ঢাকা, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

হঠাৎ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ; নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত

২০২৬ জুলাই ১৫ ১০:৪০:৩৯
হঠাৎ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ; নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক বছর পর ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সিভিরিদেঙ্কোর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। তবে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এখনো নতুন প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা না করায় সরকারের এই রদবদলের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী আইনপ্রণেতারা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ইউক্রেনের পার্লামেন্টে ৪০ বছর বয়সী অর্থনীতিবিদ ইউলিয়া সিভিরিদেঙ্কোর পদত্যাগপত্র গ্রহণের প্রস্তাব পাস হয়। তবে তার উত্তরসূরি হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

পার্লামেন্টে দেওয়া বিদায়ী বক্তব্যে ইউলিয়া সিভিরিদেঙ্কো বলেন, চলতি বছরের প্রতিটি দিনই কঠিন সিদ্ধান্ত ও দৃঢ় পদক্ষেপের দাবি রাখে। দায়িত্ব পালনের সময়ে সহযোগিতা ও আস্থা রাখার জন্য তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।তিনি বলেন, "আমি সব সময় বিশ্বাস করেছি, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফলাফল।"

ইউলিয়ার মতে, নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আসন্ন শীতকাল মোকাবিলা করা। কারণ, রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও গ্যাস অবকাঠামোর ওপর হামলা আরও জোরদার করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিরোধী আইনপ্রণেতা ওলেক্সি হনচারেঙ্কো বলেন, সরকারকে কেন বিদায় দেওয়া হচ্ছে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারছে না।

আরেক বিরোধী আইনপ্রণেতা কিরা রুদিক মনে করেন, নতুন সরকার আগের সরকারের তুলনায় খুব বেশি ভিন্নভাবে কাজ করবে—এমন আশা করার সুযোগ কম।

ইউলিয়া সিভিরিদেঙ্কোর সরকারের সময় কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। যদিও এসব অভিযোগে ইউলিয়ার নাম জড়ায়নি, সমালোচকদের দাবি—দুর্নীতি দমনে তিনি যথেষ্ট কঠোর অবস্থান নেননি।

বিরোধী দল হলোসের আইনপ্রণেতা ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াক অভিযোগ করেন, সরকার প্রতিদিন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে দুর্নীতির অভিযোগই বেশি সামনে এসেছে।

আইনপ্রণেতাদের ধারণা, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস কোম্পানি নাফতোগ্যাসের প্রধান সেরহি কোরেৎসকি নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সেরহি কোরেৎসকি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভের সঙ্গে বৈঠক করেন। ফেদোরভকে সরানো হলে সেটিকে সরকারের বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হবে।

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি, যুদ্ধকালীন অর্থনীতি পরিচালনা, রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করেন।

ইউলিয়ার মেয়াদকালে ইউক্রেনকে কঠিন শীতকাল মোকাবিলা করতে হয়েছে। রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সরকার বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধকালীন সময়ে নির্বাচন স্থগিত থাকায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা দিতে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনই প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির অন্যতম কার্যকর সাংবিধানিক উপায়। তবে এই পরিবর্তন কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে নতুন সরকারকে কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয় তার ওপর।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে