) চিঠি দেয়। পরে সম্প্রতি আরও এক দফায় কয়েকজন কর্মীর চাকরির অবসান ঘটানো হয়।

সর্বশেষ, চাকরি হারানো কর্মীরা রোববার (২ আগস্ট) মতিঝিলে ডিএসইর পুরাতন ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এর পরই বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয় ডিএসই।

বিজ্ঞপ্তিতে ডিএসই জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কর্মীর চাকরির অবসান নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে নানা আলোচনা ও বক্তব্য প্রচারিত হচ্ছে। এ নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে এবং সঠিক তথ্য তুলে ধরতেই প্রতিষ্ঠানের অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে।

ডিএসইর ভাষ্য অনুযায়ী, যে কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগ যেমন একটি স্বাভাবিক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়া, তেমনি প্রয়োজনের ভিত্তিতে কর্মীর চাকরির অবসানও একটি স্বীকৃত ও আইনসম্মত ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া। বিশ্বজুড়ে অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়িক বাস্তবতা, সাংগঠনিক পুনর্গঠন, দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন কিংবা কৌশলগত প্রয়োজনের কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে এবং বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, দেশের পুঁজিবাজারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডিএসইকে আরও গতিশীল ও ভবিষ্যৎ উপযোগী করতে দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক রূপান্তর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এটি হঠাৎ নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়; বরং ২০২২ সাল থেকেই এ রূপান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ চলছে। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই কিছু পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং সীমিত সংখ্যক কর্মীর চাকরির অবসান ঘটানো হয়েছে।

ডিএসই জানায়, প্রতিষ্ঠানের মোট প্রায় ৩৫০ জন কর্মীর মধ্যে মাত্র ১৭ জনের চাকরির অবসান করা হয়েছে, যা মোট জনবলের ৫ শতাংশেরও কম। এ সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো ব্যক্তিগত বিবেচনা বা বৈষম্য ছিল না; বরং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন, কার্যকারিতা ও ব্যবসায়িক স্বার্থ বিবেচনায় এটি নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পুরো প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২৬ ধারার পাশাপাশি ডিএসইর বিদ্যমান সার্ভিস রুল অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ধারায় নিয়োগকর্তাকে নোটিশ প্রদান অথবা নোটিশের পরিবর্তে আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিয়ে কোনো কারণ প্রদর্শন ছাড়াই কর্মীর চাকরির অবসান ঘটানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বহু বছর ধরে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এ বিধান অনুসরণ করা হচ্ছে।

ডিএসইর ব্যাখ্যায় বলা হয়, যেমন একজন কর্মচারী নির্ধারিত নোটিশ দিয়ে অথবা নোটিশের পরিবর্তে ক্ষতিপূরণ প্রদান করে কারণ ব্যাখ্যা ছাড়াই চাকরি ছাড়তে পারেন, তেমনি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নিয়োগকর্তাও আইনগতভাবে চাকরির অবসান ঘটানোর অধিকার রাখে। তাই এ প্রক্রিয়াকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, অসদাচরণের অভিযোগ বা অন্য কোনো নেতিবাচক বিষয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার সুযোগ নেই।

ক্ষতিপূরণের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, আইন অনুযায়ী চার মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধ করলেই নিয়োগকর্তার আইনগত দায়িত্ব পূরণ হয়। তবে ডিএসই কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিদায়ী কর্মীরা যাতে নতুন কর্মসংস্থানের জন্য পর্যাপ্ত সময় পান, সে বিবেচনায় অতিরিক্ত আরও দুই মাসের বেতন দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রত্যেক কর্মীকে মোট ছয় মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া প্রত্যেক কর্মচারীকে তাদের চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশের আওতায় সব ধরনের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছে ডিএসই। এর মধ্যে রয়েছে প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, অব্যবহৃত ছুটির নগদায়ন এবং অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা। অনেকের ক্ষেত্রে এ অর্থ কয়েক মাসের বেতনের সমপরিমাণ হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানির পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগ করে দ্রুত এসব পাওনা বুঝে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ডিএসই আরও দাবি করেছে, পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে প্রত্যেক কর্মীর ব্যক্তিগত মর্যাদা ও সম্মান বজায় রাখা হয়েছে। তাদের সঙ্গে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সংবেদনশীলতা ও মানবিক আচরণ করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের অপমানজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়নি। পাশাপাশি প্রত্যেককে যথাযথ অভিজ্ঞতা সনদ (এক্সপেরিয়েন্স সার্টিফিকেট) দেওয়া হবে এবং আইনগত প্রাপ্য ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা প্রদানে প্রতিষ্ঠান পাশে থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চাকরির অবসানের পর কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন মাধ্যমে এমন কিছু বক্তব্য দিচ্ছেন, যা অনেক ক্ষেত্রেই অসম্পূর্ণ তথ্য বা প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করেই উপস্থাপন করা হচ্ছে। ডিএসই মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান জানালেও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হতে পারে—এমন বক্তব্য দেওয়ার আগে তথ্য যাচাই করাকে সবার নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করে।

সবশেষে ডিএসই জানায়, প্রতিষ্ঠানটি সবসময় আইনের শাসন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী। বিদায়ী কর্মীদের অবদানকে সম্মান জানিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সফলতা ও মঙ্গল কামনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারী, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, স্টেকহোল্ডার ও সাধারণ জনগণকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ভবিষ্যতেও একটি শক্তিশালী, দায়িত্বশীল ও ভবিষ্যতমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইন, নীতি এবং সর্বোচ্চ পেশাদার মান বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে