ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

ইংলিশদের হৃদয় ভেঙে স্বপ্নপূরণের মঞ্চে মেসিরা

২০২৬ জুলাই ১৬ ০৫:৪১:১৪
ইংলিশদের হৃদয় ভেঙে স্বপ্নপূরণের মঞ্চে মেসিরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক: আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ফুটবল রোমাঞ্চের এক চরম নিদর্শন রেখে বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট কেটে নিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের লক্ষ্যভেদে ম্যাচে লিড নিয়েছিল থ্রি-লায়ন্সরা।

তবে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি আলবিসেলেস্তেরা। ইংলিশদের জমাট রক্ষণ ভেদ করে নিজে গোল করা কঠিন বুঝে লিওনেল মেসি এদিন সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর কৌশলে মনোযোগ দেন। সেই পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন ঘটে ম্যাচের ৮৫ মিনিটে, যখন মেসির বাড়ানো বল ধরে দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শটে সমতা আনেন এনসো ফের্নান্দেস।

নাটকের তখনও বাকি ছিল; নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা অতিরিক্ত ৯ মিনিটের দ্বিতীয় মিনিটে বদলি নামা লাউতারো মার্তিনেস মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে দর্শনীয় হেডে জয়সূচক গোলটি করেন।

আর্জেন্টাইনদের এই মহাকাব্যিক কামব্যাকে স্তব্ধ হয়ে যায় হ্যারি কেইনদের গ্যালারি। ১৯৬৬ সালের পর দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে চলা শিরোপার অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হলো ইংলিশদের জন্য। অন্যদিকে, ৩৯ বছর পার করে চল্লিশের কোঠায় পা রাখা ফুটবল জাদুকর মেসি এখন টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন দেখছেন। আগামী রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় নিউ জার্সির ফাইনাল মঞ্চে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছে স্পেন, যারা সেমিফাইনালে পরাশক্তি ফ্রান্সকে বিদায় করেছে।

ম্যাচের লাইভ টাইমলাইন ও বাঁকবদল:

লাউতারোর সেই মহামূল্যবান গোল (৩ ঘণ্টা আগে / ০২:৪৮)

ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আটলান্টার গ্যালারিতে আকাশী-সাদা ঢেউ তোলেন বদলি ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্তিনেস। এর ঠিক আগেই ম্যাক আলিস্টারের একটি জোরালো শট সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান প্রান্ত থেকে নিখুঁত এক ক্রস বাড়ান অধিনায়ক মেসি, যা হেডের মাধ্যমে জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি লাউতারো। এই অসাধারণ প্রত্যাবর্তনে শিরোপা ধরে রাখার শেষ ধাপে পা রাখে আর্জেন্টিনা।

এনসোর দূরপাল্লার রকেট শট (৩ ঘণ্টা আগে / ০২:৪২)

খেলার ৮৫ মিনিটে বক্সের বেশ বাইরে থেকে নেওয়া ডান পায়ের মারণাস্ত্র শটে আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখেন এনসো ফের্নান্দেস। ঠিক তার আগের মিনিটেও একইভাবে চেষ্টা করেছিলেন তিনি, যা কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন জর্ডান পিকফোর্ড। তবে এবার আর ইংলিশ গোলরক্ষকের পক্ষে আলবিসেলেস্তেদের গোল উৎসব থামানো সম্ভব হয়নি।

কৌশলগত পরিবর্তন: মাঠে লাউতারো (৩ ঘণ্টা আগে / ০২:৩৮)

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হতে যখন মাত্র ১০ মিনিট বাকি, তখন ডিফেন্ডার তাগিয়াফিকোকে তুলে নিয়ে আক্রমণভাগে লাউতারো মার্তিনেসকে নামান কোচ স্কালোনি। কোয়ার্টার ফাইনালে জালের দেখা পাওয়া এই স্ট্রাইকারই শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন।

পিকফোর্ডের অতিমানবীয় সেভ ও মিসড চান্স (৩ ঘণ্টা আগে / ০২:৩১)

৭৫ মিনিটে রদ্রিগো দে পলের চমৎকার ক্রস থেকে ম্যাক আলিস্টারের নেওয়া হেড এক হাতে প্রতিহত করে ইংল্যান্ডের লিড ধরে রাখেন পিকফোর্ড। এর দুই মিনিট পর মেসির ক্রসে মাথা ছুঁইয়েছিলেন নিকো গনসালেস, তবে তা দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে গেলে হতাশ হতে হয় আর্জেন্টাইন সমর্থকদের।

একসঙ্গে তিন পরিবর্তন স্কালোনির (৩ ঘণ্টা আগে / ০২:২৭)

ম্যাচের ৭২ মিনিটে খেলার চিত্র বদলাতে একসঙ্গে তিন ফুটবলারকে মাঠে নামান আর্জেন্টিনার মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনি। লিসান্দ্রো মার্তিনেস, সিমিওনে ও মোলিনাকে তুলে নিয়ে তিনি মাঠে পাঠান নিকোলাস ওতামেন্দি, রদ্রিগো দে পল ও গনসালো মন্তিয়েলকে। গোল হজম করার পর থেকেই আক্রমণের গতি বাড়াতে শুরু করে আর্জেন্টিনা।

আক্রমণভাগে ধার বাড়াতে নিকো (৩ ঘণ্টা আগে / ০২:১৮)

খেলার ৬৪ মিনিটে মাঝমাঠের লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে তুলে নিয়ে আক্রমণাত্মক উইঙ্গার নিকো গনসালেসকে নামায় আর্জেন্টিনা দল। চার মিনিট পরেই (৬৮ মিনিটে) ডান দিক থেকে মেসির বিপজ্জনক ক্রসে দারুণ হেড করেছিলেন নিকো, কিন্তু পিকফোর্ডের বাজপাখি সেভে সেযাত্রায় সমতায় ফেরা হয়নি আর্জেন্টিনার।

কাউন্টার অ্যাটাকে গর্ডনের আঘাত (৩ ঘণ্টা আগে / ০২:১০)

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে ডেডলক ভেঙে লিড নেয় ইংল্যান্ড। এক দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল পেয়ে ডান প্রান্ত থেকে মর্গান রজার্স নিখুঁত ক্রস বাড়ান বক্সে। ছুটে এসে ডান পায়ের চমৎকার ভলিতে আর্জেন্টিনার জাল কাঁপান অ্যান্থনি গর্ডন।

আলভারেসের জোড়া আক্রমণ নসাৎ (৪ ঘণ্টা আগে / ০১:০৫)

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই (৪৭ মিনিটে) ইংলিশ ডিফেন্সকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছিলেন হুলিয়ান আলভারেস। প্রতি-আক্রমণ থেকে বক্সে ঢুকে ডান পায়ে জোরালো শট নিলেও তা রুখে দেন সতর্ক পিকফোর্ড। আলভারেস ফিরতি বলে আবারও চেষ্টা চালালে তা ডিফেন্ডারদের ব্লকে প্রতিহত হয়।

সতর্ক প্রথমার্ধ ও হলুদ কার্ডের ছড়াছড়ি (৫ ঘণ্টা আগে / ০১:০০)

ম্যাচের প্রথমার্ধে কোনো দলই অতিরিক্ত ঝুঁকি নিতে চায়নি। বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার লড়াইয়ে মাঠজুড়ে ফাউলের মহড়া দেখা যায়। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১২ বার এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭ বার ফাউলের বাঁশি বাজান রেফারি। আর্জেন্টিনার এনসো দূরপাল্লার শট নিলেও তা বারের ওপর দিয়ে যায় এবং মেসির একটি শট ইংলিশ ডিফেন্সে ব্লক হয়। উত্তেজনাকর এই লড়াইয়ে প্রথমার্ধেই দুই দলের দু'জন খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখতে হয়।

আটলান্টার হাইভোল্টেজ দ্বৈরথ (৫ ঘণ্টা আগে / ০০:৫৬)

মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে রেফারির শুরুর বাঁশিতে মাঠে গড়ায় মেগা সেমিফাইনাল। ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার লক্ষ্যে বিশ্বফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড মুখোমুখি লড়াইয়ে নামে।

ঐতিহাসিক দ্বৈরথ ও রাজনৈতিক আবহ (৫ ঘণ্টা আগে / ০০:২২)

ফুটবল মাঠে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বৈরিতা মানেই মাঠের বাইরের ভূ-রাজনীতি, ফকল্যান্ড যুদ্ধের আবেগ এবং ঐতিহাসিক নানা বিতর্কের সমাহার। বিশ্বকাপে এর আগে ৫ বার মুখোমুখি দেখায় ইংল্যান্ড জিতেছে ৩টিতে এবং আর্জেন্টিনার জয় ২টিতে (যার একটি টাইব্রেকারে)।

১৯৬৬ সালের 'শতাব্দীর সেরা ডাকাতি': ওয়েম্বলির কোয়ার্টার ফাইনালে ভাষার বিভ্রান্তিতে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক রাতিনকে লাল কার্ড দেখান জার্মান রেফারি। ক্ষোভে রাতিন মাঠের রাজকীয় লাল গালিচায় বসে পড়েন। ইংল্যান্ড ১-০ তে জিতলেও আর্জেন্টিনায় এটি 'El Robo del Siglo' নামে পরিচিত।

১৯৮৬ সালের 'হ্যান্ড অব গড': ফকল্যান্ড যুদ্ধের আবহে হওয়া সেই ম্যাচে পিটার শিলটনকে ফাঁকি দিয়ে হাত দিয়ে গোল করেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। পরবর্তীতে তিনি বলেছিলেন, গোলটি ছিল কিছুটা ম্যারাডোনার মাথা আর কিছুটা ঈশ্বরের হাতের ছোঁয়ায়।

১৯৮৬ সালের 'শতাব্দীর সেরা গোল': প্রথম গোলের মাত্র ৪ মিনিট পর মাঝমাঠ থেকে একক নৈপুণ্যে ৫ জন ইংলিশ ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে কাটিয়ে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা গোলটি করেন ম্যারাডোনা।

১৯৯৮ সালের বেকহাম ট্র্যাজেডি: ডিয়েগো সিমিওনেকে লাথি মেরে তরুণ ডেভিড বেকহাম লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইংল্যান্ড। ম্যাচটি ২-২ সমতার পর টাইব্রেকারে জেতে আর্জেন্টিনা।

টুখেলের চোখে বিশ্বসেরা মেসি (৫ ঘণ্টা আগে / ০০:২১)

ম্যাচের আগে ইংল্যান্ডের ডাগআউটে থাকা থমাস টুখেল মেসিকে স্তুতিতে ভাসিয়ে বলেন, ‘এই বয়সেও যেভাবে মেসি দলটাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন, তা অবিশ্বাস্য। মাঠে ওর পায়ে বল যাওয়া মানেই বাকিদের মুভমেন্ট শুরু হয়ে যাওয়া। ও একজন খাঁটি লিডার।’

মেসিকে 'ঘুম পাড়ানোর' ব্যর্থ চেষ্টা (৫ ঘণ্টা আগে / ০০:১৮)

সাবেক ইংলিশ মিডফিল্ডার জো কোল এক পডকাস্টে দাবি করেছিলেন, ইংল্যান্ড যদি ফাইনালে যেতে চায় তবে মেসিকে শতভাগ নিষ্ক্রিয় বা 'ঘুম পাড়িয়ে' রাখতে হবে। সহ-আলোচক মিকাহ রিচার্ডস তাকে সতর্ক করলেও জো কোল নিজের দাবিতে অনড় ছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত মাঠে ভুল প্রমাণিত হলো।

মাইলফলক ও রেকর্ডের নতুন পাতা (৬ ঘণ্টা আগে / ২৩:৫৫)

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমেই লিওনেল মেসি বেশ কয়েকটি অবিশ্বাস্য কীর্তি নিজের করে নিয়েছেন:১. আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক দিয়ে শুরু করা টুর্নামেন্টে এখন তার মোট গোল ২১টি, যা কিলিয়ান এমবাপ্পের (২০ গোল) চেয়ে বেশি এবং বিশ্বকাপের অল-টাইম রেকর্ড।২. সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ১০ম অ্যাসিস্ট করে পেলে-ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে এককভাবে শীর্ষ অ্যাসিস্টদাতা হয়েছিলেন, আজ সেটি আরও বাড়ালেন।৩. ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে রেকর্ড ৩৩তম ম্যাচ খেলার অনন্য নজির গড়লেন।৪. চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে ৮টি গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এমবাপ্পে ও হালান্ডের (উভয়েরই ৭ গোল) চেয়ে এগিয়ে গেলেন।৫. দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এই প্রথম থ্রি-লায়ন্সদের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা হলো মেসির।

ম্যাচের শুরুর একাদশ:

গুঞ্জন সত্যি করে মিডফিল্ডার রদ্রিগো দে পলের জায়গায় জুলিয়ানো সিমিওনেকে নিয়ে একাদশ সাজান লিওনেল স্কালোনি। অন্যদিকে ইংলিশ কোচ থমাস টুখেল একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনে রিস জেমস, জেড স্পেন্স ও মরগান রজার্সকে সুযোগ দেন।

◉ আর্জেন্টিনা একাদশ: এমিলিয়ানো মার্তিনেস (GK); তাগিয়াফিকো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস, রোমেরো, মোলিনা; পারেদেস, ম্যাক আলিস্টার, এনসো ফের্নান্দেস; আলভারেস, লিওনেল মেসি, জুলিয়ানো সিমিওনে।

◉ ইংল্যান্ড একাদশ: জর্ডান পিকফোর্ড (GK); জন স্টোনস, মার্ক গুয়েহি, রিস জেমস, জেড স্পেন্স; ডেকলান রাইস, এলিয়ট অ্যান্ডারসন, জুড বেলিংহাম, মরগান রজার্স; হ্যারি কেইন, অ্যান্থনি গর্ডন।

নাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

খেলাধুলা এর সর্বশেষ খবর

খেলাধুলা - এর সব খবর



রে