ঢাকা, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা, বিধিমালা সংশোধনের দাবি

২০২৬ জুন ২০ ১৯:৪৭:৩৩
মিউচুয়াল ফান্ড খাতে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা, বিধিমালা সংশোধনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ বাস্তবায়নের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এ খাতের বিনিয়োগকারীরা। তাদের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত বিধিমালা কার্যকর হলে শুধু ক্লোজড-এন্ড বা মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড খাতই নয়, দেশের সামগ্রিক পুঁজিবাজারও নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়তে পারে। এ প্রেক্ষাপটে বিধিমালাটি পুনর্বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) কার্যালয়ে বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারী ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত এক সেমিনারে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিনিয়োগকারী সংগঠনের প্রতিনিধি, পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারে বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারী ঐক্যফ্রন্টের সভাপতি ম. জহুরুল হক বলেন, বিএসইসি চেয়ারম্যান সম্প্রতি আশ্বাস দিলেও বাস্তবে মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের অবসায়ন ও রূপান্তরের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

তার অভিযোগ, কমিশনের একটি অংশ বাজারসংশ্লিষ্টদের আপত্তি ও বিশেষজ্ঞ মতামত উপেক্ষা করে বিধিমালাটি কার্যকর করার চেষ্টা করছে।

তিনি জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে কয়েকজন বিনিয়োগকারী আদালতে বিদ্যমান মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের অবসায়ন ও রূপান্তর কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন করলে আদালত সাময়িক স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। তবে পরবর্তীতে বিএসইসির আবেদনের পর চেম্বার আদালত সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫-এর ৬২(২) ধারায় বাজারমূল্য বা লেনদেনমূল্যের সঙ্গে প্রকৃত সম্পদমূল্যের তুলনা করে মেয়াদি ফান্ড অবসায়ন কিংবা ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তরের যে বিধান রাখা হয়েছে, তার কোনো আন্তর্জাতিক দৃষ্টান্ত নেই।

তাদের মতে, বাজারমূল্য সম্পদ ব্যবস্থাপকদের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। ফলে কোনো ফান্ডের কার্যকারিতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বাজারদরের পরিবর্তে ইউনিটপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) এবং ফেস ভ্যালুকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

ম. জহুরুল হক বলেন, মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে অবসায়ন অথবা ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তর করা হলে বাজারে বড় ধরনের বিক্রির চাপ তৈরি হবে। বর্তমানে দেশের ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার তালিকাভুক্ত শেয়ারে বিনিয়োগ রয়েছে, যা পুঁজিবাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের ভূমিকা পালন করছে।

বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম ইকবাল হোসেন বলেন, ফান্ডগুলোর সম্পদ বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন হলে কয়েক হাজার কোটি টাকার শেয়ার বাজারে ছাড়তে হবে। এতে বাজার সূচকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে। তার ভাষ্য, আতঙ্কজনিত বিক্রি শুরু হলে মোট বিক্রির চাপ ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি হয়ে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ এবং মার্জিন বিধিমালা-২০২৫ পুনর্বিবেচনা অথবা বাতিল করা প্রয়োজন। পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা উচিত।

সেমিনারে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক গনেশ রায় বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, রেইস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট তাদের পরিচালিত ফান্ডগুলোর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বেশি লভ্যাংশ বিতরণ করেছে, যা এ খাতের সক্ষমতা ও কার্যকারিতার প্রমাণ বহন করে।

বিনিয়োগকারীরা বলেন, ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ড দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে একটি স্থিতিশীল বিনিয়োগ কাঠামো হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। তাই বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে বিএসইসির সাম্প্রতিক নির্দেশনা প্রত্যাহার এবং মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তারা।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে