ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

বিছানায় বিষধর সাপ, ঘুমের ওষুধ আর ২০ লাখ রুপি—যে রহস্য খুলল তদন্তে

২০২৬ জুলাই ১৮ ১৬:৪২:৪১
বিছানায় বিষধর সাপ, ঘুমের ওষুধ আর ২০ লাখ রুপি—যে রহস্য খুলল তদন্তে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের উত্তরপ্রদেশের মেরঠে স্বামীকে হত্যা করতে বিষধর সাপ ব্যবহারের অভিযোগে এক নারী ও তার কথিত প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, প্রায় ২০ লাখ রুপির জীবনবিমার অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেরঠের হস্তিনাপুর এলাকার বাসিন্দা অতুল পওয়ার ও তার স্ত্রী দামিনী একটি শিশু বিদ্যালয় পরিচালনা করতেন। ২০১৯ সালে তাদের বিয়ে হয়। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে অতুলের মৃত্যু হলে দামিনী দাবি করেন, তিনি সাপের কামড়ে মারা গেছেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর অতুলের বিছানা থেকে একটি বিষধর সাপ উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। তাদের অভিযোগ, ঘরটি সম্পূর্ণ বন্ধ ও পরিপাটি ছিল, ফলে স্বাভাবিকভাবে সাপ ঢোকার সম্ভাবনা খুবই কম। পরে তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে তদন্ত শুরু হয়।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, বিদ্যালয়ের গাড়িচালক তুষারের সঙ্গে দামিনীর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অতুলকে হত্যার পরিকল্পনা আগে থেকেই করা হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, তুষার এক সাপুড়ের কাছ থেকে একটি বিষধর সাপ সংগ্রহ করে দামিনীর কাছে পৌঁছে দেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার আগের রাতে দামিনী স্বামীকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ান। অতুল গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হওয়ার পর তার বিছানায় সাপটি ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

পুলিশের ধারণা, অতুলের নামে থাকা প্রায় ২০ লাখ রুপির জীবনবিমার টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য। তদন্তে আরও জানা গেছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করা আরও দুই ব্যক্তিকে পাঁচ লাখ রুপি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাস্থলের বিভিন্ন অসংগতি এবং মোবাইল ফোনে পাওয়া বিষধর সাপের ছবি ও পারস্পরিক যোগাযোগের তথ্যের ভিত্তিতে দামিনী ও তুষারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলমান। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে