ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

এক দশকে শেয়ারবাজার ছেড়েছে ১৫ লাখ বিনিয়োগকারী

২০২৬ জুলাই ০৯ ১৮:৩৩:২৯
এক দশকে শেয়ারবাজার ছেড়েছে ১৫ লাখ বিনিয়োগকারী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিন ধরেই আস্থার সংকটে রয়েছে দেশের শেয়ারবাজার। বিনিয়োগের জন্য মানসম্পন্ন কোম্পানির অভাব, নতুন প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রায় বন্ধ, দুর্বল কোম্পানির আধিক্য এবং করপোরেট সুশাসনের ঘাটতির কারণে ধীরে ধীরে বাজার ছাড়ছেন বিনিয়োগকারীরা। গত এক দশকের পরিসংখ্যান বলছে, বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই সময়ে বাজারে আসা অধিকাংশ আইপিও বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। হাতে গোনা কয়েকটি ভালো কোম্পানি ছাড়া বেশিরভাগ নতুন তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দরপতনের মুখে পড়েছে। ফলে নতুন বিনিয়োগকারী যেমন বাজারে আগ্রহ হারিয়েছেন, তেমনি পুরোনো অনেক বিনিয়োগকারীও ধীরে ধীরে পুঁজিবাজার থেকে সরে গেছেন।

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১ জুলাই দেশে বিও হিসাব ছিল ৩১ লাখ ৫৩ হাজার। ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৭৫ হাজারে। অর্থাৎ ১০ বছরে ১৪ লাখ ৭৮ হাজার বা প্রায় ৪৭ শতাংশ বিও হিসাব কমেছে। বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশেরও কম মানুষের বিও হিসাব রয়েছে। অথচ প্রতিবেশী ভারতে মোট জনসংখ্যার ৯ শতাংশের বেশি মানুষ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেন।

বাজারসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগকারীরা যৌক্তিক মুনাফা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। দুর্বল কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে ধারাবাহিক লোকসান, নিয়মিত শেয়ারবাজা না পাওয়া, বাজারে সুশাসনের অভাব এবং কিছু ব্রোকারেজ হাউস ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের কারণে ক্ষতির শিকার হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ১০ বছরে বাজারে আসা অধিকাংশ বিনিয়োগকারী গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বা তারও বেশি লোকসানের মুখে পড়েছেন। এ সময়ে অনেক কোম্পানির শেয়ারের দাম অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। বিনিয়োগকারী সুরক্ষার ঘাটতি ও করপোরেট সুশাসনের দুর্বলতার কারণে অনেকেই ব্রোকারেজ হাউস ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির মাধ্যমেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ফলে নতুন বিনিয়োগকারীরা বাজারে আগ্রহ হারাচ্ছেন এবং পুরোনোরা বাজার ছাড়ছেন।

তারা আরও বলেন, বর্তমানে অনেকেই শুধু আইপিওতে আবেদন করার জন্য বিও হিসাব চালু রাখেন। কিন্তু গত দুই বছরে কোনো কোম্পানিই আইপিওর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেনি। এর আগে আসা অনেক আইপিওও মানসম্পন্ন ছিল না। যদিও বিও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ফি কমিয়ে বিনিয়োগকারীদের ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবুও শক্তিশালী নতুন কোম্পানি বাজারে না আসায় অনেকে হিসাব বন্ধ করে দিয়েছেন।

নারী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাজারত্যাগ বেশি

সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে পুরুষের তুলনায় নারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব বন্ধের হার বেশি। ২০১৬ সালে নারী বিও হিসাব ছিল ৮ লাখ ৫২ হাজার, যা কমে ৩ লাখ ৯৪ হাজারে নেমেছে। অন্যদিকে পুরুষ বিও হিসাব ২২ লাখ ৯০ হাজার থেকে কমে হয়েছে ১২ লাখ ৬৩ হাজার।

একই সময়ে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ১ লাখ ৫৭ হাজার থেকে কমে মাত্র ৪৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া যৌথ বিও হিসাব ১১ লাখ ৯০ হাজার থেকে কমে ৪ লাখ ৪২ হাজারে নেমেছে, যা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ হ্রাস। বিপরীতে একক বিও হিসাব ১৯ লাখ ৫৩ হাজার থেকে কমে হয়েছে ১২ লাখ ১৫ হাজার।

বাড়ছে শেয়ারশূন্য বিও হিসাব

জাতীয় নির্বাচনের পর চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মোট বিও হিসাব ১৬ লাখ ৪১ হাজার থেকে বেড়ে ১৬ লাখ ৭৫ হাজারে পৌঁছেছে। তবে একই সময়ে শেয়ারশূন্য বিও হিসাবও ৩ লাখ ৬৮ হাজার থেকে বেড়ে ৩ লাখ ৯৫ হাজারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ নতুন হিসাব বাড়লেও উল্লেখযোগ্য অংশ নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।

সিডিবিএল’র কর্মকর্তাদের মতে, বছরের শুরুতে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকায় অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে বাজার থেকে বেরিয়ে গেছেন। পাশাপাশি ডিফল্টার ব্রোকারেজ হাউস থেকে শেয়ার স্থানান্তর এবং রক্ষণাবেক্ষণ ফি এড়াতে নিষ্ক্রিয় হিসাব বন্ধ করাও এ প্রবণতায় ভূমিকা রেখেছে। তবে নতুন আইপিও এলে এবং বাজার ইতিবাচক থাকলে আবার নতুন বিও হিসাব খোলার প্রবণতা বাড়বে।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে