ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

কর্ণফুলীর বিলাসবহুল অতিথিশালা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সরকারের

২০২৬ জুলাই ০২ ১০:২৯:৩০
কর্ণফুলীর বিলাসবহুল অতিথিশালা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের আওতায় নির্মিত প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার বিলাসবহুল অতিথিশালা (রেস্টহাউস) দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে থাকার পর সেটি ২৯ বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সেতু বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, ইতিমধ্যে এ বিষয়ে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ১৩ জুলাই টেন্ডার জমা নেওয়া হবে, এরপর সর্বোচ্চ দরদাতাকে দীর্ঘমেয়াদি লিজ দেওয়া হবে।

কর্ণফুলী টানেলের দক্ষিণ প্রান্তে আনোয়ারা এলাকায় নির্মিত এই অতিথিশালাটি তিন বছর আগে নির্মাণ শেষ হলেও এখনো চালু হয়নি। প্রায় ৫ হাজার বর্গফুটের সুসজ্জিত এই বাংলোতে ছয়টি কক্ষ, সুইমিংপুলসহ আধুনিক সুবিধা রয়েছে।

সেতু বিভাগ জানিয়েছে, এটি মূলত ভিআইপি অতিথিদের থাকার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে চালুর মতো জনবল ও পরিচালন কাঠামো না থাকায় এটি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে চালু হওয়া কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পটিও প্রত্যাশিত আয়ের তুলনায় কম ব্যবহার হচ্ছে। দৈনিক যেখানে প্রায় ১৭ হাজার যানবাহন চলাচলের লক্ষ্য ছিল, সেখানে বর্তমানে চলছে মাত্র সাড়ে তিন থেকে চার হাজারের মতো গাড়ি।

ফলে আয়ের তুলনায় রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই পরিস্থিতিতে অতিথিশালার মতো অব্যবহৃত স্থাপনাগুলো বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

টানেলের সার্ভিস এরিয়া জুড়ে প্রায় ৭২ একর এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা। এর মধ্যে রয়েছে: অতিথিশালা ও ৩০টি রেস্টহাউস, কনফারেন্স সেন্টার, জাদুঘর ও টানেল রেপ্লিকা, হেলিপ্যাড, মসজিদ, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন।এছাড়া আধুনিক পর্যটন সুবিধা তৈরির অংশ হিসেবে পারকি সৈকতের পাশে আলাদা একটি পর্যটন কমপ্লেক্সও নির্মাণাধীন রয়েছে।

সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকার কারণে স্থাপনাটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২৯ বছরের জন্য লিজ দিয়ে এটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বেসরকারি খাতে দেওয়া হবে।

সেতু বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জানান, “চালুর জন্য জনবল না থাকায় এটি ব্যবহৃত হচ্ছিল না। এখন বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে।”

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকারি সম্পদের ব্যবহার বাড়ানো এবং প্রকল্প থেকে কিছুটা আর্থিক সুবিধা ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে