ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ব্যবসায় ১০ কাজ নিষিদ্ধ করেছে ইসলাম

২০২৬ জুন ১৮ ১২:৩৪:২৫
ব্যবসায় ১০ কাজ নিষিদ্ধ করেছে ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যবসায়িক সততা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগুলোর একটি। ইসলাম ব্যবসাকে বৈধ উপার্জনের অন্যতম উত্তম মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও প্রতারণা, অসততা ও মানুষের ক্ষতির মাধ্যমে লাভ অর্জনকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। বর্তমানের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে অধিক মুনাফার আশায় অনেক ব্যবসায়ী জেনে বা না জেনে এমন কিছু কাজে জড়িয়ে পড়েন, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে হারাম বা গুরুতর গুনাহ।

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, বাজারে পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়ানো সম্পূর্ণ অনৈতিক। মানুষের প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য গুদামজাত করে বাজারে সংকট তৈরি করলে তা সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টের কারণ হয়। এ ধরনের কাজকে ইসলাম কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করেছে।

মাপে ও ওজনে কম দেওয়া ব্যবসায়িক প্রতারণার অন্যতম বড় উদাহরণ। পবিত্র কোরআনে এ ধরনের অসততার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায় লাভের আশায় ওজনে কম দেওয়া শুধু সামাজিক অপরাধ নয়, এটি ধর্মীয়ভাবেও নিন্দনীয়।

পণ্যের ত্রুটি গোপন করে বিক্রি করাও ইসলামে নিষিদ্ধ। কোনো পণ্যে দোষ বা ত্রুটি থাকলে তা ক্রেতার কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা বিক্রেতার দায়িত্ব। ত্রুটি গোপন করে পণ্য বিক্রি করলে ক্রেতা প্রতারিত হন এবং লেনদেনের স্বচ্ছতা নষ্ট হয়।

বর্তমান সময়ে অনেক ব্যবসায়ী পণ্যের গুণগত মান বা দাম সম্পর্কে মিথ্যা কসম খেয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন। ইসলাম এ ধরনের আচরণকে হারাম ঘোষণা করেছে। হাদিসে বলা হয়েছে, মিথ্যা শপথ হয়তো বিক্রি বাড়াতে পারে, কিন্তু তা ব্যবসার বরকত ধ্বংস করে দেয়।

ব্যবসায়িক লেনদেনে সুদের ব্যবহার ইসলামের অন্যতম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ বিষয়। পুঁজি বৃদ্ধি বা আর্থিক সুবিধার জন্য সুদের আদান-প্রদানকে কোরআনে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। ইসলামে সুদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেকের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা রয়েছে।

নকল বা ভেজাল পণ্য বিক্রি করাও বড় ধরনের প্রতারণা। আসল পণ্যের নামে নিম্নমানের বা ভেজাল পণ্য বাজারজাত করা ক্রেতার অধিকার ক্ষুণ্ন করে এবং ব্যবসায়িক আস্থাকে ধ্বংস করে। ইসলামে সততাভিত্তিক ব্যবসার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাজারে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ভুয়া দর হাঁকা বা ক্রেতা সেজে প্রতিযোগিতা তৈরি করাকে ইসলামে ‘নাজশ’ বলা হয়। এ ধরনের কাজের মাধ্যমে প্রকৃত ক্রেতারা বিভ্রান্ত হন এবং বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটে।

হারাম ও অবৈধ পণ্যের ব্যবসাও ইসলামে নিষিদ্ধ। মাদকদ্রব্য, মূর্তি, শুকরের মাংস বা শরিয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ অন্য কোনো পণ্যের উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রয় বৈধ নয়।

এ ছাড়া অনিশ্চয়তাপূর্ণ লেনদেন বা ‘গারার’ভিত্তিক ব্যবসাও ইসলাম সমর্থন করে না। যে ব্যবসায় পণ্যের অস্তিত্ব, পরিমাণ বা সরবরাহ নিয়ে স্পষ্টতা থাকে না, সে ধরনের চুক্তি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কোনো ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর্যায়ে অন্য কেউ হস্তক্ষেপ করে সেই লেনদেন ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করাও ইসলামে নিষিদ্ধ। এ ধরনের আচরণ বাজারে বিরোধ ও অসুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে।

ইসলামি শিক্ষায় ব্যবসার মূল ভিত্তি হলো সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং পারস্পরিক সন্তুষ্টি। ব্যবসায়ী যদি প্রতারণা, সুদ, ভেজাল ও অসততা থেকে দূরে থেকে ব্যবসা পরিচালনা করেন, তাহলে তার উপার্জনে বরকত আসে এবং সমাজেও আস্থা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সৎ ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ীরা কিয়ামতের দিন নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের সঙ্গে অবস্থান করার মর্যাদা লাভ করবেন। তাই একজন মুসলমান ব্যবসায়ীর জন্য লাভের পাশাপাশি নৈতিকতা ও সততা রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

মোহাম্মদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে