ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের পোশাক খাতে নতুন সংকট

২০২৬ জুলাই ১৭ ১২:২৫:১৫
বাংলাদেশের পোশাক খাতে নতুন সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে—এই পাঁচ মাসে ইইউতে শীর্ষ ১০ পোশাক রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি কমেছে বাংলাদেশের। ফলে ইউরোপের সবচেয়ে বড় পোশাক বাজারে দেশের অবস্থান আরও চাপে পড়েছে।

ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৈশ্বিক চাহিদা কমার পাশাপাশি প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় অর্ডার এবং গড় রপ্তানি মূল্য—দুই ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ।

জানুয়ারি-মে সময়ে ইইউর মোট পোশাক আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯.৯৬ শতাংশ কমে ৩৩.৮৪ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। এক বছর আগে এ পরিমাণ ছিল ৩৭.৫৮ বিলিয়ন ইউরো।

এই পতনের পেছনে আমদানির পরিমাণ ৬.৪৬ শতাংশ এবং গড় ইউনিট মূল্য ৩.৭৪ শতাংশ কমে যাওয়াকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, ইউরোপে দুর্বল ভোক্তা চাহিদার পাশাপাশি মূল্যহ্রাসও বাজারকে চাপে রেখেছে।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৮.৮৯ শতাংশ কমে ৭.২৮ বিলিয়ন ইউরোতে নেমে এসেছে।

একই সময়ে—রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ১০.৪৬ শতাংশ,গড় ইউনিট মূল্য কমেছে ৯.৪১ শতাংশ বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় এই দুই সূচকেই বাংলাদেশের পতন প্রায় দ্বিগুণ।

শুধু মে মাসেই বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় ১৭.১২ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে রপ্তানির পরিমাণ ১৩.৫৫ শতাংশ এবং গড় মূল্য ৪.১৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে চীন তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। দেশটির রপ্তানি মূল্য ৪.২০ শতাংশ কমলেও রপ্তানির পরিমাণ ১.৯৬ শতাংশ বেড়েছে। বাজার ধরে রাখতে তারা গড় মূল্য ৬.৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছে।

অন্যদিকে ভিয়েতনাম সবচেয়ে স্থিতিশীল অবস্থান ধরে রেখেছে। দেশটির রপ্তানি মূল্য মাত্র ১.৫১ শতাংশ কমলেও গড় ইউনিট মূল্য ১২.২৬ শতাংশ বেড়েছে, ফলে উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে আয়ের বড় অংশ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

এ ছাড়া তুরস্ক ও কম্বোডিয়ার রপ্তানির পরিমাণ কমলেও গড় মূল্য বেড়েছে। পাকিস্তানের রপ্তানি আয় ১৭.১ শতাংশ কমলেও রপ্তানির পরিমাণ ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের রপ্তানিও কমেছে, তবে বাংলাদেশের তুলনায় কম হারে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যেখানে রপ্তানির পরিমাণ এবং গড় মূল্য—দুই ক্ষেত্রেই বড় ধরনের অবনতি দেখা যাচ্ছে।

তাদের মতে, এপ্রিলে শুরু হওয়া এই নিম্নমুখী প্রবণতা মে মাসেও অব্যাহত থাকায় এটি সাময়িক নয়। বরং এটি বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, পণ্যের বৈচিত্র্য, মূল্য সংযোজন এবং বাজার কৌশলের কাঠামোগত দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় অর্ধেকই আসে ইইউ বাজার থেকে। তাই এই প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো, উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে জোর দেওয়া এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন তারা।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে