ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

ব্যাংকের খেলাপি ঋণ উদ্ধারে বড় পরিবর্তন, নতুন আইনের খসড়া প্রকাশ

২০২৬ জুলাই ১৬ ১০:৫৩:৫৪
ব্যাংকের খেলাপি ঋণ উদ্ধারে বড় পরিবর্তন, নতুন আইনের খসড়া প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ব্যাংক খাতের বড় সংকট খেলাপি ঋণ কমাতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত ‘সংকটাপন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন’ বা ডামা আইনের আওতায় বিশেষায়িত সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব কোম্পানি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কিনে তা আদায়, পুনর্গঠন এবং প্রয়োজনে জামানত বিক্রির কাজ করতে পারবে।

আইনের খসড়া তৈরি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এরই মধ্যে সবার মতামতের জন্য খসড়াটি প্রকাশ করা হয়েছে।

মামলাজট, সম্পদ বিক্রিতে দীর্ঘসূত্রতা, আইনি জটিলতা ও দুর্বল আদায় ব্যবস্থার কারণে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ বছরের পর বছর আটকে আছে। এতে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল হচ্ছে এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাও কমছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন, ২০২৫’ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি, অবলোপন করা, পুনঃতফসিল করা এবং আদালতের স্থগিতাদেশে থাকা ঋণ মিলিয়ে সংকটাপন্ন ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকা।

খসড়া আইনে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে একটি সংকটাপন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই ইউনিটের অনুমোদন নিয়ে বেসরকারি পর্যায়ে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি কাজ করতে পারবে।

ব্যাংকগুলো চাইলে তাদের খেলাপি ঋণ এসব কোম্পানির কাছে বিক্রি করতে পারবে। এরপর ঋণ আদায়, পুনর্গঠন, ঋণগ্রহীতার ব্যবসা পুনর্বিন্যাস, নতুন বিনিয়োগকারী আনা, ঋণকে শেয়ারে রূপান্তর কিংবা সম্পদ বিক্রির দায়িত্ব নেবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি।

এ ছাড়া ঋণ সেবাদাতা কোম্পানির মাধ্যমে ঋণগ্রহীতার সঙ্গে আলোচনা, সম্পদের তথ্য সংগ্রহ, মূল্যায়ন এবং মামলা পরিচালনায় সহায়তার সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির জন্য নির্দিষ্ট মূলধন, অভিজ্ঞ পরিচালক ও পেশাদার ব্যবস্থাপনা কাঠামোর শর্ত রাখা হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদে স্বাধীন পরিচালকের উপস্থিতির বিষয়েও প্রস্তাব রয়েছে।

সংকটাপন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স প্রদান, তদারকি, তথ্য সংগ্রহ, পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা পাবে।

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, নতুন ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হলে খেলাপি ঋণ কেনাবেচার ক্ষেত্রে বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ, আইনি জটিলতা দূর করা এবং জামানত হস্তান্তরের বিষয়ে স্পষ্ট বিধান থাকা প্রয়োজন।

ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, আইনটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে খেলাপি ঋণের জন্য একটি বিশেষায়িত বাজার তৈরি হতে পারে। এতে ব্যাংকের স্থিতিপত্র থেকে দীর্ঘদিনের অচল ঋণ কমবে এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়তে পারে।

অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, অতীতে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির উদ্যোগ সফল হয়নি। তবে নতুন আইনে আগের দুর্বলতাগুলো দূর করা গেলে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে দেশের ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিনের খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায় নতুন একটি কাঠামো তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে